সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২০, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages
Filter by Categories
24 hour essay writing service
Uncategorized
অপরাধ
অর্থনীতি
আদালত
আন্তর্জাতিক
আবহাওয়া
ইসলাম
কলাম
ক্যাম্পাস
ক্রিকেট
খেলাধুলা
চাকুরির খবর
ছবি
জাতীয়
জীবন ব্যবস্থা
তথ্যপ্রযুক্তি
ধর্ম
নির্বাচিত খবর
পরামর্শ
পুঁজিবাজার
প্রবাস
ফিচার
ফুটবল
ফেসবুক কর্নার
বিনোদন
বিবিধ
ভিডিও
ভোটের হাওয়া
মতামত
রাজধানী
রাজনীতি
রিপোর্টার পরিচিতি
শিক্ষা
শিরোনাম
শিল্প ও সাহিত্য
শীর্ষ খবর
সকল বিভাগ
সবখবর
সম্পাদকীয়
সর্বশেষ
সংস্কৃতি
সাক্ষাৎকার
সারাদেশ
সিটি কর্পোরেশন
স্বাস্থ্য কথা
শিরোনাম

ডিজাইনার জনির ফ্যাশন জার্নি

মোঃ খায়রুল হাসান পলাশ

ডিজাইনার জনির ফ্যাশন জার্নি

কথায় বলে খেতে হয় নিজের পছন্দে আর পোশাক পরতে হয় অন্যের পছন্দে। কিন্তু কী পরলে সবার কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠা যায় সেটা একমাত্র বলতে পারেন একজন যোগ্য ফ্যাশন ডিজাইনার। গত কয়েক বছর ধরে সফলতার সাথে সেই কাজটি করে চলেছেন নবীন প্রজন্মের বিখ্যাত ডিজাইনার জনি রেজওয়ান। লিখেছেন মো: খায়রুল হাসান পলাশ । ডিজাইনার জনি রেজওয়ানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা সবটাই খুলনাতে।

ছোটবেলা থেকেই জনি রেজওয়ান একজন ফ্যাশনেবল মানুষ । যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে তার খুবই ভালো লাগে। ছোট থেকেই ফ্যাশন সম্পর্কিত কাজ তাকে চুম্বকের মতো টানতো। বাঁসায় কোনো অনুষ্ঠান হলে জনি রেজওয়ানই সব থেকে ভালো ড্রেস-আপ করতেন। কীসের সাথে কী পরলে ভালো মানাবে সেটা জনি বেশ ভালোই জানতো। অথচ কারো পরামর্শ ছাড়াই নিজে থেকেই জনি এই কাজ করতেন। ধীরে ধীরে জনি আত্মীয় স্বজনের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন । সবাই কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে কী পরবে সেই পরামর্শ নিতে জনির কাছে ছুটে আসতো। ফ্যাশন সম্পর্কে জনির আগ্রহ দেখে তার মা ও বোনেরা তাকে উৎসাহিত করতে থাকে ।

তখন থেকেই জনি ঠিক করে বড় হয়ে ফ্যাশন ডিজাইনার হবেন । মানুষকে সুন্দর করার কারিগর হবেন, মানুষের মুখে হাসি ফোটাবেন। কিন্তু অশিক্ষিত ডিজাইনার হতে চান নি তাই ঠিক করেন রীতিমত লেখাপড়া করেই এই পেশায় আসবেন । তাই ঢাকায় চলে আসেন। কিন্তু কীভাবে শুরু করবেন বুঝতে পারছিলেন না । আসলে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি ও ফ্যাশন ইন্সটিটিউট সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তার চৌদ্দ পুরুষের কেউ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে না থাকায় তাকে পরামর্শ দেবার মতো কেউ ছিল না । ফলে শুরু হয় স্ট্রাগল । পথ খুঁজে না পেয়ে জনি বাধ্য হয়ে থিয়েটার জয়েন করেন। কারন অভিনয়টাও তার বেশ ভালো লাগতো। বেকার বসে থাকার থেকে অভিনয় শিখতে শুরু করেন।

কিন্তু নাটকের মঞ্চে তার মন পড়ে থাকতো ফ্যাশনের দিকে। ইতিমধ্যে খোঁজ খবর নিয়ে কয়েকটি ইন্সটিটিউটের নাম জানতে পারেন। ভালো একটি ইন্সটিটিউটে ভর্তিও হয়ে যান। বাংলাদেশের অধিকাংশ পরিবার চায় তাদের ছেলে বড় হয়ে হয় চাকরি করবে নয়তো বিজনেস । কিন্তু ফ্যাশন ডিজাইনারের মতো ফ্রিলান্স কাজ করুক এটা অধিকাংশ পরিবার চায় না । জনি জানান এক্ষেত্রে তিনি খুব লাকী । পরিবারের পুরুষ সদস্যরা তাকে উৎসাহিত না করলেও তার মা , বোন ও বড়মামি তাকে সব সময়ই অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, বিপদে আপদে পাশে থেকেছেন। বিশেষ করে মা। জনি জানান তার মা পাশে না থাকলে তার ডিজাইনার হওয়ার স্বপ্ন কবেই ভেঙে চুরমার হয়ে যেত। জনি বাংলাদেশের বেশ কিছু ব্র্যান্ডের জন্য ড্রেস ডিজাইন করেছেন। সাথে সিনেমা, সিরিয়ালের জন্যও ড্রেস ডিজাইন করেছেন জনি। মাহিয়া মাহি, পূর্নিমা, তানজিন তিশা, সজল ও আরও অনেক চলচ্চিত্র শিল্পী তার ডিজাইন করা ড্রেস পরেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন।

এছাড়া এস.এ টিভির মেগা সিরিয়াল ‘তুমি আছো তাই’ তে এক ডজনেরও বেশি নামকরা শিল্পীর জন্য ড্রেস ডিজাইন করেছেন তিনি । ‘মেরিলা প্রথম আলো’ পুরস্কার অনুষ্ঠানেও কাজ করেছেন। আর রাম্প শো তো আছেই । এছাড়া নিয়মিত এটিএন বাংলা চ্যানেলে ‘ট্রেন্ড’ নামের একটি ফ্যাশন শো করেছেন জনি। তিনি জানান এটিএন বাংলা চ্যানেলের প্রোডিউসার কুইন রহমান না থাকলে চ্যানেলে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করা তার পক্ষে সম্ভব হতো না । জনি বলেন ইন্ডাস্ট্রিতে ভালো ভাবে কাজ করতে হলে লোকে বলে গডফাদার দরকার, কিন্তু তার গডফাদার নয় গডমাদার আছে আর তিনি হলেন এই কুইন আপু। কুইন আপুর অবদান কোনোদিনি ভোলার নয় বলে জানিয়েছেন জনি। রেজওয়ান ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে নিজেকে অনেক উচ্চ পর্যায়ে দেখতে চান। তার লক্ষ্য একজন আন্তর্জাতিক মানের ডিজাইনার হয়ে বাংলাদেশের ফ্যাশনকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়া । সেই কাজে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছেন তিনি । ইতিমধ্যে ভারতের কলকাতাতেও তিনি সাফল্যের সাথে কাজ করছেন। দুই দেশের ফ্যাশনের মেলবন্ধন ঘটাতে তিনি বদ্ধ পরিকর। তাই বাংলাদেশে তৈরি মসলিন, জামদানি ও খাদি নিয়ে কলকাতায় কাজ করছেন অনেক দিন হলো। করোনা কালিন সময় ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি যথেষ্ট পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । ডিজাইনার, বড় বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও হোলসেলারদের ব্যবসার অন্যতম সময় হলো পহেলা বৈশাখ, ইদুল ফিতর, ইদুল আযহা এবং বিভিন্ন পূজা পার্বণ ।

কিন্তু এই লকডাউন ও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারনে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির অনেক ক্ষতি হয়েছে। জনি জানান যে শুধু ব্যবসায়ী ও ডিজাইনার নয় মডেল, মেকআপ আর্টিস্ট, কোরিওগ্রাফার, ফোটোগ্রাফার সকলেই আর্থিক ভাবে ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে তাই এদের কথা ভুললে চলবে না । করোনা পরবর্তী সময়ে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে হলে তার মতে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে । পারস্পরিক ঈর্ষা, হিংসা, বিদ্বেষ ভুলে সবাইকে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে, তবেই ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচানো সম্ভব । জনি আরও বলেন যে বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি অনেক সমৃদ্ধ তাই এই ইন্ডাস্ট্রির সাথে যারা যুক্ত যেমন ডিজাইনার, মডেল, কোরিওগ্রাফার, ফোটোগ্রাফার সবার উচিত সবার সাথে সবার একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি করা । একজনের প্রতি আরেক জনের সম্মান বোধ থাকাটা খুব জরুরী বলে তিনি মনে করেন । তার মতে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে, তাহলেই ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি বাঁচতে পারবে এবং বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ফ্যাশনকে তুলে ধরা যাবে।

শেয়ার করুন...

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

%d bloggers like this: