শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:০৪ অপরাহ্ন

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages
Filter by Categories
24 hour essay writing service
Uncategorized
অপরাধ
অর্থনীতি
আদালত
আন্তর্জাতিক
আবহাওয়া
ইসলাম
কলাম
ক্যাম্পাস
ক্রিকেট
খেলাধুলা
চাকুরির খবর
ছবি
জাতীয়
জীবন ব্যবস্থা
তথ্যপ্রযুক্তি
ধর্ম
নির্বাচিত খবর
পরামর্শ
পুঁজিবাজার
প্রবাস
ফিচার
ফুটবল
ফেসবুক কর্নার
বিনোদন
বিবিধ
ভিডিও
ভোটের হাওয়া
মতামত
রাজধানী
রাজনীতি
রিপোর্টার পরিচিতি
শিক্ষা
শিরোনাম
শিল্প ও সাহিত্য
শীর্ষ খবর
সকল বিভাগ
সবখবর
সম্পাদকীয়
সর্বশেষ
সংস্কৃতি
সাক্ষাৎকার
সারাদেশ
সিটি কর্পোরেশন
স্বাস্থ্য কথা
শিরোনাম

“সুস্থ থাকুক আমাদের  হৃদপিণ্ড” 

ডাঃ ফারহানা মোবিন

“সুস্থ থাকুক আমাদের  হৃদপিণ্ড” 
ডাঃ ফারহানা মোবিন, বারডেম হসপিটাল   
****************************
বর্তমানে করোনা ভাইরাসের জন্য সারা পৃথিবীর মানুষ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।
দুঃখ, কষ্ট, দুশ্চিন্তা আমাদের হৃদপিনডো ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তাই সুস্থ থাকতে হৃদপিনডো ও মন ভালো রাখতে হবে।
হৃদপিণ্ড আমাদের দেহের ভীষণ জরুরী একটি অংগ। আমাদের সারা শরীরে রক্ত সরবরাহ করে হৃদপিণ্ড।
আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি তখনও কাজ করতে থাকে। এক সেকেন্ড এর জন্য তার কাজ বন্ধ হয় না।
মায়ের পেটে থাকাকালীন সময় থেকেই আমাদের হৃদপিণ্ড তৈরী হওয়া শুরু হয়।
বাম পাশের বগলের গোড়া থেকে তিন বা চার ইঞ্চি দূরে আমাদের হৃদপিণ্ড এর অবস্থান।
হৃদপিণ্ডের কাজ অনেকটা পানির পাম্প এর মতো।
পানির পাম্প  বিশাল একটা দালান এর নীচে থেকে সবচেয়ে উপরের অংশে  পানি সরবরাহ করে ।
আমাদের দেহে হৃদপিণ্ড  নামের জরুরী অংগ টি ঠিক সেই কাজটিই করে । পায়ের আঙ্গুল থেকে মাথা পর্যন্ত রক্ত পৌঁছে দেয় ।
পানির পাইপ লাইনে পানির ময়লা জমলে , পানি সঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না । ঠিক তেমনি আমাদের শরীরের শিরা উপশিরা তে ময়লা জমলে , রক্ত সঠিকভাবে চলতে পারে না ।
রক্তের ময়লা বলতে রক্তের মধ্যে জমে যাওয়া চর্বি কে বোঝায়।
 রক্ত নালী তে জমে থাকা চর্বি বা fat তৈরী হয় দেহের তুলনায় অধিক পরিমাণে চর্বি জাতীয় খাবার , মাদক দ্রব্য , ধূমপান থেকে ।
বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে , হৃদপিণ্ডর  উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরী হয় ।
তখন হৃদপিনডো সারা দেহে সঠিকভাবে রক্ত সরবরাহ করতে পারে না ।
পরিণামে তৈরী হয় হৃদপিনডের  এর নানাবিধ অসুখ । যা কখনোই কাম্য নয় ।
 হৃদপিনডের অসুখের জন্য দায়ী বিষয় গুলো হলো :
****************************
১) অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অক্লান্ত পরিশ্রম ,
২) ভয়ানক  দুশ্চিন্তা, হতাশা।
৩) বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন বেশী ,
৪) দীর্ঘ বছর সঠিকভাবে ঘুমের অভাব ,
৫) কোন ওষুধের দীর্ঘ বছরের পারশোপ্রতিক্রিয়া।
৬) অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ ,
৭) কিডনীর জটিল অসুখ
৮) মাদক দ্রব্য সেবন ও অতিরিক্ত ধূমপান।
  সিগারেট এর নিকোটিন
 রক্তনালীর সংকোচন করে। ফলে হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ কমে যায়।
৯) পারিবারিক ইতিহাস অর্থাৎ রক্তের আত্মীয় স্বজনদের হৃদরোগ থাকলে, আপনার হৃদরোগ হতে পারে।
 যদি আপনি সঠিকভাবে নিজের যত্ন না নেন।
১০) কোন জটিল রোগের জন্যও হৃদপিণ্ডের অসুখ হতে পারে।
১১) হৃদপিণ্ডের অপারেশন বা কোন অসুখের পরে চিকিৎসক এর পরামর্শ মেনে না চলা।
হৃদপিণ্ড ভালো রাখার জন্য আমাদের করণীয় :
****************************
১) বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ।
২) অতিরিক্ত মিষ্টি ও চর্বি জাতীয় খাবার , মাদক দ্রব্য , ধূমপান পরিহার করতে হবে ।
৩)  ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে
 হবে ।
৪) জীবন মানেই একটার পর একটা যুদ্ধ । মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত নিজেকে খুশী রাখা উচিত ।
৫) ধর্মের কাজ , মেডিটেশন মানসিক প্রশান্তি দেয় ।
হৃদপিনডো ভালো রাখার জন্য মানসিক প্রশান্তি ভীষণ জরুরী ।
৬) পারিবারিক ইতিহাসে কারো হৃদপিনডের অসুখ থাকলে , আগে থেকেই সচেতন হোন ।
৭) হার্ট  এর অসুখ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন । নিয়মিত চেক আপ করানো  ভীষণ জরুরী ।
৮) প্রতি বছর পুরো দেহের চেকআপ করান । আমাদের দেহ বিশাল এক কারখানা । একটা মেশিন দূর্বল হলে,
আশেপাশের মেশিনে  জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে । তাই  সময় থাকতে সচেতন হোন ।
৯) অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার খাবেন । নিয়মিত দুই লিটার পানি ভীষণ জরুরী ।
যারা রোযা রাখবেন তারা এফতারে অতিরিক্ত তেল , মশলা , চর্বি জাতীয় খাবার বাদ দিবেন।
১০) সুযোগ হলেই হাটবেন।
 করোনা ভাইরাসের জন্য লকডাউনে থেকে ঘরের কাজ গুলো নিয়মিত করার চেষ্টা করবেন ( ঘর পরিষ্কার করা , কাপড় ধোয়া …………) ।
এতে ঘামের মাধ্যমে শরীরের বাড়তি calorie গুলো
ঝরে যায় । যা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় ।
১১) সঠিক সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন ।
১২) সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা হার্ট এর জন্য ভালো । তবে হৃদরোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবন যাপন করবেন ।
১৩) হতাশা দূর করতে নিজেকে সৃষ্টিশীলতা ও মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত রাখবেন । ভালো কাজ আমাদের কে দেয় আত্মতৃপ্তি । মন ভালো থাকলে , হার্ট  ভালো থাকবে ।
হার্ট  ভীষণ জরুরী অংগ।  আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি , তখনও আমাদের হৃদস্পন্দন ( heart beat ) সচল থাকে । Heart beat থেমে গেলে , আমাদের জীবন টাও থেমে যাবে ।
আমার সবার উচিত হার্ট  ভালো রাখার উপায় গুলো মেনে চলা এবং অন্যদের সচেতন করা ।
শেয়ার করুন...

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

%d bloggers like this: