সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages
Filter by Categories
24 hour essay writing service
Uncategorized
অর্থনীতি
আদালত
আন্তর্জাতিক
আবহাওয়া
ইসলাম
কলাম
ক্যাম্পাস
ক্রিকেট
খেলাধুলা
চাকুরির খবর
ছবি
জাতীয়
জীবন ব্যবস্থা
তথ্যপ্রযুক্তি
ধর্ম
নির্বাচিত খবর
পরামর্শ
পুঁজিবাজার
প্রবাস
ফিচার
ফুটবল
ফেসবুক কর্নার
বিনোদন
বিবিধ
ভিডিও
ভোটের হাওয়া
মতামত
রাজধানী
রাজনীতি
রিপোর্টার পরিচিতি
শিক্ষা
শিরোনাম
শিল্প ও সাহিত্য
শীর্ষ খবর
সকল বিভাগ
সবখবর
সম্পাদকীয়
সর্বশেষ
সংস্কৃতি
সাক্ষাৎকার
সারাদেশ
সিটি কর্পোরেশন
স্বাস্থ্য কথা
শিরোনাম

মানবজীবনে ধৈর্য

মুহাম্মদ তাইয়্যেব হোসাইন

মানবজীবনে ধৈর্য
প্রিন্ট করুন
ধৈর্য মানবজীবনের একটি মহৎ গুণ। যার অর্থ সহিষ্ণুতা, দৃঢ়তা, বিরত রাখা ইত্যাদি। এটি মানবজীবনের সফলতার চাবিকাঠি। ধৈর্যের অনুশীলন ছাড়া ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত জীবনে সাফল্য অর্জন করা যায় না। ধৈর্যধারণ করা খুব কঠিন কাজ, তথাপি সমাজের মানুষের কল্যাণের জন্যে তা করা অপরিহার্য। সমাজ জীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা ও কল্যাণময় জীবন যাপনের জন্যে ধৈর্যের গুরুত্ব অপরিসীম। জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি মানবজীবনে বিপদ-আপদ কম-বেশি এসেই থাকে। আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করেন এর মাধ্যমে মু’মিন বান্দাদের গুনাহ মাফ করেন, মর্যাদাও বৃদ্ধি করেন। তাই প্রত্যেক মু’মিনের কর্তব্য হলো বিপদ-আপদে হতাশ না হওয়া।পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ধৈর্যশীলদেরকে অফুরন্ত প্রতিদান দেয়ার ওয়াদা করেছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অবশ্যই ধৈর্যশীলগণকে তাদের প্রতিদান অগণিতভাবে দেয়া হবে।’ (সূরা আয্-যুমার, আয়াত-১০)। অন্য আয়াতে আছে, ‘হে ঈমানদারগণ ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য গ্রহণ করো, আল্লাহ ধৈর্য ধারণকারীদের সঙ্গে আছেন। (সূরা বাকারা-১৫৩)।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ধৈর্য বা সবরকে এমন এক যন্ত্র বানিয়েছেন, যা কখনো পথভ্রষ্ট হয় না। এমনকি এমন বিজয়ী সৈনিক বানিয়েছেন, যে কখনো পরাজিত হয় না। ধৈর্য এমন সুরক্ষিত দূর্গ, যা কখনো ধ্বংস হয় না। যারা জীবনে বড় হয়েছেন তাঁরা সবাই ছিলেন ধৈর্যশীল।দুনিয়াতে যতো নবী এসেছেন তাঁরা সবাই ছিলেন ধৈর্যশীল। হযরত ইবরাহিম (আঃ) ছিলেন ধৈর্যের মূর্ত প্রতীক। জালিম শাসক নমরুদের মূর্তিপূজার বিরোধিতা করায় তিনি অগি্নকূণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। তিনি আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে সাহায্য চাননি।এমনিভাবে হযরত আইয়ুব (আঃ) কঠিন দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর দেহে পচন ধরেছিলো, শরীর থেকে গোস্ত খসে পড়েছিলো। আত্মীয়-স্বজন তাঁকে ত্যাগ করেছিলো। তার সন্তানাদি মারা গিয়েছিলো। তার ঘর বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়।

এমন কঠিন মুহূর্তেও তিনি ধৈর্যহারা হননি। আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও ধৈর্যের চরম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তাঁর ধৈর্য ছিলো অতুলনীয়। তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিলো তবুও ধৈর্য হারাননি। সকল বিপদেই তিনি ছিলেন অটল ও অবিচল।রাসূল (সাঃ) বলেন, ‘কোনো বান্দাকে ধৈর্যের মতো উত্তম সম্পদ অন্য কিছুই দেয়া হয়নি। সুতরাং মুমিনের পথচলা কখনো ফুলের গালিচার মতো মসৃণ হবে না_এটাই স্বাভাবিক। কেননা রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ‘দুনিয়া হলো মু’মিনদের জন্যে কয়েদখানা। এজন্যে দুনিয়ায় মু’মিনদের ওপর চারপাশ থেকে বিপদ-আপদ যে কোনো মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে পড়তে থাকবে।মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্যধারণ করো এবং পরস্পর ধৈর্যধারণের প্রতিযোগিতা করো এবং ধৈর্য সহকারে পস্পরকে শক্তিশালী করো। আর আল্লাহকে ভয় করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। (সূরা আল-ইমরান, আয়াত-২০০)।

অন্য আয়াতে বলেন, অবশ্যই মানুষ রয়েছে নিণ্ডিত ক্ষতির মধ্যে। তবে তারা নয়, যারা ঈমান আনে, আমলে সালেহ করে, একে অপরকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং ধৈর্যের সাথে অটল থাকার অসিয়ত করে। (সূরা আল-আসর, আয়াত : ২-৩) আর এই কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে সার্বক্ষণিক পথ চলতে হবে।

আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যের অনেক গুণ বর্ণনা করেছেন। ধৈর্য হলো মু’মিনের একটি বৈশিষ্ট্য, যা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এ গুণটির উপস্থিতি অপরিহার্য। সুতরাং মানুষের উন্নতি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের অনেক বড় একটি মাধ্যম ধৈর্য।

এজন্যে যতো বেশি ধৈর্য অবলম্বন করা যায় ততো বেশি গুনাহ মাফ হয় এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। সর্বোপরি দুনিয়ায় নবীরা হলেন সবচেয়ে ওপরের স্তরের তাদের উপর সবচেয়ে বেশি পরীক্ষা এসেছিলো।

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) জীবনে অনেক কঠিন পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরিস্থিতির সম্মুখিন হয়েও ঈমানের পরীক্ষা দিয়েছিলেন এবং দ্বীনের পথে অটল ছিলেন। তেমনি দুনিয়ায় যারা আল্লাহ তায়ালার প্রিয় বান্দা হয়েছেন তারা ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

এজন্যে প্রত্যেক মুমিনের উচিত বিপদে ভেঙ্গে না পড়ে ধৈর্যের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রত্যাশী হওয়া।

আল্লাহ আমাদের বিপদ-আপদে ধৈর্য অবলম্বনের মাধ্যমে দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন

“রব্বানা আফরিগ আলাইনা সবরাও ওয়া তাওয়াফ্ফানা মুসলিমিন”।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সংশ্লিষ্ট সংবাদ