সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ১২:০৯ অপরাহ্ন

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages
Filter by Categories
24 hour essay writing service
Uncategorized
অপরাধ
অর্থনীতি
আদালত
আন্তর্জাতিক
আবহাওয়া
ইসলাম
কলাম
ক্যাম্পাস
ক্রিকেট
খেলাধুলা
চাকুরির খবর
ছবি
জাতীয়
জীবন ব্যবস্থা
তথ্যপ্রযুক্তি
ধর্ম
নির্বাচিত খবর
পরামর্শ
পুঁজিবাজার
প্রবাস
ফিচার
ফুটবল
ফেসবুক কর্নার
বিনোদন
বিবিধ
ভিডিও
ভোটের হাওয়া
মতামত
রাজধানী
রাজনীতি
রিপোর্টার পরিচিতি
শিক্ষা
শিরোনাম
শিল্প ও সাহিত্য
শীর্ষ খবর
সকল বিভাগ
সবখবর
সম্পাদকীয়
সর্বশেষ
সংস্কৃতি
সাক্ষাৎকার
সারাদেশ
সিটি কর্পোরেশন
স্বাস্থ্য কথা
শিরোনাম

আন্দোলনের শাস্তি ঢালাও ছাঁটাই!

৩১ জানুয়ারি ২০১৯

আন্দোলনের শাস্তি ঢালাও ছাঁটাই!
প্রিন্ট করুন
সাভারের নিট এশিয়া কারখানার এক শ্রমিক কালের কণ্ঠকে যখন চাকরি হারানোর কথা বলছিলেন, তাঁকে দেখাচ্ছিল একই সঙ্গে হতাশ ও আতঙ্কিত। নিজের নাম প্রকাশ করতেও রাজি হননি সদ্য সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এই শ্রমিক। চাকরি খোয়ানোর সকালটির স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, “অফিসে গেলে আমাকে অফিসের গেটে আটকে দেওয়া হয় এবং দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়। তখন আমার সাথে আরো কয়েকজন ছিল। পরে আমাকে কিছু টাকা দিয়ে কার্ডটি রেখে দিয়ে বলে, ‘চলে যাও। আর কখনো কারখানায় আসবা না।’” একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান সাভারের আরেক কারখানা এআর জিন্সের অন্য এক শ্রমিক। তিনি বলেন, ‘শুধু ছাঁটাই নয়, আমাদের নামে মামলাও করেছে কারখানার মালিক। পুলিশ বাড়িতে গিয়ে গিয়ে খুঁজছে।’

চলতি মাসের শুরুতে ত্রুটিমুক্ত নতুন মজুরি ঘোষণার দাবিতে আন্দোলনকারী হাজারো শ্রমিক এভাবেই চাকরি থেকে বরখাস্ত কিংবা হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে তথ্য মিলছে। তৈরি পোশাক শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে ফিরলেও বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের নোটিশ ঝুলছে বলে দাবি শ্রমিক নেতাদের। একজন নেতা দাবি করেন, এই পর্যন্ত সাভার-আশুলিয়ার ১২ থেকে ১৫টি তৈরি পোশাক কারখানায় প্রায় দেড় হাজার শ্রমিককে এই ছাঁটাইপ্রক্রিয়ায় কাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। অনেক কারখানার গেটে ঝুলছে ছাঁটাইয়ের নোটিশ। কোনো কোনো সূত্র মতে, ছাঁটাই বা মামলার শিকার শ্রমিকের সংখ্যা সাত হাজারেরও বেশি। শিল্প পুলিশ ও শ্রমিক সংগঠন এবং পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রও এমন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করছে। এমনকি আরো ছাঁটাই এবং কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছে খাতসংশ্লিষ্টরা। গত মঙ্গলবার ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনেও বলা হয়, মজুরি নিয়ে আন্দোলনের পর বাংলাদেশের পোশাক খাতের পাঁচ হাজারের বেশি শ্রমিক তাদের কর্মস্থল থেকে বহিষ্কার হয়েছে। দেশের শ্রমিক নেতাদের দাবি এই সংখ্যা সাত হাজারেরও বেশি। তাঁরা বলছেন, মালিকরা শ্রমিকদের ঠকাতে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করতেই দমন-পীড়ন-নির্যাতন ও ছাঁটাই করছেন। মালিকরাও অস্বীকার করছেন না ঘটনা, তবে তাঁরা বলছেন, ছাঁটাই নয়, সাময়িক বরখাস্ত করা হচ্ছে।

আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার এআর জিন্স প্রডিউসারের জেনারেল ম্যানেজার র‌্যাক লিটন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের ছাঁটাই করিনি। আমরা তাদের সাময়িক বরখাস্ত করেছি। এখন পর্যন্ত আমাদের প্রতিষ্ঠানে মোট ১৪৫ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সেই সাথে শ্রমিকদের কাছে ডাকযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশও পাঠানো হয়েছে। এই নোটিশের উত্তর পাওয়ার পর কোন শ্রমিক কাজ করতে পারবে তা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং আইনিভাবে যে সিদ্ধান্ত হবে আমরা সে সিদ্ধান্তই গ্রহণ করব।’

সাভার ও আশুলিয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, এখন পযন্ত ১১টি পোশাক করাখানা শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা করেছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ৪০ জনের মতো আটক রয়েছে।

সাভার মডেল থানার ওসি আব্দুল আউয়াল বলেন, কোনো নিরপরাধ শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়নি, হবেও না। কারখানা ভাঙচুর বা অন্য কোনো গুরুতর অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

গামেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, মালিকরা জুজুর ভয় দেখাচ্ছেন। মজুরি না বাড়াতে এই দমন-পীড়ন, ছাঁটাই ও নির্যাতন করছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি শ্রমিককে ছাঁটাই করেছেন মালিকরা। রাজধানীর লোমান ফ্যাশন ও লোপা গার্মেন্ট বন্ধ করে দেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। অথচ অন্যদিকে মালিকদের রপ্তানি আয় বাড়ছে, বড় বড় কারখানার সংখ্যাও বাড়ছে। সিএম (কাটিং ও মেকিং) কমাতে না পারলেও শ্রমিকদের মজুরি কম দিতে নির্যাতন ও হয়রানি করা হচ্ছে।

এদিকে রাজধানীর কাকরাইলের ইয়লক গার্মেন্টের অপারেটর রিনা আকতার কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি কাঠামো অনুসারে একজন হেলপারের বেতন আট হাজার টাকা হলেও তিনি গত ডিসেম্বর মাসে অতিরিক্ত কাজের মজুরিসহ মোট বেতন পেয়েছেন মাত্র সাত হাজার টাকা। সরকারের ঘোষিত মজুরি দেওয়ার দাবি জানালে মালিক তাঁকে চাকরি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।

রামপুরার লোমান ফ্যাশনে কাজ করেন চায়না আকতার। তিনি জানান, সরকার ঘোষিত নতুন মজুরি কাঠামো অনুসারে বেতন দেন না কারখানার মালিক। নতুন কাঠামোতে মজুরি দাবি করলে মালিক কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন নিয়মিত।

শ্রমিক অধিকার নিয়ে সক্রিয় সংগঠন ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশের (আইবিসি) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন কালের কণ্ঠকে বলেন, ন্যূনতম মজুরি কাঠামো নিয়ে আন্দোলনের পর শ্রমিকরা কারখানায় ফিরে যেতে চাইলেও তা পারছে না। অনেক কারখানার ফটকে গিয়ে দেখে, তাদের ছবিসহ চাকরিচ্যুত কর্মীদের তালিকা টাঙিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আন্দোলনের সময় ক্ষতিসাধনের অভিযোগে সাভার ও আশুলিয়া থানায় বিভিন্ন কারখানার পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলোয় আসামি করা হয়েছে হাজার হাজার শ্রমিককে।

নতুন মজুরি পোশাকশিল্প খাতে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে মত দিয়ে তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, সংশোধিত নতুন মজুরি কাঠামো অনুসারে মজুরি দেওয়ার সক্ষমতা নেই অনেক পোশাক কারখানার মালিকদের। ফলে মালিকরা বিভিন্ন আগাম সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছেন, মজুরি নিয়ে যেন সামনে শ্রম অসন্তোষ তৈরি না হয়। এর ফলে কারখানা থেকে অতিরিক্ত শ্রমিক কমিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেওয়াসহ শ্রমিক ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে সবাইকে শ্রম আইন মেনেই তা করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

মামলার তথ্য দিয়ে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাভার-আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু (কে এম মিন্টু) কালের কণ্ঠকে বলেছেন, কারখানায় ভাঙচুরসহ মারপিট করে ক্ষতিসাধন, চুরি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে বেশ কিছু কারখানা মালিক শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের দেওয়া তথ্য মতে, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ও উত্তরা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি শ্রমিক নেতা জয়নাল আবেদীন, উত্তরা আঞ্চলিক নেতা মাসুদ, সাজুসহ ৪০-৫০ জন শ্রমিক গ্রেপ্তার হয়েছে। এর মধ্যে সাভার-আশুলিয়ায় গ্রেপ্তার হয়েছে ২০-২৫ জন। হাজার হাজার শ্রমিক গ্রেপ্তার অতঙ্কে আছে। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের অনেক নেতা পুলিশের নজরদারিতে আছেন বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সংশ্লিষ্ট সংবাদ