রবিবার, ২০ জানুয়ারী ২০১৯, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages
Filter by Categories
24 hour essay writing service
Uncategorized
অর্থনীতি
আদালত
আন্তর্জাতিক
আবহাওয়া
ইসলাম
কলাম
ক্যাম্পাস
ক্রিকেট
খেলাধুলা
চাকুরির খবর
ছবি
জাতীয়
জীবন ব্যবস্থা
তথ্যপ্রযুক্তি
ধর্ম
নির্বাচিত খবর
পরামর্শ
পুঁজিবাজার
প্রবাস
ফিচার
ফুটবল
ফেসবুক কর্নার
বিনোদন
বিবিধ
ভিডিও
ভোটের হাওয়া
মতামত
রাজধানী
রাজনীতি
রিপোর্টার পরিচিতি
শিক্ষা
শিরোনাম
শিল্প ও সাহিত্য
শীর্ষ খবর
সকল বিভাগ
সবখবর
সম্পাদকীয়
সর্বশেষ
সংস্কৃতি
সাক্ষাৎকার
সারাদেশ
সিটি কর্পোরেশন
স্বাস্থ্য কথা
শিরোনাম

রাজনীতির রেকর্ডের বরপুত্র শেখ হাসিনা

রাজনীতির রেকর্ডের বরপুত্র শেখ হাসিনা
প্রিন্ট করুন
বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সোমবার বিকেলে যখন শপথ নিচ্ছিলেন, জাতীয়-আন্তর্জাতিক রেকর্ড বইয়ের নতুন পাতা তার জন্য উন্মুক্ত হচ্ছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে টানা তৃতীয়বার এবং সবচেয়ে বেশি সময় চারবারের মতো প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদ নেতার একমাত্র রেকর্ড প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আর দেশের বাইরের রেকর্ডেও জায়গা আছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর। বিশ্বের নারী নেত্রীদের মধ্যে যারা সবচেয়ে বেশি দিন সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের কাতারে শেখ হাসিনার অবস্থান মেয়াদের দিক দিয়ে তৃতীয়। চলমান নতুন মেয়াদ পূরণ করলে, ভারতের প্রথম ও একমাত্র প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং আধুনিক বিশ্বের প্রথম নারী রাষ্ট্রপ্রধান শ্রীলঙ্কান লৌহমানবী শ্রীমাভো বন্দরনায়েকেকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই হবেন বিশ্বের নারী নেত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারপ্রধান।
টানা প্রায় ৩৮ বছর ধরে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা। চারবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার এমন দৃষ্টান্ত যেমন বাংলাদেশে আর নেই; তেমনি কোনো দলের প্রধান হিসেবে এত দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের দৃষ্টান্তও দ্বিতীয় কারো নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে জনসমর্থন নিয়ে চতুর্থ বারের মত ক্ষমতায় এসেছেন তা সত্যিই প্রশংশনীয়। বাংলাদেশের মানুষের যে ভালোবাসা তাঁর প্রতি সেটা আমরা দেখেছি এবারের নির্বাচনেও। ব্যপক জনপ্রিয়তা নিয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে চতুর্থ বারের মত সরকার নির্বাচিত হওয়ায় দেশে তো বটেই গোটা পৃথিবীতেই নারী নেতৃত্বের রোল মডেল হিসেবে হিসেবে জায়গা করলেন শেখ হাসিনা। আমার মনে হয়, এই পাঁচ বছর তাঁর নেতৃত্বে দেশ আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক এত সব রেকর্ড আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সম্পত্তি হয়ে থাকবে বলে মনে করেন মানবীয় যোগাযোগ বিদ্যার প্রথিতযশা এ অধ্যাপক। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের পরের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে অনন্তকালের জন্য বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে জায়গা করে দিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার বলেন, যেকোন বিচারে অথবা যে লেন্স দিয়েই দেখিনা কেন- নিঃসন্দেহে এটা একটা বড় অর্জন। এবং এটার একটা সিম্বোলিক ভ্যালু আছে। সিম্বোলিক ভ্যালু হলো যে একজন নারী প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে, বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে একটা বড় স্থান পেয়েছেন। দেখা যাচ্ছে যত দিন যাচ্ছে শেখ হসিনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে পরিণত হচ্ছেন। এটা ওনার সুনাম এবং সমালোচনা দু’টোসহ। এবং আমার কাছে দু’টোই গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৯৬ সালের ২৩ জুন প্রথম বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ৫ বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর ২০০৮ থেকে ২০১৪, ২০১৪ থেকে ২০১৯ মেয়াদে দুই বারে ১০ বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আর গতকাল ৭ জানুয়ারি চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন।
বাংলাদেশের তিনটি জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন শেখ হাসিনা। ১৯৮৬ সালে তৃতীয় সংসদে, ১৯৯১ সালে পঞ্চম এবং ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা। পাঁচ বছরের মাথায় সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের সময়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বসেন বিরোধী দলীয় নেতার আসনে। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৯৯০ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে মিলে একনায়ক এরশাদ সরকারের পতন ঘটায়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে হেরে গিয়ে আবার বিরোধী দল হয়।
১৯৯৬ সালের ১২ই জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। তার সেই সরকারের অন্যতম সাফল্য হিসেবে পার্বত্য শান্তি চুক্তি ও প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির কথা বলা হয়।
২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে হারিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করলে তৃতীয়বারের মতো বিরোধী দলীয় নেত্রী হন শেখ হাসিনা। ওই সরকারের সময় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। প্রাণে বেঁচে গেলেও তার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২০০৭ সালের জানুয়ারিতে সেনাসমর্থিত তত্ত¡াবধায়ক সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর আরও অনেক রাজনীতিবিদের মত শেখ হাসিনাও গ্রেফতার হন। দুই বছরের মাথায় ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নবম সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। দ্বিতীয়বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা।
বিএনপি ও তাদের শরিকদের বর্জনের মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের ভোট হয়, তাতে ২৩১টি আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় আওয়ামী লীগ। সেই সরকারের মেয়াদ শেষে গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলই অংশ নেয়। ভোটের ফলাফলে ২৯৮ আসনের মধ্যে ২৫৭টিতে জয় পায় আওয়ামী লীগ। জোটগতভাবে তারা পায় ২৮৮ আসন।
গত ৩ জানুয়ারি সকালে জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের পর আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে শেখ হাসিনাকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিন বিকালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে টানা তৃতীয় মেয়াদে তাকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রপতি। গতকাল সোমবার শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চতুর্থ মেয়াদ শুরু করলেন শেখ হাসিনা।
বৈশ্বিক নেতৃত্বের আলোচনায়, বিশ্বের নারী নেত্রীদের মধ্যে যারা সবচেয়ে বেশি দিন সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের কাতারে শেখ হাসিনার অবস্থান মেয়াদের দিক দিয়ে তৃতীয়।
শ্রীলঙ্কার প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে আধুনিক বিশ্বের প্রথম নারী সরকারপ্রধান ছিলেন। ১৯১৬ সালের ১৭ এপ্রিল জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিক ১৯৬০-৬৫, ১৯৭০-৭৭ এবং ১৯৯৪-২০০০ তিন মেয়াদে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিন দফায় মোট ১৭ বছর ২০৮ দিন দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইন্দিরা গান্ধী ভারতের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী। ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত এবং এরপর ১৯৮০ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত মোট ১৬ বছর ১৫ দিন তিনি ভারত সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা এ পর্যন্ত দুই দফায় মোট ১৫ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। গতকাল সোমবারই তিনি শপথ নিয়েছেন আরও পাঁচ বছরের জন্য। এই মেয়াদ পুরো হলে সবাইকে ছাড়িয়ে যাবেন তিনি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় মেয়ে শেখ হাসিনা। তাঁর জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হন। সে সময় শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন বিদেশে থাকায় বেঁচে যান। এরপর ৬ বছর নির্বাসিত জীবন শেষে ১৯৮১ সালে ১৭ মে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেই দেশে ফেরেন।
গতকাল সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছ থেকে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন ও গোপনীয়তার শপথ নেন।
প্রধানমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি তাকে অভিনন্দন জানান। এরপর নতুন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে শপথ নেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিকালে বঙ্গভবনে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি তাকে স্বাগত জানান। পরে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান কিছুক্ষণ একান্তে আলাপ করেন বলে বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তা জানান।
সাড়ে ৩টা দরবার হলে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। শপথ অনুষ্ঠান শেষে বঙ্গভবনের মাঠে চা চক্রে যোগ দেন সবাই। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে ঘুরে ঘুরে সবার সঙ্গে কথা বলেন।
রাষ্ট্র পরিচালনায় এবার শেখ হাসিনার সঙ্গী হচ্ছেন ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন উপমন্ত্রী। একাদশ সংসদ নির্বাচনে অভাবনীয় জয়ের পর শেখ হাসিনা তার নতুন সরকার সাজিয়েছেন মূলত নতুনদের নিয়ে। নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ায় ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি গঠিত পুরনো সরকারের দায়িত্ব শেষ হল।
গতকাল চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বিভিন্ন শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশগুলো তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। শপথ গ্রহণ শেষে শেখ হাসিনা স্টেজ থেকে নেমে এলে বঙ্গবন্ধুর অপর কন্যা শেখ রেহানা তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ছোট বোন শেখ রেহানাকে আলিঙ্গন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাজেদা চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

হাবীব রহমান

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সংশ্লিষ্ট সংবাদ