সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages
Filter by Categories
24 hour essay writing service
Uncategorized
অপরাধ
অর্থনীতি
আদালত
আন্তর্জাতিক
আবহাওয়া
ইসলাম
কলাম
ক্যাম্পাস
ক্রিকেট
খেলাধুলা
চাকুরির খবর
ছবি
জাতীয়
জীবন ব্যবস্থা
তথ্যপ্রযুক্তি
ধর্ম
নির্বাচিত খবর
পরামর্শ
পুঁজিবাজার
প্রবাস
ফিচার
ফুটবল
ফেসবুক কর্নার
বিনোদন
বিবিধ
ভিডিও
ভোটের হাওয়া
মতামত
রাজধানী
রাজনীতি
রিপোর্টার পরিচিতি
শিক্ষা
শিরোনাম
শিল্প ও সাহিত্য
শীর্ষ খবর
সকল বিভাগ
সবখবর
সম্পাদকীয়
সর্বশেষ
সংস্কৃতি
সাক্ষাৎকার
সারাদেশ
সিটি কর্পোরেশন
স্বাস্থ্য কথা
শিরোনাম

বিশ্বের সেরা শিক্ষকের গল্প

বিশ্বের সেরা শিক্ষকের গল্প
প্রিন্ট করুন
প্রত্যন্ত স্কুলটিতে মাত্র একটি কম্পিউটার৷ তাতে কোনো ইন্টারনেট সংযোগ নেই বললেই চলে৷ ল্যাবরেটরি বলেও তেমন কিছু নেই৷ কিন্তু তাতেও শিক্ষার্থীরা দমে যায়নি৷ গত বছর দেশটির বিজ্ঞান ও প্রকৌশল মেলায় শহরাঞ্চলের বাঘা বাঘা একাডেমিকে পেছনে ফেলে গণিত বিভাগের সেরা পুরস্কার তারা ছিনিয়ে নিয়েছে৷ এমন একটি যন্ত্র তারা উদ্ভাবন করেছে, যা শুধু বৃত্তের পরিমাপ সহজে বের করতেই সক্ষম নয়, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আর বধিররাও সেটি ব্যবহার করতে পারে৷ মাত্র ছয় বছর আগে যাত্রা করা স্কুলটি কেনিয়ার ৫৬ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রকৌশল মেলায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে৷ শিক্ষার্থীদের গণিত দলটি এবার ইন্টেল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও প্রকৌশল মেলার জন্যেও উত্তীর্ণ হয়েছে৷ আগামী মে মাসে তাদের দুজন প্রতিনিধি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার সেই আয়োজনে অংশ নেবে৷ এই স্কুলটি যুক্তরাজ্যের রয়্যাল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রিরও অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে৷

গল্পটি কেরিকো মিক্সড ডে সেকেন্ডারি স্কুলের৷ কেনিয়ার নাকুরু কাউন্টির পোয়ানি নামের প্রত্যন্ত এক গ্রামে তার অবস্থান৷ যার নাম এখন শুধু আফ্রিকার দেশটিতেই নয়, ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে৷ আর এই পরিচিতি এনে দিয়েছেন স্কুলটির গণিত ও পদার্থবিদ্যার শিক্ষক পিটার তাবিচি, যিনি দারিদ্র্য, ক্ষুধা আর সহিংসতা জয় করে শিক্ষার্থীদের উজ্জল ভবিষ্যতের জন্য লড়াইয়ের পথ দেখাচ্ছেন৷ তৈরি করে দিচ্ছেন সাফল্যের সুযোগ৷

শিক্ষার্থীদের জীবন বদলের গল্প

পিটার তাবিচির এক তৃতীয়াংশ ছাত্রই এতিম কিংবা একক অভিভাবকের পরিবার থেকে আসা৷ তাদের ৯৫ ভাগই দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন যাপন করে৷ অনেককে স্কুলে আসতে হয় সাত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে, বর্ষায় যা ব্যবহারেরই অনুপযোগী হয়ে পড়ে৷

ক্লাসে ঠিকমত বসবার সুযোগ হয় না৷ ৩৫ থেকে ৪০ জনের এক একটি শ্রেণিতে ৭০ থেকে ৮০ জনকে জায়গা দিতে হয়৷ কিন্তু তাতে কি, পিটার তাবিচি সুবিধাবঞ্চিত এই শিক্ষার্থীদের মধ্যেই অদম্য স্বপ্ন বুনে দিয়েছেন৷ গণিত আর বিজ্ঞানের অবারিত দুনিয়ার সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন৷ তাদেরকে তিনি পিছিয়ে রাখতে চান না আধুনিক জ্ঞান আর প্রযুক্তিতেও৷ তাঁর মতে, ‘‘ভাল শিক্ষক হতে হলে আপনাকে সৃজনশীল হতে হবে, সেই সঙ্গে প্রযুক্তিকে আলিঙ্গন করতে হবে৷ আপনাকে অবশ্যই শিক্ষকতার আধুনিক উপায়গুলোকে গ্রহণ করতে হবে৷ কাজ করতে হবে বেশি, কথা বলতে হবে কম৷” ছাত্রদের জানানোর জন্য বিশ্বের নিত্যনতুন জ্ঞানের সাথে পরিচিত হতে হয় তাঁকে৷ এজন্য স্কুলে ইন্টারনেট না থাকলেও নিয়মিত সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে সেই ক্ষুধা মেটান তিনি৷

শুধু ক্লাসের পড়াশোনাতেই নয় তার বাইরেও শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান চর্চার প্লাটফর্ম তৈরি করেছেন পিটার৷ তাঁর মতে বিজ্ঞানই তার শিষ্যদের ভবিষ্যৎ দেখানোর পথে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে৷ এজন্য স্কুলে দুটি ক্লাবও গড়েছেন৷ একটি ট্যালেন্ট নারচারিং ক্লাব, অন্যটি সায়েন্স ক্লাব৷

২০০৭ সালের নির্বাচনের পর কেনিয়ায় জাতিগত সংঘাত তৈরি হয়৷ সেটি পৌঁছে প্রত্যন্ত এই গ্রামেও৷ আদিবাসী বিভিন্ন গোষ্ঠী সেখানে একে অপরের সাথে বিবদমান৷ এই পরিস্থিতি থেকে নিজের ছাত্রদের দূরে রাখতেও উদ্যোগ নিয়েছেন পিটার৷ গড়ে তুলেছেন ‘পিস ক্লাব’৷ ৭টি গোষ্ঠী থেকে আসা তাঁর শিক্ষার্থীদের মধ্যে দৃঢ় বন্ধন গড়ে তোলাই যার উদ্দেশ্য৷

পিটারের এসব কার্যক্রমে সুফলও মিলছে হাতে নাতে৷ স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে৷ মেয়েরা ছেলেদের চেয়েও ভাল করছে৷ স্কুলে শিক্ষার্থীদের বাজে আচরণের ঘটনা সপ্তাহে ত্রিশটি থেকে মাত্র তিনটিতে নেমে এসেছে৷ আর তাঁর পুরনো শিক্ষার্থীরা স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে দেশের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জায়গা করে নিচ্ছে৷ এর কৃতিত্ব অবশ্য নিজেকে নন, শিষ্যদেরই দিচ্ছেন পিটার৷ বলেন ‘‘আমি আমার ছাত্রদের নিয়ে ভীষণ গর্বিত৷ একজন শিক্ষক হিসেবে আমি সামনে থেকে তাদের প্রতিশ্রুতি, মেধা, বুদ্ধি আর বিশ্বাস দেখতে পাই৷”

স্কুলের বাইরেও যিনি শিক্ষক

পিটার মাসে যে বেতন পান তার আশিভাগই খরচ করেন শিক্ষার্থী আর স্থানীয় মানুষের কল্যাণে৷ কেননা শুধু ক্লাসে আসলেই তো হবে না, শিশুরা যে পরিবেশে বাস করে তারও তো উন্নয়ন চাই৷

তাঁর মতে, অভিভাবকদেরকে শিক্ষার গুরুত্ব বোঝানোই অন্যতম চ্যালেঞ্জ৷ এজন্য যেসব শিক্ষার্থীর ঝরে পড়ার সম্ভাবনা থাকে তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি৷ যেসব মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেয়ার সম্ভাবনা থাকে বোঝান সেসব পরিবারকেও৷ সন্তানদের স্কুলে নিয়মিত পাঠাতে উদ্বুদ্ধ করেন৷

এই গ্রামটির অবস্থান এমন এক জায়গায় যেখানে দুর্ভিক্ষ নিয়মিত ঘটনা৷ তার হাত থেকে বাঁচাতে গ্রামবাসীকে ক্ষরা সহিষ্ণু শস্য উৎপাদনের উপর প্রশিক্ষণও দেন তিনি৷

সেরা শিক্ষক

পিটার তাবিচির এসব গল্প এখন গোটা বিশ্বের মানুষের কাছেই ছড়িয়ে পড়েছে৷ গত কয়েকদিনে বিশ্বের প্রধান সব গণমাধ্যম তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে৷ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিটার যা করেছেন তা অনেক ধনী দেশের জ্ঞানীদের কাছে স্বপ্নের মতো মনে হবে৷ আর এমন ব্যক্তি যদি বিশ্বের সেরা শিক্ষকের উপাধি পান তাহলে অবাক হবারইবা কী আছে৷

শিক্ষকতা পেশায় অসামান্য অবদান রাখছেন এমন একজনকে ২০১৫ সাল থেকে ‘গ্লোবাল টিচার প্রাইজে’ ভূষিত করে আসছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক চ্যারিটি ‘ভারকি ফাউন্ডেশন’৷ চলতি বছর এজন্য ১৭৯টি দেশ থেকে ১০ হাজার জনকে মনোনীত করা হয়েছিল৷ সবাইকে পেছনে ফেলে পিটার তাবিচিই নির্বাচিত হয়েছেন সেরা শিক্ষক হিসেবে৷ পেয়েছেন ১০ লাখ ডলার মুল্যের পুরস্কার৷ সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রথমবারের মতো উড়োজাহাজে চেপে তাঁকে যেতে হয়েছে দুবাইতে৷

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সংশ্লিষ্ট সংবাদ