শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯, ০৮:২০ পূর্বাহ্ন

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages
Filter by Categories
24 hour essay writing service
Uncategorized
অপরাধ
অর্থনীতি
আদালত
আন্তর্জাতিক
আবহাওয়া
ইসলাম
কলাম
ক্যাম্পাস
ক্রিকেট
খেলাধুলা
চাকুরির খবর
ছবি
জাতীয়
জীবন ব্যবস্থা
তথ্যপ্রযুক্তি
ধর্ম
নির্বাচিত খবর
পরামর্শ
পুঁজিবাজার
প্রবাস
ফিচার
ফুটবল
ফেসবুক কর্নার
বিনোদন
বিবিধ
ভিডিও
ভোটের হাওয়া
মতামত
রাজধানী
রাজনীতি
রিপোর্টার পরিচিতি
শিক্ষা
শিরোনাম
শিল্প ও সাহিত্য
শীর্ষ খবর
সকল বিভাগ
সবখবর
সম্পাদকীয়
সর্বশেষ
সংস্কৃতি
সাক্ষাৎকার
সারাদেশ
সিটি কর্পোরেশন
স্বাস্থ্য কথা
শিরোনাম

অধ্যক্ষ সিরাজের স্ত্রীকে নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য

অধ্যক্ষ সিরাজের স্ত্রীকে নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য

নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৮ লাখ টাকা তুলেছেন স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার। অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা যখন জেলে তখন তার স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার ১৮ লাখ টাকা তুলে উধাও হয়েছেন। বর্তমানে ফেরদৌস আক্তার কোথায় আছেন তা জানেন না আত্মীয়-স্বজন কেউই।

নুসরাতের মা শিরিন আক্তারের করা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ জেলে যাওয়ার পরদিন ২৮ মার্চ জনতা ব্যাংকের সোনাগাজী শাখার সিরাজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে এসব টাকা উত্তোলন করা হয়। তবে এসব টাকার কিছু অধ্যক্ষ সিরাজের মুক্তির আন্দোলন ও নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা করতে খুনিদের পেছনে ব্যয় করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় একাধিক সূত্র।

ফেনী শহরের পাঠানবাড়ী এলাকার মকছুদুর রহমান সড়কের ‘ফেরদৌস মঞ্জিল’ নামে দোতলা বাড়িটি অধ্যক্ষ সিরাজের। রোববার সকালে সেখানে গিয়ে দেখা যায় বাড়িটি তালাবদ্ধ। ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছেন নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজের পরিবার।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ৭ থেকে ৮ বছর আগে ২০ লাখ টাকায় সাড়ে চার শতক জমি ক্রয় করেন অধ্যক্ষ সিরাজ। প্রথমে টিনশেড বাসা ছিল। তিন বছর আগে দোতলা পাকা দালান করেন প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে। ছয়তলা ফাউন্ডেশনের ওপর দোতলা বাড়ি। ওই ভবনের দোতলার রাস্তা লাগোয়া বড় ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। কয়েকদিন আগে ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। তারা কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতে পারেন বলে ধারণা প্রতিবেশীদের।

অধ্যক্ষ সিরাজের ফ্ল্যাটের সামনে মুখোমুখি ফ্ল্যাটে বসবাস করেন ফেনী সদরের ফাজিলপুরের মো. ইব্রাহিম। স্ত্রী আর মেয়ে নিয়ে ওই ভবনের দোতলার একটি ফ্ল্যাটে থাকেন তিনি।

ইব্রাহিম বলেন, ৪ থেকে ৫ দিন আগে ওই বাড়ির লোকজন তালা দিয়ে চলে গেছেন। তবে তারা কোথায় গেছেন তা আমি জানি না। আমরা আসলে এতো কিছুই জানতাম না। বাইরে থেকে তাকে সাধারণ বলেই মনে হত। এখন টিভির খবরে আর পত্রিকায় দেখে তার সম্পর্কে জানতে পারছি। তার এসব অপকর্মের কথা জেনে আমরা প্রতিবেশী হিসেবে লজ্জিত।

ব্যাংক থেকে টাকা তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের সোনাগাজী শাখার ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম বলেন, ২৮ মার্চ সিরাজের স্ত্রী তার অ্যাকাউন্ট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা উত্তোলন করেছেন। তবে টাকার পরিমাণ এ মুহূর্তে বলতে পারছি না।

জেলে থাকার পরও সিরাজের অ্যাকাউন্ট থেকে কিভাবে ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন করা হলো জানতে চাইলে জহিরুল ইসলাম বলেন, টাকা উত্তোলনের বিষয়টি আমি শুনেছি। টাকা চেকের মাধ্যমে তুলে থাকতে পারে। এমনও হতে পারে সিরাজের স্বাক্ষর করা চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা এসব টাকার কিছু প্রথমে অধ্যক্ষ মুক্তির আন্দোলন, পরে রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার কাজে ব্যয় করা হয়। আর সিরাজের নির্দেশে এসব টাকা তুলেছেন স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার। পরে এর একটি অংশ স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলম, ছাত্রদল নেতা নুরুদ্দিন, ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন শামীমকে দেন তিনি। এ টাকা পাওয়ার পরই তিনজনের নেতৃত্বে ‘সিরাজ উদ-দৌলা মুক্তি পরিষদ’ গঠন করা হয়। অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশও করে তারা। এ কমিটিকে মদদ দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন। তারা দলে টেনে নেয় সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকেও। তারপরও অধ্যক্ষকে মুক্ত করতে পারেনি তারা। এতে অধ্যক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে রাফিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এমনকি রাফির গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার আগের দিন (৫ এপ্রিল) বিকেলে অন্যতম পরিকল্পনাকারী শাহাদাত হোসেন শামীমসহ পাঁচজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছবিও তোলেন।

শাহাদাত হোসেন শামীম রাফি হত্যা মামলার তিন নম্বর আসামি ও হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী জোবায়ের আহম্মেদ মামলার পাঁচ নম্বর আসামি। তারা দুইজন এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। নূর হোসেন মামলার আসামি না হলেও তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাফিকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে করা মামলায় ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এরপর তার মুক্তির দাবিতে ২০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির আহ্বায়ক করা হয় নুরুদ্দিনকে। যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় শাহাদাত হোসেন শামীমকে। তারাই রাফির সমর্থকদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাদের পরিকল্পনায় রাফিকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

এরই মধ্যে রাফি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের পর শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার বলেন, অধ্যক্ষের নির্দেশে শাহাদাত হোসেনের পরিকল্পনায় রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অধ্যক্ষের স্ত্রী ফেরদৌস আরা জনতা ব্যাংক থেকে ১৮ লাখ টাকা তুলে অধ্যক্ষের সহযোগীদের হাতে তুলে দেন। তারপরই মূলত সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনের মদদে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলম, নুরুদ্দিন ও শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে অধ্যক্ষ সিরাজের মুক্তির আন্দোলন শুরু হয়।

অধ্যক্ষের বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারী স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর ও সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আবদুল হালিম মামুন বলেন, আমরা চেয়েছিলাম নিপীড়ক অধ্যক্ষের বিচার করতে। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন এবং পৌর কাউন্সিলর মাকুসদ আলম আমাদের আন্দোলন করতে বাধা দিয়েছেন।

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, আমি কাউকে মদদ দেইনি। আমিও চাই যারা অপরাধী তাদের যেন বিচার হয়।

৬ এপ্রিল শনিবার সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। ওই সময় তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করেছে এক ছাত্রীর এমন সংবাদে ভবনের চারতলায় যান তিনি। সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচ ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন নুসরাত জাহান রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

shares