বৃহস্পতিবার, ২৭ Jun ২০১৯, ০৬:১২ অপরাহ্ন

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages
Filter by Categories
24 hour essay writing service
Uncategorized
অপরাধ
অর্থনীতি
আদালত
আন্তর্জাতিক
আবহাওয়া
ইসলাম
কলাম
ক্যাম্পাস
ক্রিকেট
খেলাধুলা
চাকুরির খবর
ছবি
জাতীয়
জীবন ব্যবস্থা
তথ্যপ্রযুক্তি
ধর্ম
নির্বাচিত খবর
পরামর্শ
পুঁজিবাজার
প্রবাস
ফিচার
ফুটবল
ফেসবুক কর্নার
বিনোদন
বিবিধ
ভিডিও
ভোটের হাওয়া
মতামত
রাজধানী
রাজনীতি
রিপোর্টার পরিচিতি
শিক্ষা
শিরোনাম
শিল্প ও সাহিত্য
শীর্ষ খবর
সকল বিভাগ
সবখবর
সম্পাদকীয়
সর্বশেষ
সংস্কৃতি
সাক্ষাৎকার
সারাদেশ
সিটি কর্পোরেশন
স্বাস্থ্য কথা
শিরোনাম

দারোয়ান থেকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক

দারোয়ান থেকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক
প্রিন্ট করুন
আপনার জীবন বদলে দেয়ার জন্য একজন শিক্ষকই যথেষ্ট। আর এক্ষেত্রে উৎকৃষ্ট উদহরণ হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের মাইকেল এটকিন্স। তার জীবন বদলে দিয়েছেন তারই প্রাথমিক স্কুলের একজন শিক্ষক। ফলে স্কুলের সামান্য দারোয়ান থেকে তিনি আজ প্রধান শিক্ষক হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছে। তার জীবনে এই বিশাল পরিবর্তন এসেছে স্কুল ছাড়ার বেশ কয়েক বছর পর।

যদিও দারোয়ান থেকে প্রধান শিক্ষকের এই দীর্ঘ যাত্রাপথ রূপকথার গল্পের মতো অতটা সহজ আর আনন্দময় ছিলো। এজন্য তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে কণ্টকাকীর্ণ দীর্ঘ পথ। তবে কিছু বন্ধুত্বপূর্ণ নির্দেশনার জন্য তিনি এখনও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

দারোয়ান থাকতে এক সময় তিনি যে দরজা পরিষ্কার করতেন, আজ সেই দরজাই তার জন্য খুলে দেয়া হয়েছে শিক্ষা বিস্তারের জন্য।

ডেনভারের লোয়ারি এলমেন্টারি স্কুলে চাকরির আগে মাইকেল স্থানীয় কয়েকটি স্কুলের রক্ষী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি যে এলাকায় বড় হয়েছেন এখন তিনি সেখানকারই একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হয়েছেন।

তিনি যখন স্কুলে পড়তেন তখন পড়ালেখা করাটা তিনি উপভোগ করলেও কিছু বিষয় মানিয়ে চলা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ তিনি বুঝতে পারতেন যে কিছু শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ভেদাভেদ করতেন। তারা কোথা থেকে এসেছে, তারা দেখতে কেমন, এমন কিছু বিষয়ের ভিত্তিতে তারা শিক্ষার্থীদের মধ্যেই পার্থক্য করতেন।

এ বিষয়ে মাইকেল এটকিন্স বলেন, ‘স্কুলিং আমার জন্য অনেকটা মাথা নিচু করে সব সহ্য করার মতো বিষয় ছিলো।’

হাইস্কুল ছাড়ার পর যথাযথ নির্দেশনার অভাবে দিশাহারা হয়ে পড়েন মাইকেল। কেননা উচ্চশিক্ষা কিভাবে গ্রহণ করতে হয় তাকে সেটা দেখানোর জন্য কেউ ছিল না। তার পরিবারেরও তাকে গাইড করার মতো অবস্থা ছিল না।

কাজেই তিনি চাকরির পাশাপাশি স্টেট কলেজে ভর্তি হন। তার দ্রুত অর্থ উপার্জন করা জরুরি হয়ে পড়ে। কেননা তিনি ১৯ বছর বয়সেই বাবা হয়েছিলেন। তিনি একটা কাজ খুব ভাল পারতেন। সেটা হল শিশুদের সঙ্গে তিনি সহজেই মিশে যেতে পারতেন। এই দক্ষতা তিনি শিখেছেন তার মায়ের কাছ থেকে। কারণ তার মা ডে কেয়ার সেন্টারে কাজ করতেন।

এজন্য তিনি কাছের একটি স্কুলে পার্ট টাইম ব্যবসা শিক্ষার ক্লাস করতে যান। সেই সঙ্গে সেখানকার সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির আবেদনও করেন।

তিনি শিক্ষকের পদে চাকরিটা না পেলেও কোনোভাবে বিভিন্ন স্কুলের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এমন একটি স্কুলের প্রিন্সিপাল ছিলেন তার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষিকা।

‘তিনি আমাকে দেখেই আলিঙ্গন করেন, আমার পরিবারের সম্পর্কে জিজ্ঞেসা করেন। আমি তাকে বললাম আমি বাচ্চাদের সাথে কাজ করতে চাই।’

সেখানে থেকে, ক্যারোলিন রেইডলিন – যাকে স্কুলে থাকাকালীন মিসেস ব্রাউন বলে ডাকা হত, তিনি মাইকেলের জন্য স্কুলের রিডিং ও রাইটিং প্যারা প্রফেশনালের পদ তৈরি করেন।

‘তিনি আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে এমন একজন ছিলেন, যিনি আমার মধ্যে কয়েকটি ভাল জিনিস বপন করতে পেরেছেন। তার মধ্যে দুটি হল – আত্মসম্মানবোধ এবং ভালবাসা। তিনি খুব যত্নশীল ছিলেন। তিনি স্কুলের তথাকথিত পড়ালেখার বাইরেও অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতেন। যেগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল,’ বলেন মাইকেল।

তিনি বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মতো সামাজিক ও মানসিক বিকাশ এবং কল্যাণের শিক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমাদের সন্তানদের, তাদের পরিচয়, সংস্কৃতি, আত্মসম্মানের সঙ্গে লড়াই করে চলতে হয় তবে তাদের পক্ষে পড়ালেখা করাটা কঠিন হয়ে পড়ে। যে শিশুটিকে খারাপ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে বা যার বড় ধরনের ট্রমা কাজ করে তাকে বসিয়ে একাডেমিক বিষয়ে আর দশটা বাচ্চার মতো শেখানো এতোটা সহজ হয় না।’

মাইকেল চলতি মাস থেকেই স্টেডম্যান এলমেন্টারি স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করছেন। তারপর থেকে অসংখ্য মানুষ তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনন্দন জানাতে শুরু করে।

মাইকেল মনে করেন, তার প্রথম সন্তান সেই সঙ্গে তার অতীতের অভিজ্ঞতা কাজ তাকে সফলতার পথে হাঁটতে ও আরও সংগ্রাম করার ক্ষেত্রে সাহায্য করেছে।

‘মাঝে মাঝে ভাগ্য আমাদের সহায় হয় না। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম ও মনোযোগের মাধ্যমে সবই সম্ভব। সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র নিজের মনের কথাই শুনতে হয়,’-এমনটাই বলেন মাইকেল।

এখন যুক্তরাষ্ট্রের নানা প্রান্তের শিক্ষকরা মাইকেলের স্কুল ঘুরে দেখতে চান। তারা মাইকেলের কাছে পরামর্শ চান যে, কোন ছাত্রকে সংগ্রাম করতে দেখলে তারা কি করবেন।

জবাবে মাইকেল বলেন, যে কঠিন সময় পার করছে তার আশেপাশে তারা আছে, তাদের টার্গেট করা উচিত। তাদের আচরণ লক্ষ্য করতে হবে।

‘আমি শিক্ষার্থীদের বাবা-মা এবং শিক্ষকদেরকে বলবো তারা যেন শিশুদের নিজেদের মূল্যায়ন করার শিক্ষা দেন, যেন তারা শিক্ষা জীবন ও সংস্কৃতি উপভোগ করতে পারে।’

মাইকেল এটকিন্স

সূত্র: বিবিসি বাংলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

shares