শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯, ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages
Filter by Categories
24 hour essay writing service
Uncategorized
অপরাধ
অর্থনীতি
আদালত
আন্তর্জাতিক
আবহাওয়া
ইসলাম
কলাম
ক্যাম্পাস
ক্রিকেট
খেলাধুলা
চাকুরির খবর
ছবি
জাতীয়
জীবন ব্যবস্থা
তথ্যপ্রযুক্তি
ধর্ম
নির্বাচিত খবর
পরামর্শ
পুঁজিবাজার
প্রবাস
ফিচার
ফুটবল
ফেসবুক কর্নার
বিনোদন
বিবিধ
ভিডিও
ভোটের হাওয়া
মতামত
রাজধানী
রাজনীতি
রিপোর্টার পরিচিতি
শিক্ষা
শিরোনাম
শিল্প ও সাহিত্য
শীর্ষ খবর
সকল বিভাগ
সবখবর
সম্পাদকীয়
সর্বশেষ
সংস্কৃতি
সাক্ষাৎকার
সারাদেশ
সিটি কর্পোরেশন
স্বাস্থ্য কথা
শিরোনাম

‘জ্বিনের ভয় দেখিয়ে’ নারী-শিশুকে ধর্ষণ করতো ইমাম

‘জ্বিনের ভয় দেখিয়ে’ নারী-শিশুকে ধর্ষণ করতো ইমাম

ঝাঁড়ফুক করতে আসা নারীদের ফাঁদে ফেলে ইমামের ধর্ষণের অভিযোগ পেয়ে তদন্তে তার প্রমাণ পেয়েছে র‌্যাব। তারা জানিয়েছে, ধর্ষণ করে সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে রাখতেন রাজধানীর একটি মসজিদের ওই ইমাম। তিনি ১০টিরও বেশি ছেলে শিশুকে বলাৎকার করেছেন। এসব বিষয় ফাঁস করতে চাইলে তাদের ‘দুষ্টু জিন’ দিয়ে ক্ষতি করার ভয় দেখানো হতো।

অভিযুক্ত ইমাম রাজধানীর দক্ষিণখানের একটি মসজিদে নামাজ পড়াতেন। তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতাও করতেন। রোববার রাতে এসব অভিযোগে র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক সারওয়ার-বিন-কাশেম।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ইদ্রিস আহম্মেদ ২০০২ সাল থেকে দক্ষিণখানের মসজিদটিতে ইমামতি করেন। ১৯৯৮ সালে সিলেট থেকে টাইটেল পাস করে স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। সে সময়ও একই অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের কাছে কয়েকজন অভিযোগ করে মসজিদের এই ইমাম এলাকায় বিভিন্ন ধরনের কু-কর্ম করে বেড়াচ্ছেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে আমরা গোয়ান্দা নজরদারি বাড়াই। পরে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।’

‘জ্বিনের ভয় দেখিয়ে নারীদের ধর্ষণ করতেন ইদ্রিস। এই ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ইদ্রিস ২০০২ সাল থেকে এই মসজিদে ইমামতি করতেন। একই সঙ্গে এলাকার একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। এই অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে তিনি ঝাড়ফুক, পানি পড়া ও তাবিজ-কবজের কাজ করতেন। এলাকায় প্রচার করেছিল তিনি জ্বিন কজ্বায় রাখতে পারেন। এটা ছিল তার একটি বড় হাতিয়ার।’

‘মহিলারা তাবিজ-কবজ, ঝাড়ফুক করতে এলে তাদেরকে মসজিদে তার কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করতেন এবং তা ভিডিও ধারণ করে রাখতেন।’

র‌্যাব জানায়, অনেক নারী চেয়েছিলেন বিষয়টি প্রকাশ করতে। কিন্তু সামাজিক অবস্থার কারণে তা করেনি। আর এসব কথা ফাঁস হবার ভয়ে সবাইকে জ্বিনের ভয় দেখানো হতো।

ইমাম বলতেন, ‘তোমরা যদি এসব বিষয় নিয়ে মুখ খোল, তাহলে ‘দুষ্টু জ্বিন’ দিয়ে তোমাদের ক্ষতি করব।’

এভাবে চার-পাঁচজন নারী ইমামের কুপ্রবৃত্তির শিকার হয়েছে বলেও জানায় র‌্যাব। সারোয়ার বলেন, ‘তার খেদমতে থাকা খাদেমদেরও বলাৎকার করেছেন। এ যাবত দশজনের বেশি খাদেমের সঙ্গে এই কাজ করেছেন।’

‘তারা র‌্যাবকে জানিয়েছে, এই ইমাম মসজিদের পাশে নিজের রুমে বসে সিগারেট খেতেন। বলাৎকার করার ভিডিও ইদ্রিস ধারণ করে রাখতেন, যাতে তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করতে না পারে।’

‘এই কারণে মসজিদে যেতে চাইতো না শিশুরা। তখন ইদ্রিস তাদের পরিবারের কাছে গিয়ে বলতো, শিশুরা যদি মসজিদে না যায় তাহলে তার আমল নষ্ট হবে। এসব ছলচতুরতার মাধ্যমে তাদেরকে মসজিদে আনতেন আর বলাৎকার করতেন।’

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, নারীদের ধর্ষণ ও শিশুদের বলাৎকারের কথা র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছেন ইমাম। আর তার কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোনে কুরুচিপূর্ণ ছবি, ভিডিও পাওয়া গেছে।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক বলেন, ‘মাদ্রাসায় যারা পড়ত তারা খুবই ছোট। অল্প বয়সে তারা খাদেম হয়। এসব শিশুদেরই তিনি বলাৎকার করতেন। যারা একবার তার ফাঁদে পড়েছে তারা বারবার এই ঘটনার শিকার হয়েছে।’

‘জ্বিনের ভয় দেখিয়ে সে এসব শিশুদের সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ কাজ বেশি করেছে। বারো বছরের একটা শিশুকে আমরা পেয়েছি যে চারবছর ধরে এই লালসার শিকার।’

আর্থিক কেলেঙ্কারির তথ্যও মিলেছে ইমাম ইদ্রিসের বিরুদ্ধে। তিনি একটি সোসাইটি গঠন করে প্রচার করেন, এটা হুজুরদের মাধ্যমে পরিচালিত। এখানে কোন সুদের কারবার হবে না।

এভাবে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু সে টাকা কখনো ফেরত দেননি। স্থানীয়রা যখন টাকা ফেরত চেয়েছে তখন তিনি বলতেন, তিনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন তারা টাকা নিয়ে দেশ ছেড়ে চলে গেছে। তাই টাকা দেওয়া সম্ভব না।

‘পরে আবার বলেন, একটা বড় জমি কিনে জমির লাভ সকলকে করা হবে। কিন্তু জমির টাকা এখনও কাউকে দেননি।’

উত্তরখানের বিভিন্ন গার্মেন্টস ও প্রতিষ্ঠান থেকে মসজিদ ও মাদ্রাসার কথা বলে টাকা তুলেছিলেন এই ইমাম। কিন্তু সেসব টাকা ইমাম ইদ্রিস ব্যক্তিগত কাজে লাগিয়েছেন বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

shares