বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages
Filter by Categories
24 hour essay writing service
Uncategorized
অপরাধ
অর্থনীতি
আদালত
আন্তর্জাতিক
আবহাওয়া
ইসলাম
কলাম
ক্যাম্পাস
ক্রিকেট
খেলাধুলা
চাকুরির খবর
ছবি
জাতীয়
জীবন ব্যবস্থা
তথ্যপ্রযুক্তি
ধর্ম
নির্বাচিত খবর
পরামর্শ
পুঁজিবাজার
প্রবাস
ফিচার
ফুটবল
ফেসবুক কর্নার
বিনোদন
বিবিধ
ভিডিও
ভোটের হাওয়া
মতামত
রাজধানী
রাজনীতি
রিপোর্টার পরিচিতি
শিক্ষা
শিরোনাম
শিল্প ও সাহিত্য
শীর্ষ খবর
সকল বিভাগ
সবখবর
সম্পাদকীয়
সর্বশেষ
সংস্কৃতি
সাক্ষাৎকার
সারাদেশ
সিটি কর্পোরেশন
স্বাস্থ্য কথা
শিরোনাম

ঢাকা দিল্লীর সম্পর্ক নিয়ে আমাদের ভাবতে হয়: সৈয়দ মিজানুর রহমান

ঢাকা দিল্লীর সম্পর্ক নিয়ে আমাদের ভাবতে হয়: সৈয়দ মিজানুর রহমান

পরিচয়ে আমি বাঙালি, আমার আছে ইতিহাস গর্বের, কখনোই ভয় করিনাকো আমি উদ্যত কোনো খড়গের। বাংলা সাহিত্যে সব্যসাচী লেখক-কবি সৈয়দ শামসুল হকের ভাষায় যেমন বাঙালির দম্ভিকতার বীরত্বগাথা সংগ্রামের ইতিহাস প্রকাশ পেয়েছে। কার্যতই আমরা বাঙ্গালীরা উদ্যত কোন খড়গের ভয় করিনা। এটা আমাদের সহজাত বৈশিষ্ট্য। একই ভাবে আমাদের জীববৈচিত্র, আমাদের কৃষ্টি-কালচার, পারষ্পারিক সম্প্রতি নিয়ে নিশ্চই ভিনদেশিদের ভাবার কথা নয়। তবে গ্লোবালাইজেশনের যুগে নাগরিকের জীবনমান উন্নয়ণে রাষ্ট্রীয়ভাবে পররাষ্ট্রনীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব অত্যাবশ্যকীয়। কারণ দেশের মোট জাতীয় সম্পদ/উৎপাদনে নাগরিকের সামগ্রিক চাহিদা পূরণের সক্ষমতা রয়েছে কিনা। দেশের উদ্বৃত্ত সম্পদ রপ্তানী, জনশক্তি রপ্তানী, শিল্প-বাণিজ্যে আয় বৃদ্ধিতে কুটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হয়। এছাড়া প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহায়তাসহ পরাশক্তির উদ্যত আচরণের প্রভাব নিয়েও রাষ্ট্রের ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন। যে কারনে আন্তর্জতিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিকল্প নেই।

বিশ্লেষকদের মতে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের মতোই প্রতিবেশি দেশ ভারতের সাথে কুটনৈতিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কৌশলগত বিভিন্ন কারণ রয়েছে। নিঃসন্ধেহে বিশ্বমঞ্চে ভারত শক্তিশালি ও বৃহৎ রাষ্ট্র। ভরতের প্রতি নমনীয় নয়, বরং বন্ধুসূলভ সম্পর্ক উন্নয়ণের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ চলমান বেশকিছু সঙ্কট নিরসনের চেষ্টা তদবির চালাতে হচ্ছে। প্রাসঙ্গিক আলোচনায় কিছু বাস্তবচিত্র সামনে চলে আসে- মায়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর বৌদ্ধ রাখাইন ও মায়ানমার সেনাবাহিনীদের নির্মম হত্যাযজ্ঞ বিশ্বসম্প্রদায়কে চরমভাবে ব্যাথিত করেছে। এই নৃসংশ হত্যাকান্ড, নির্যাতনের খবর আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রচার করা হয়েছে। বাংলাদেশীরা প্রতিবাদ জানিয়েছে। দেশবাসীর আহ্বানে নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের মানবিক কারনে শেখ হাসিনা সরকার বাংলাদেশের ভূসীমানায় আশ্রয় প্রদান করে। বর্তমানে নিবন্ধিত প্রায় ১১ লাখেরও বেশি রহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংকট বাংলাদেশের অন্যতম জাতীয় সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি। এই রহিঙ্গা সমস্যা সমাধান ও এর উত্তরণে মায়নমারের উপর কুটনৈতিক চাপ প্রয়োগে ভরতের আন্তরিকতা ও সমর্থন প্রয়োজন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) নিয়েও বাংলাদেশের উদ্বেগজনিত যথেষ্ট কারণ সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে ভারতীয় এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা থেকে ১৯ লক্ষ ৬ হাজার ৬৫৭ জন মানুষের নাম বাদ দেয়া হয়। ভারতীয়দের দাবি এই বিশাল জনসংখ্যা বাংলাদেশি নাগরিক। যারা মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে এই অঞ্চলগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলো।

এমতাবস্থায় সিলেট, সুনামগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশাধিকার সংরক্ষণে বিজিবিকে সতর্ক করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী থানা এলাকায়ও বিশেষ নজরদারির ব্যাবস্থা চালু করতে হয়েছে প্রশাসনকে। যদিও বাংলাদেশ সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর এনআরসি বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের চিন্তার কারণ নেই বলে জানিয়েছেন। তবে বিজেপি সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অবৈধ অভিবাসী উল্লেখ করে বাদপড়াদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কথা বিভিন্ন সময় বল্লেও ধরাহয় কূটনৈতিক জটিলতা এড়ানোই ছিল তার লক্ষ্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনার ভারত সফরকালীন প্রধানমন্ত্রি নরেন্দ্র মোদীও এনআরসি নিয়ে সরাসরি কথা না বললেও তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন এতে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু নেই। সুতারাং জাতীয়স্বার্থ বিবেচনায় ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক আরো জোরদার করতে কুটনৈতিক তৎপরতার বিকল্প নেই। এর বাহিরে তিস্তার পানি ভাগের বিষটিতো রয়েছেই। ফেনি নদী থেকেই ১.৮২ কিউসেক পানি ত্রিপুরার সাব্রুম শহরে পানীয় জল সরবরাহের যে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকার গ্রহণ করেছে তাতে বাকী সাতটি অভিন্ন নদীর পানি ভাগাভাগিসহ দ্বিপাক্ষিক ফর্মুলা ভবিষ্যতে তিস্তা নদীর পানি বন্টনের ক্ষেত্রে কাজে লাগবে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেন। দেশের জাতীয় স্বার্থ বিরোধী কোন ধরনের প্রদক্ষেপ শেখ হাসিনা সরকার অতীতেও নেয়নি ভবিষ্যতেও নিবেননা। সেটা হোক প্রাকৃতিক সম্পদ, পানি, বন্দর ব্যবহার প্রবৃত্তি। কেবল সংকট নিরসনে শক্তিশালী বৃহৎ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতকে নমনীয় করার কুটনৈতিক কৌশল মাত্র। অতচ দেশে ভারত ইস্যুতে একটি গোষ্ঠীর বিভক্ত মনোভাবের কারনে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যমত না থাকায় অভ্যন্তরিন কোলাহল সৃষ্টি করে নিরবিচ্ছিন্ন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যা দেশবাসীর কাছে কোন যোক্তিতেই কাম্য নয়।

 

লেখক – সৈয়দ মিজানুর রহমান- সাবেক সভাপতি, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ চেয়ারম্যান, শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্র SPBK

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

shares