বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages
Filter by Categories
24 hour essay writing service
Uncategorized
অপরাধ
অর্থনীতি
আদালত
আন্তর্জাতিক
আবহাওয়া
ইসলাম
কলাম
ক্যাম্পাস
ক্রিকেট
খেলাধুলা
চাকুরির খবর
ছবি
জাতীয়
জীবন ব্যবস্থা
তথ্যপ্রযুক্তি
ধর্ম
নির্বাচিত খবর
পরামর্শ
পুঁজিবাজার
প্রবাস
ফিচার
ফুটবল
ফেসবুক কর্নার
বিনোদন
বিবিধ
ভিডিও
ভোটের হাওয়া
মতামত
রাজধানী
রাজনীতি
রিপোর্টার পরিচিতি
শিক্ষা
শিরোনাম
শিল্প ও সাহিত্য
শীর্ষ খবর
সকল বিভাগ
সবখবর
সম্পাদকীয়
সর্বশেষ
সংস্কৃতি
সাক্ষাৎকার
সারাদেশ
সিটি কর্পোরেশন
স্বাস্থ্য কথা
শিরোনাম

বাংলাদেশে ১০ বছরে নতুন কোটিপতি ৫৬ হাজার

বাংলাদেশে ১০ বছরে নতুন কোটিপতি ৫৬ হাজার

বাংলাদেশে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার ২৮৬ জন। দশ বছর আগে অর্থাৎ ২০০৯ সালের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে কোটিপতি আমানতকারী ছিলেন ১৯ হাজার ৬৩৬ জন। এই হিসাবে গত দশ বছরে ৫৬ হাজার ৬৫০ জন ব্যক্তি নতুন করে কোটিপতির তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। কেবল ব্যাংকে টাকা আমানত রেখেছেন- এমন ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র তুলে ধরেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ব্যাংকে আমানত রাখেন না— দেশে এমন কোটিপতির সংখ্যা এর চেয়েও বেশি বলেও জানা গেছে।

দশ বছরে ৫৬ হাজারেরও বেশি মানুষ কোটিপতির তালিকায় নাম লেখানোকে ‘বৈষম্যের উন্নয়ন’ বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। তিনি বলেন, ‘দেশে কিছু মানুষ লুটপাট করার মধ্য দিয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। সংবিধান পরিপন্থী ও কল্যাণ অর্থনীতির নীতি থেকে সরে যাওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে। বর্তমান অর্থনীতি জোর-জুলুমের নীতিতে চলছে। এর ফলে টাকাওয়ালাদের কাছে ব্যাংকিং খাত জিম্মি হয়ে পড়েছে।’ খবর পার্স টুডে।

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, এই অর্থ পাচার না হয়ে ব্যাংকে জমা হচ্ছে, এটা খুবই আশাব্যাঞ্জক।

তিনি বলেন, কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশে আয়ের বৈষম্য তৈরি হচ্ছে এবং দিন দিন এ সংখ্যা বাড়ছে বলেই মনে হচ্ছে। কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বাড়াটা যেমন ইতিবাচক, তেমনি আয়ের বৈষম্য বেড়ে যাওয়াটা নেতিবাচক প্রবণতা।

১০ বছরে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা

২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে কোটিপতি আমনতকারীর সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ১৬৩ জন। পাঁচ বছর পর ২০১৩ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ হাজার ৬৪০ জনে। সে হিসাবে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদের ৫ বছরে দেশে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৩০ হাজার ৪৭৭ জন। এই সময়ে গড়ে প্রতিবছর কোটিপতি আমানতকারী বেড়েছে ৬ হাজার ৯৫ জন।

অন্যদিকে সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের পাঁচ বছর, অর্থ্যাৎ ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে কোটিপতি আমানকারীর সংখ্যা বেড়েছে ২৫ হাজার ৯২৩ জন। এ সময়ে গড়ে প্রতিবছর কোটিপতি আমানতকারী বেড়েছে ৫ হাজার ১৮৪ জন। আর সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম তিন মাস, অর্থাৎ চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে দেশে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৭২৩ জন। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ সরকারের ১০ বছর তিন মাসের শাসনামলে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৫৭ হাজার ১২৩ জন।

১০ বছরে কোটিপতিদের আমানতের পরিমাণ

২০০৮ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে কোটিপতি আমনতকারীদের মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ৭৭ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। তখন মোট আমানতের ৩১ শতাংশ ছিল কোটিপতি আমানতকারীদের অ্যকাউন্টের। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে কোটিপতি আমানতকারীর আমানতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৪৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকায়। তখন মোট আমানতকারীদের ৪০ দশমিক ৬০ শতাংশ ছিলেন কোটিপতি। আর এ সময়ে কোটিপতি আমানতকারীদের আমানতের পরিমাণ বাড়ে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে কোটিপতি আমানতকারীর অর্থের পরিমাণ বেড়ে হয় ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা। মোট আমানতকারীর ৪৪ দশমিক ২৭ শতাংশই তখন ছিলেন কোটিপতি।

২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত কোটিপতির সংখ্যা

২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দেশে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ১৪ হাজার এক জন। এ সময়ে গড়ে প্রতিবছর দুই হাজার জন করে কোটিপতি আমানতাকারীর সংখ্যা বেড়েছে। এর মধ্যে ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে দেশে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ৮ হাজার ৮৮৭ জন। ওই সময়ে দেশে প্রতিবছর গড়ে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে এক হাজার ৭৭৭ জন করে।

অন্যদিকে, ২০০৭ ও ২০০৮ সালের দুই বছরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দেশে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজার ১১৪ জন। এই সময়ে বছরে গড়ে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ২ হাজার ৫৫৭ জন করে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি ছিলেন মাত্র পাঁচজন। ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে এই সংখ্যা বেড়ে ৪৭ জনে দাঁড়ায়। ১৯৮০ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৮ জনে। এরশাদ সরকারের পতনের সময় ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে কোটিপতির সংখ্যা ছিল ৯৪৩ জন। ১৯৯৬ সালের জুনে কোটিপতি ছিলেন দুই হাজার ৫৯৪ জন। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর শেষে এ সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ১৬২ জনে। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে কোটিপতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৮৮৭ জনে। ২০০৮ সালে ব্যাংক খাতে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ১৯ হাজার ১৬৩ জন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

shares