শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:০৬ অপরাহ্ন

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages
Filter by Categories
24 hour essay writing service
Uncategorized
অপরাধ
অর্থনীতি
আদালত
আন্তর্জাতিক
আবহাওয়া
ইসলাম
কলাম
ক্যাম্পাস
ক্রিকেট
খেলাধুলা
চাকুরির খবর
ছবি
জাতীয়
জীবন ব্যবস্থা
তথ্যপ্রযুক্তি
ধর্ম
নির্বাচিত খবর
পরামর্শ
পুঁজিবাজার
প্রবাস
ফিচার
ফুটবল
ফেসবুক কর্নার
বিনোদন
বিবিধ
ভিডিও
ভোটের হাওয়া
মতামত
রাজধানী
রাজনীতি
রিপোর্টার পরিচিতি
শিক্ষা
শিরোনাম
শিল্প ও সাহিত্য
শীর্ষ খবর
সকল বিভাগ
সবখবর
সম্পাদকীয়
সর্বশেষ
সংস্কৃতি
সাক্ষাৎকার
সারাদেশ
সিটি কর্পোরেশন
স্বাস্থ্য কথা
শিরোনাম

রাঙ্গুনিয়াতে রাবার বাগান কর্মকর্তাকে চাঁদা দিতে রাজি হওয়ায় লেবু বাগান ও বসতঘর উচ্ছেদ

নিউজ ডেক্স:

রাঙ্গুনিয়াতে রাবার বাগান কর্মকর্তাকে চাঁদা দিতে রাজি হওয়ায় লেবু বাগান ও বসতঘর উচ্ছেদ
চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়াতে রাবার বাগান কর্মকর্তাকে মোটা অংকের টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় কৃষক নুরুল হক দুইশত লেবু গাছ কেটে দিয়েছে রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার ২ ডিসেম্বর রাবার বাগান কতৃপক্ষের দাবী জায়গাটি রাবার বাগানের জন্য বরাদ্দকৃত তার উপর এই লেবু বাগান করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় রাবার বাগানের জন্য বরাদ্দকৃত জায়গা থেকে ৫০/৬০ দূরে৷ এরপরও গাছগুলো কেটে দেয়ায় মালিক নুরুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শুধু লেবু বাগান নয় রাবার বাগানের বরাদ্দকৃত জায়গাতে ঘর করার কারণ দেখিয়ে একটি ভূমিহীন গরীব পরিবারের বসাবাসে একমাত্র ঘরটিও উচ্ছেদ করা হয়। রাবার বাগানের জন্য ভূমি জরীপের সময় রাবার বাগান কতৃপক্ষ বসতঘর রেখে বাকী জায়গা রাবার বাগানের উপযোগী করার কথা থাকলেও ভূমিহীন গরীব পরিবারটির বসতঘর উচ্ছেদ করাতে স্থানীয় সাধারণ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে একজন গরীব পরিবারে ঘর উচ্ছেদ করা হল অথচ আশেপাশে আরো অনেক ঘরবাড়ি রয়েছে । একটি পরিবারের ঘর উচ্ছেদ করল কিন্তু বাকী ঘরগুলো উচ্ছেদ করা হলনা এটা কেমন বিচার৷ উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্তরা মনে করেন লেবু বাগান ও ঘর উচ্ছেদ এটা সম্পন্ন উদ্দেশ্যমূলক৷ লেবু বাগানের মালিক এলাকার নুরুল হক বাংলা ৫২কে মুঠো ফোনে বলেন,গত কয়েক বছর আগে পোমরা পাহাড়ি এলাকার বুড়াগোদা নামক পাহাড়ে লেবু বাগানটি করেছি। আমার বাগানে প্রতিটি লেবু গাছে ফল আসতে শুরু করেছে। গতকিছুদিন আগে রাবার বাগানের এক কর্মকর্তা আমার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করেন। এই চাঁদা দিতে আমি অপারগতা প্রকাশ করি এতে উদ্দেশ্যেমূলকভাবে আমার লেবু গাছ গুলো কাটা হয়েছে বলে আমি মনে করি। নুরুল হক অভিযোগ করে আরও বলেন, রাবার বাগানের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা টাকার বিনিময়ে রাবার গাছ কেটে প্রভাবশালী এক ব্যক্তিকে মাল্টা ও পেঁপে বাগান করার সুযোগ করে দিচ্ছে। আমার লেবু বাগান রাবার বাগান থেকে দূরে হলেও উদ্দেশ্যমূলক ভাবে আমার কষ্টর্জিত টাকা ও পরিশ্রমকে তারা একদিনে শেষ করে দিল৷ উচ্ছেদ হওয়া বসত ঘরের মালিক ইসমাইল জানান আমরা এই এলাকায় যুগ যুগ ধরে বসাবাস করতেছি,পাহাড়ে ক্ষেত খামাড় করে পরিবারের সদস্যদের বরণপোষন চালাচ্ছি,এই ঘরটি ছাড়া আমার পরিবার নিয়ে এই মূহর্তে থাকার কোন জায়গা নেই,অথচ রাবার বাগান কতৃপক্ষ যখন রাবার বাগান করতেছিল তখন তারা বাড়িঘর বাদ দিয়ে বাকি জায়গা রাবার বাগানের জন্য উপযুক্ত করে তুলে৷ তখন তারা বলেছিল বসতঘর বাদ রেখে অবশিষ্ট জায়গা রাবার বাগানের জন্য উপযুক্ত করে তুলা হবে৷ তখন আমরা রাবার বাগান থেকে সামন্য দুরে বসাবাস করে আসছি৷
রাবার বাগানের পাশে বসাবাস করা উচ্ছেদ হওয়া পরিবারটির দাবী এনজিও সংস্থা থেকে কিস্তি নিয়ে তাদের বসতি সংস্কার করতে গেলে রাবার বাগানের একজন কর্মকর্তা ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেন। আমি টাকা না দেওয়াতে ঐ কর্মকর্তার নির্দেশে আমার বসতঘরটি ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমি স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে এই শীতের মাঝে খোলা আকাশের নিচে আমরা বসবাস করছি। পাশে আরো অনেক বসতঘর রয়েছে তাদের কারো বসতঘর উচ্ছেদ করা হয়নি,আমি টাকা দিতে পারিনি বলে আমার বসতঘর উচ্ছেদ করে আমাকে পথে বসিয়ে দিয়েছে৷ তিনি অভিযোগ করেন, ‘শুধুমাত্র আমার আশেপাশেই কয়েক শতাধিক বসতঘর রয়েছে। তাদেরগুলো উচ্ছেদ করা হয়নি। কিন্তু আমার বসতঘরটি টাকা না দিলে তারা উচ্ছেদ করে আমাকে পথে বসিয়েছে। এভাবেই তারা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় স্থানীয়রদের হয়রানি করে আসছে। টাকা দিলে সব ঠিক, না দিলে উচ্ছেদ।’ বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের অধিনে রাউজান-রাঙ্গুনিয়া রাবার বাগান করা হয়। ২০১২ সালের দিকে এই দুই উপজেলায় বনবিভাগের মালিকানাধীন ১০৫৫ একর বনভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। এরমধ্যে রাঙ্গুনিয়ার পোমরা মৌজা, নোয়াগাঁও মৌজা এবং সুরুৎসিং ঢালা মৌজার আনুমানিক ৫০০ একর বনভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। অধিগ্রহণকালে এই এলাকার বিভিন্ন বসতঘর রেখে বাকী বনভূমিগুলো অধিগ্রহণ করা হয় এবং রাবার গাছ লাগানো হয়। বর্তমানে বনায়নকৃত এসব রাবার বাগান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার কেজি রাবার উৎপাদন হচ্ছে। রাবার বাগানের জায়গা সৃজনকালে এসব এলাকার বাসিন্দাদের সাথে রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ ড. হাছান মাহমুদের মধ্যস্থতায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই ব্যাপারে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের ব্যক্তিগত সহকারী এমরুল করিম রাশেদ রাঙ্গুনিয়া সংবাদ প্রতিনিধিদের বলেন, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে রাবার বাগানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তখন কথা হয়, বসতঘর রেখে বাকী জায়গা অধিগ্রহণ করা হবে। বরং রাবার বাগানের মাঝখানে পতিত জায়গায় বসতঘরের অধিবাসীদের মৌসুমী শাক-সবজি ও লেবু জাতীয় ফসলের চাষাবাদের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি অভিযোগ আসছে এসব এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে রাবার বাগানের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা চাঁদা দাবী করছেন, না দিলে উচ্ছেদ করছেন। বিষয়টি দুঃখজনক। সম্প্রতি পোমরা বার আউলিয়ার ঢালা এলাকার জনৈক আবদুর রহমান বাংলাদেশ বনশিল্প কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এতে তিনি টাকার বিনিময়ে রাবারগাছ কেটে ওই স্থানে মাল্টা চাষ করার জন্য জনৈক বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি। এই ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেলেও রাবার বাগানের জায়গায় মাল্টা চাষকারী ব্যক্তি বহাল-তবিয়তেই রয়েছেন। বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের রাঙ্গুনিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাবার বাগানের নির্ধারিত স্থানে নতুনভাবে ঘর তৈরি করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মতিতে এসব অবৈধ ঘর উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদ করার আগে তাদেরকে আগে থেকে নোটিশ দেয়া হয়েছিল। অবৈধভাবে দখল উচ্ছেদ নিয়মিত করা হচ্ছে যা সামনেও অব্যহত থাকবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

shares