ঢাকা , শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবজনক অধ্যায় স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী কোটালীপাড়ায় চিকিৎসাধীন যুবকের ওপর হামলা, অবস্থা আশঙ্কাজনক আমিন বাজার সাদুল্যাপুর ভূমি অফিসে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: উপ-সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও হয়রানির গুরুতর অভিযোগ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন ও সংহতি জাতিসংঘ মহাসচিবের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা মার্কিন ফার্স্ট লেডির আমন্ত্রণে ওয়াশিংটনে গ্লোবাল সামিটে ভাষণ দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান ভয়াল ২৫ মার্চ আজ সৌদি আরব প্রবাসী বগুড়া জেলা বিএনপির উদ্যোগে ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠিত স্টার আওয়ার্ড পেলেন কাতার প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: জসিম উদ্দীন সিআইপি ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে জুলাইয়ের জন-আকাঙ্ক্ষা অগ্রাধিকার দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমিন বাজার সাদুল্যাপুর ভূমি অফিসে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: উপ-সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও হয়রানির গুরুতর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকার আমিন বাজার সাদুল্যাপুর ভূমি অফিস যেন বর্তমানে দালাল সিন্ডিকেটের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে—এমন অভিযোগ উঠেছে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে। সংশ্লিষ্ট অফিসে দায়িত্ব পালনরত উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান যোগদানের পর থেকেই দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো কাজ—নামজারি, খতিয়ান উত্তোলন, পর্চা সংগ্রহ কিংবা রেকর্ড সংশোধন—এসব করতে গেলে সরাসরি অফিসিয়াল প্রক্রিয়ায় সেবা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বরং বাধ্য হয়ে সেবাগ্রহীতাদের যোগাযোগ করতে হচ্ছে মনিরুজ্জামানের ঘনিষ্ঠ দালাল চক্রের সঙ্গে।
অভিযোগ রয়েছে, মনিরুজ্জামানের ব্যক্তিগত সহযোগী হিসেবে পরিচিত দালাল শাহআলম অফিসের বিভিন্ন কাজে প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। অন্যদিকে রেকর্ড রুম ও পর্চা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দেখভালের দায়িত্ব পালন করছেন বহিরাগত দালাল মহর আলী। যা স্পষ্টতই সরকারি দাপ্তরিক নীতিমালা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সেবার দায়িত্ব কোনোভাবেই বহিরাগত ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ ও সরকারি দায়িত্বে অবহেলার শামিল—যা দণ্ডনীয় অপরাধ।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি অফিসে দালাল চক্রের মাধ্যমে সেবা প্রদান শুধু নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে না, বরং রাষ্ট্রীয় সেবা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, আমিন বাজার সাদুল্যাপুর ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করা হোক, নইলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০১:০৬:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
৫১৮ Time View

আমিন বাজার সাদুল্যাপুর ভূমি অফিসে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: উপ-সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও হয়রানির গুরুতর অভিযোগ

আপডেটের সময় : ০১:০৬:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

ঢাকার আমিন বাজার সাদুল্যাপুর ভূমি অফিস যেন বর্তমানে দালাল সিন্ডিকেটের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে—এমন অভিযোগ উঠেছে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে। সংশ্লিষ্ট অফিসে দায়িত্ব পালনরত উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান যোগদানের পর থেকেই দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো কাজ—নামজারি, খতিয়ান উত্তোলন, পর্চা সংগ্রহ কিংবা রেকর্ড সংশোধন—এসব করতে গেলে সরাসরি অফিসিয়াল প্রক্রিয়ায় সেবা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বরং বাধ্য হয়ে সেবাগ্রহীতাদের যোগাযোগ করতে হচ্ছে মনিরুজ্জামানের ঘনিষ্ঠ দালাল চক্রের সঙ্গে।
অভিযোগ রয়েছে, মনিরুজ্জামানের ব্যক্তিগত সহযোগী হিসেবে পরিচিত দালাল শাহআলম অফিসের বিভিন্ন কাজে প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। অন্যদিকে রেকর্ড রুম ও পর্চা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দেখভালের দায়িত্ব পালন করছেন বহিরাগত দালাল মহর আলী। যা স্পষ্টতই সরকারি দাপ্তরিক নীতিমালা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সেবার দায়িত্ব কোনোভাবেই বহিরাগত ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ ও সরকারি দায়িত্বে অবহেলার শামিল—যা দণ্ডনীয় অপরাধ।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি অফিসে দালাল চক্রের মাধ্যমে সেবা প্রদান শুধু নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে না, বরং রাষ্ট্রীয় সেবা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, আমিন বাজার সাদুল্যাপুর ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করা হোক, নইলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।