কাজী মোঃআশিকুর রহমান
আশুলিয়া প্রতিনিধি :

আশুলিয়ায় সুদের টাকার জন্য বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ঘরে আটকিয়ে মা মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে আশুলিয়া থানা ছাত্রদলের সাবেক এক নেতার বিরুদ্ধে।
এসময় মা-মেয়েকে মারধরের ঘটনা জানতে গেলে আরো দুজনকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এনাম মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ মার্চ) সকালে জামগড়ার উত্তর মীর বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় ভুক্তভোগী মা-মেয়ে মামলা করতে থানায় গেলে সাধারণ ডাইরি নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে ব্যবসায়ীক কাজের জন্য দাদন ব্যবসায়ী শামীমার কাছ থেকে সাত লাখ টাকা সুদে দেন রিপা আক্তারের স্বামী আবু সাঈদ। এই সাত লাখ টাকার সুদ বাবদ প্রতিমাসে ১৪ হাজার টাকা দিতে হতো দাদন ব্যবসায়ীকে। সব কিছু ঠিকঠাক মতই চলছিল তবে করোনা মহামারীতে ব্যবসায় ধস নামায় আর পাওনাদারের অত্যাচারে গত ১০দিন আগে আত্মগোপনে চলে যায় আবু সাঈদ।

ফলে দাদন ব্যবসায়ি শামীমা এবং তার ছেলে সাবেক যুবদল নেতা বিপ্লব মীর টাকার জন্য বাড়ির জমি লিখে দিতে রিপা আক্তার ও তার মা মনোয়ারাকে হুমকি ধামকি দিতে থাকে। গত কয়েকদিন আগে একলাখ টাকা শামীমাকে দিয়ে বাকি টাকা ক্রমান্বয়ে দিয়ে দেবেন বলে জানান রিপা আক্তার।
হঠাৎ করে সোমবার সকালে শামীমা তার ছেলে বিপ্লব মীরসহ অচেনা ১০-১২ জন লোক নিয়ে বাড়ি থেকে রিপা আক্তার (৩০) ও তার মা মনোয়ারা বেগম (৫৫) কে তুলে নিয়ে ঘরে আটকিয়ে মারধর করতে থাকে। এমন খবরে রিপাদের নিকটাত্মীয় মোহাম্মদ আলির ছেলে হাফিজুদ্দিন (৩২) ও নূর ইসলাম মোলস্নার ছেলে সোহাগ মোল্লা (৩০) বিষয়টি জানার জন্য ঘটনাস্থলে যান। এসময় ক্ষিপ্ত হয়ে শামীমা তার ছেলে বিপ্লব মীরসহ অজ্ঞাত আরো ১০-১২ জন মিলে বেধরক মারপিট করে এ দুজনকে গুরুতর জখম করে। তাদের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে ভর্তি করান। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সোহাগ মোল্লা বাড়িতে আসলেও হাফিজুদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এনাম মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয় বলে খবর পাওয়া গেছে।

তবে অভিযুক্ত বিপ্লব মীর জানান, সে কাউকে মারেনি উল্টো তাকেই মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহীন মিয়া বলেন, উভয় পক্ষই থানায় এসেছিল অভিযোগ করার জন্য । তাদের দুপক্ষকে নিয়ে মিমাংসার জন্য সাবেক আশুলিয়া থানা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোঃ সুমন হোসেন ভূঁইয়া দায়ীত্ব নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x