দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ব্যাপারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি যে তথ্যগুলো উপস্থাপন করছেন সেগুলো জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য। করোনা ও ইউক্রেন-রুশ যুদ্ধের জন্য ২/১ টি পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। এ ছাড়া বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট তো রয়েছে। এটা শুধু আমাদের দেশে না সারা বিশ্বে পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ বিষয়ে ইতিমধ্যে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে ক্রয়সীমার মধ্যেই যে কোনো পণ্য সামগ্রী পেতে পারে টিসিবির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রত্যেকটি স্বল্প আয়ের মানুষকে এ টিসিবির পণ্য দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি করে। সে সকল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সাংগঠনিক সফরে বুধবার বেলা আড়াইটায় ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ হলরুমে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৩ বছরের সরকারের উন্নয়নের কারণে রাজনৈতিক পরাজয়ের শঙ্কায় বিএনপি ও তাদের দোসররা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আজকে দেশের সমস্ত মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। গত ১৩ বছরে বাংলাদেশ বদলে গেছে। সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। আগের তুলনায় দেশর মানুষ আজ অনেক ভালো আছে। আর এ জাতীয় উন্নয়ন যাদের পছন্দ হয় না বিএনপি ও তাদের দোসররা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে এবং দেশের মানুষের মধ্যে তারা নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আ. লীগ গণমানুষের সংগঠন এবং বাঙালির সমস্ত অর্জন এসেছে আ. লীগের মাধ্যমে। বাঙালির স্বাধীনতার সংগ্রামের নেতৃত্বে দিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজকে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আয়তনের দিক দিয়ে পৃথিবীর ৯৯তম। বাংলাদেশ শস্য উৎপাদনের দিক দিয়ে ২য়, আলু উৎপাদনে সপ্তম, মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে সেরা। আজকে এখানে এসেছি তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে বসার জন্য, সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য। যারা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা প্রদান করার জন্য। প্রথমত বিএনপি নির্বাচনকে ভয় পায়। প্রথমত তাদের জ্বালাও, পোড়াও রাজনীতির জন্য। সে কারণে তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান শাস্তিপ্রাপ্ত ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। সে কারণে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তাদের নির্বাচনে কোনো আগ্রহ নাই। এ জন্য তারা তাদের দলকেও নির্বাচনমুখী করতে চায় না। আগামী নির্বাচনে তাদের যে পরাজয় হবে এটি মোটামুটিভাবে তারা নিশ্চিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জেলা আ. লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহ. সাদেক কুরাইশীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, প্রধান অতিথি আ. লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন এমপি, বিশেষ অতিথি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, প্রধান বক্তা কেন্দ্রীয় আ. লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক, সদস্য ও সাবেক এমপি এ্যাড. হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, সদস্য ও সাবেক এমপি এ্যাড. সফুরা বেগম রুমি প্রমুখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায়। অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব দবিরুল ইসলাম, জেলা আ. লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসম গোলাম ফারুক রুবেল, এ্যাড. মোস্তাক আলু টুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ জুলফিকার আলী ভুট্টো, ত্রান ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন, প্রচার সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, প্রত্যেক উপজেলার আ. লীগের সভাপতি, সম্পাদক, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x