পদ্মা সেতু উদ্বোধন ও রথযাত্রা উপলক্ষে যে কোন ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে রাজধানীর আবাসিক হোটেল ও মেসে তল্লাশি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। রোববার (১৯ জুন) ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় পুলিশ কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন তিনি।

মে মাসে বড় ধরনের কোনো অঘটন না ঘটায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভায় উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজ করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে ভিআইপি ও ভিভিআইপিদের সুষ্ঠু গমনাগমন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পদ্মা সেতু উদ্বোধন, আসন্ন রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে কেউ যেন কোন ধরনের নাশকতা করতে না পারে তা প্রতিরোধে আবাসিক হোটেল ও মেসে তল্লাশি জোরদার করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে যেসব এলাকায় গরুর হাট বসবে সেসব স্থানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। গরুর হাটকে কেন্দ্র করে কোন ধরনের চাঁদাবাজিসহ অনাকাঙ্খিত ঘটনা যেন না ঘটে সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

ঢাকা মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা বিধানসহ ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এ মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় শ্রেষ্ঠ পুলিশ অফিসারদের পুরস্কৃত করেন ডিএমপি কমিশনার।

মে মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপির ৮টি ক্রাইম বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে তেজগাঁও বিভাগ ও শ্রেষ্ঠ থানা হয়েছে মোহাম্মদপুর থানা।

সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে (এসি) প্রথম হয়েছেন তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের এসি মুজিব আহম্মেদ পাটওয়ারী। পুলিশ পরিদর্শক তদন্তদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন দক্ষিণখান থানার আজিজুল হক। আর শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস্) নির্বাচিত হয়েছেন পল্লবী থানার উদয় কুমার মন্ডল।

শ্রেষ্ঠ এসআই যৌথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন পল্লবী থানার মো. সাইফুল ইসলাম ও চকবাজার মডেল থানার কৃষ্ণ পদ মজুমদার। শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার হয়েছেন পল্লবী থানার এসআই মো. সাইফুল ইসলাম। শ্রেষ্ঠ এএসআই যৌথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন পল্লবী থানার হরিদাস রায় ও মতিঝিল থানার মো. হেলাল উদ্দিন।

বিস্ফোরক উদ্ধার করে প্রথম হয়েছেন চকবাজার মডেল থানার এসআই কৃষ্ণ পদ মজুমদার। মাদক উদ্ধার করে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন পল্লবী থানার এসআই তারিক উর রহমান শুভ। শ্রেষ্ঠ অস্ত্র উদ্ধারকারী অফিসার হয়েছেন উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আয়াসিন গাজী। চোরাই গাড়ি উদ্ধার করে প্রথম হয়েছেন মিরপুর মডেল থানার এসআই কাজী মো. খোকন মিয়া।

৯টি গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগ। শ্রেষ্ঠ টিম লিডার হয়েছেন গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মিরপুর বিভাগের মিরপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম। মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন ডিবি তেজগাঁও বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার রাজন কুমার সাহা।

অস্ত্র উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন তেজগাঁও বিভাগের তেজগাঁও জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাহাদত হোসেন সুমা এবং চোরাই গাড়ি উদ্ধার করে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন ডিবি গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এস, এম রেজাউল হক।

৮টি ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছে লালবাগ বিভাগ। ট্রাফিক বিভাগের শ্রেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (এসি) হয়েছেন কোতয়ালী জোনের বিমান কুমার দাস। আর শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর নির্বাচিত হয়েছেন শাহবাগ জোনের শাহ মো. লুৎফুল আনাম। শ্রেষ্ঠ সার্জেন্ট/টিএসআই যৌথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেরেবাংলানগর জোনের সার্জেন্ট মো. শাহাদত হোসেন ও রমনা জোনের সার্জেন্ট মফিজুর রহমান।

এছাড়াও ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস্ বিভাগসহ সাতটি বিভিন্ন বিভাগ ও পদ মর্যাদার ১২০ জন অফিসার এবং ফোর্সকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x