গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন লক্ষ্যণীয় উল্লেখ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেই রূপান্তরের গর্বিত অংশীদার।

তিনি বলেন, আমরা আগামী ৫০ বছর এবং তারপরও বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ইন্দো-প্যাসিফিক বিজনেস ফোরাম ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্যানেলে ‘মবিলাইজিং ইনফ্রাস্টাক্চার ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ অ্যান্ড দ্য ইন্দো-প্যাসিফিক’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্যে এসব বলেন।

হাস বলেন, গত পঞ্চাশ বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, জ্বালানি, পরিবেশ, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং এ ধরনের আরো অনেক সমস্যা মোকাবিলায় আট বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ প্রদান করে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা আরো দক্ষ লজিস্টিক সিস্টেম তৈরি করতে এবং ক্লিন এনার্জি, বন্দর এবং রেলওয়ের মতো ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগ আনতে প্রযুক্তিগত সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে কাজ করছি।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘কিন্তু উচ্চ-মানের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য কেবলমাত্র আর্থিক বিনিয়োগই না, এর চেয়েও বেশি কিছু লাগে। এ জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতি কাঠামো, নিয়ন্ত্রক পরিবেশ এবং ব্যক্তিগত বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য প্রকল্প গঠনের জন্য মানব ক্ষমতা সমর্থন করার জন্য কাজ করা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ইতিবাচক প্রভাব নিশ্চিত করতে এর জন্য শক্তিশালী প্রকৌশল, পরিবেশগত, সামাজিক, শাসন ও শ্রমের মান প্রয়োজন।

হাস বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক জুড়ে অবকাঠামোর চাহিদা পূরণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়নের বিকল্প প্রয়োজন।

মার্কিন দূত বলেন, ‘কোনো দেশ একা চলতে পারে না। সে কারণেই ২০২২ সালের জুনে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ঘোষণা করেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্টের অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করার লক্ষ্য নিয়েছেন।’

হাস বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সর্বদা বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নয়ন অর্থায়নের শক্তিশালী সমর্থক।

তিনি বলেন, শেভরন, জিই ও এক্সেলরেটের মতো কোম্পানির বিনিয়োগ বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য ভালো চাকরি তৈরি করে এবং বাংলাদেশি জনগণকে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহে সহায়তা করে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের বিভিন্ন মানুষের কাছে উচ্চ-গতির ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণের জন্যও কাজ করছে।

উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, মার্কিন কোম্পানি সাবকম বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির কাছ থেকে পরবর্তী সমুদ্রের তলদেশে যোগাযোগের তার নির্মাণ করবে।

তিনি বলেন, ‘স্পেসএক্সের স্টারলিঙ্কের মতো উদ্ভাবনী পণ্যগুলো বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক জুড়ে নির্ভরযোগ্য উচ্চ-গতির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট অ্যাক্সেস সরবরাহ করতে সহায়তা করতে পারে।’

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, এই প্রযুক্তিগুলো বাংলাদেশের বিশাল ডিজিটাল ব্যবহারকারীর ভিত্তিকে সমর্থন করতে এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণে সহায়তা করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x