ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সচিবের অনুপস্থিতিতে অচল ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রম পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি পুরোপুরি নেতিবাচক নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী সোনারগাঁয়ে জামায়াত কর্মীর বাসায় হামলা ও ভাঙচুর, আহত ৩ সিরাজদিখানে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ড দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বিএভিএস ও চট্টগ্রাম এলজিইডি কার্যালয়ে দুদকের অভিযান তাহিরপুর উপজেলা নির্বাচন চেয়ারম্যান পদে মিটু রঞ্জন পালের প্রার্থীতা ঘোষণা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে হুইপ হলেন শরীয়তপুর-৩ আসনের এমপি মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হতে চান শিল্পী রেজা, তৃণমূল থেকে বাড়ছে সমর্থন হাজারো যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা, খোঁজ নিলেন তারেক রহমান

বাবার ‘আদেশে’ এক ভাইয়ের চোখ তুলে নিলেন অপর দুই ভাই

সাংবাদিক

বরিশালের মুলাদীতে গচ্ছিত রাখা টাকা ও স্বর্ণালংকার ফেরত চাওয়ায় বাবার আদেশে দুই ভাই মিলে এক ভাইয়ের দুই চোখ তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের সাহেবেরচর গ্রামের আশেদ ব্যাপারীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী রিপন বেপারী (৩৬) আশেদ ব্যাপারীর সেজো ছেলে। মেজো ছেলে রোকন ব্যাপারী ও ছোট ছেলে স্বপন ব্যাপারী মিলে তার দুই চোখ উপড়ে ফেলেছে।

রিপন বেপারীর ছেলে আব্দুর রহমান জানান, তার বাবা, চাচা রোকন ব্যাপারীর কাছে গচ্ছিত রাখা ৩৫ লাখ টাকা ও ২০ ভরি স্বর্ণালংকার ফেরত চেয়েছিলেন। এ কারণে তারা তাকে মারধর করে চোখ উপড়ে ফেলেছে।

মুলাদী থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে দুই ভাই মিলে রিপন ব্যাপারী নামে একজনের দুই চোখ উপড়ে নিয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহত রিপনকে উদ্ধার করে গৌরনদীর আশুকাঠি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঠান চিকিৎসক। অবস্থার আরও অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা জাতীয় চক্ষু ইনস্টিটিউটের ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন।

ছেলে আব্দুর রহমান জানান, মঙ্গলবার তার বাবা ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। তিনি মেজো ভাই রোকন ব্যাপারীর কাছে টাকা চান। কিন্তু তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। রাত ১১টার দিকে রিপন বাড়ি ফিরলে আবার তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে দাদা আশেদ ব্যাপারী ক্ষিপ্ত হয়ে রিপনকে মারধর করে চোখ তুলে ফেলার নির্দেশ দেন। বাবার নির্দেশ পেয়ে রোকন ও স্বপন মিলে রিপনকে মারধর করে এবং দুই চোখ সমূলে উৎপাটন করে তার বাবার হাতে তুলে দেন।

রিপনের ডাকচিৎকারে পার্শ্ববর্তী বাড়ির লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। অপরদিকে আশেদ ব্যাপারী, রোকন ও স্বপন ব্যাপারী বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০১:০৯:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
১০২৯ Time View

বাবার ‘আদেশে’ এক ভাইয়ের চোখ তুলে নিলেন অপর দুই ভাই

আপডেটের সময় : ০১:০৯:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

বরিশালের মুলাদীতে গচ্ছিত রাখা টাকা ও স্বর্ণালংকার ফেরত চাওয়ায় বাবার আদেশে দুই ভাই মিলে এক ভাইয়ের দুই চোখ তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের সাহেবেরচর গ্রামের আশেদ ব্যাপারীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী রিপন বেপারী (৩৬) আশেদ ব্যাপারীর সেজো ছেলে। মেজো ছেলে রোকন ব্যাপারী ও ছোট ছেলে স্বপন ব্যাপারী মিলে তার দুই চোখ উপড়ে ফেলেছে।

রিপন বেপারীর ছেলে আব্দুর রহমান জানান, তার বাবা, চাচা রোকন ব্যাপারীর কাছে গচ্ছিত রাখা ৩৫ লাখ টাকা ও ২০ ভরি স্বর্ণালংকার ফেরত চেয়েছিলেন। এ কারণে তারা তাকে মারধর করে চোখ উপড়ে ফেলেছে।

মুলাদী থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে দুই ভাই মিলে রিপন ব্যাপারী নামে একজনের দুই চোখ উপড়ে নিয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহত রিপনকে উদ্ধার করে গৌরনদীর আশুকাঠি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঠান চিকিৎসক। অবস্থার আরও অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা জাতীয় চক্ষু ইনস্টিটিউটের ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন।

ছেলে আব্দুর রহমান জানান, মঙ্গলবার তার বাবা ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। তিনি মেজো ভাই রোকন ব্যাপারীর কাছে টাকা চান। কিন্তু তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। রাত ১১টার দিকে রিপন বাড়ি ফিরলে আবার তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে দাদা আশেদ ব্যাপারী ক্ষিপ্ত হয়ে রিপনকে মারধর করে চোখ তুলে ফেলার নির্দেশ দেন। বাবার নির্দেশ পেয়ে রোকন ও স্বপন মিলে রিপনকে মারধর করে এবং দুই চোখ সমূলে উৎপাটন করে তার বাবার হাতে তুলে দেন।

রিপনের ডাকচিৎকারে পার্শ্ববর্তী বাড়ির লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। অপরদিকে আশেদ ব্যাপারী, রোকন ও স্বপন ব্যাপারী বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।