ঢাকা , শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বিশ্বকাপ জিতে গেল ভারত! ১২ তারিখেই নির্বাচন হবে: ইনকিলাব মঞ্চ ইনকিলাব মঞ্চকে ছত্রভঙ্গ করে শাহবাগে পুলিশের অবস্থান রাণীশংকৈলে সাড়ম্বরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত। সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে হেমায়েতপুর আর্মি ক্যাম্প কাতার প্রবাসীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সৌন্দর্য ও রূপচর্চায় সচেতনদের জন্য কাতারে যাত্রা শুরু করেছে নিউ আনন্দ চার ভাই সেলুন জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক: বঙ্গভবনের কর্মকর্তা আটক শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামানের ইন্তেকাল বিসিবিতে জমা পড়ল জাহানারার যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রতিবেদন আমি নির্বাচিত হলে দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াবো”- রাণীশংকৈলে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মিজানুর রহমান।

বাবার ‘আদেশে’ এক ভাইয়ের চোখ তুলে নিলেন অপর দুই ভাই

সাংবাদিক

বরিশালের মুলাদীতে গচ্ছিত রাখা টাকা ও স্বর্ণালংকার ফেরত চাওয়ায় বাবার আদেশে দুই ভাই মিলে এক ভাইয়ের দুই চোখ তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের সাহেবেরচর গ্রামের আশেদ ব্যাপারীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী রিপন বেপারী (৩৬) আশেদ ব্যাপারীর সেজো ছেলে। মেজো ছেলে রোকন ব্যাপারী ও ছোট ছেলে স্বপন ব্যাপারী মিলে তার দুই চোখ উপড়ে ফেলেছে।

রিপন বেপারীর ছেলে আব্দুর রহমান জানান, তার বাবা, চাচা রোকন ব্যাপারীর কাছে গচ্ছিত রাখা ৩৫ লাখ টাকা ও ২০ ভরি স্বর্ণালংকার ফেরত চেয়েছিলেন। এ কারণে তারা তাকে মারধর করে চোখ উপড়ে ফেলেছে।

মুলাদী থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে দুই ভাই মিলে রিপন ব্যাপারী নামে একজনের দুই চোখ উপড়ে নিয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহত রিপনকে উদ্ধার করে গৌরনদীর আশুকাঠি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঠান চিকিৎসক। অবস্থার আরও অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা জাতীয় চক্ষু ইনস্টিটিউটের ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন।

ছেলে আব্দুর রহমান জানান, মঙ্গলবার তার বাবা ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। তিনি মেজো ভাই রোকন ব্যাপারীর কাছে টাকা চান। কিন্তু তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। রাত ১১টার দিকে রিপন বাড়ি ফিরলে আবার তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে দাদা আশেদ ব্যাপারী ক্ষিপ্ত হয়ে রিপনকে মারধর করে চোখ তুলে ফেলার নির্দেশ দেন। বাবার নির্দেশ পেয়ে রোকন ও স্বপন মিলে রিপনকে মারধর করে এবং দুই চোখ সমূলে উৎপাটন করে তার বাবার হাতে তুলে দেন।

রিপনের ডাকচিৎকারে পার্শ্ববর্তী বাড়ির লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। অপরদিকে আশেদ ব্যাপারী, রোকন ও স্বপন ব্যাপারী বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০১:০৯:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
৯৭৫ Time View

বাবার ‘আদেশে’ এক ভাইয়ের চোখ তুলে নিলেন অপর দুই ভাই

আপডেটের সময় : ০১:০৯:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

বরিশালের মুলাদীতে গচ্ছিত রাখা টাকা ও স্বর্ণালংকার ফেরত চাওয়ায় বাবার আদেশে দুই ভাই মিলে এক ভাইয়ের দুই চোখ তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের সাহেবেরচর গ্রামের আশেদ ব্যাপারীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী রিপন বেপারী (৩৬) আশেদ ব্যাপারীর সেজো ছেলে। মেজো ছেলে রোকন ব্যাপারী ও ছোট ছেলে স্বপন ব্যাপারী মিলে তার দুই চোখ উপড়ে ফেলেছে।

রিপন বেপারীর ছেলে আব্দুর রহমান জানান, তার বাবা, চাচা রোকন ব্যাপারীর কাছে গচ্ছিত রাখা ৩৫ লাখ টাকা ও ২০ ভরি স্বর্ণালংকার ফেরত চেয়েছিলেন। এ কারণে তারা তাকে মারধর করে চোখ উপড়ে ফেলেছে।

মুলাদী থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে দুই ভাই মিলে রিপন ব্যাপারী নামে একজনের দুই চোখ উপড়ে নিয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহত রিপনকে উদ্ধার করে গৌরনদীর আশুকাঠি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঠান চিকিৎসক। অবস্থার আরও অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা জাতীয় চক্ষু ইনস্টিটিউটের ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন।

ছেলে আব্দুর রহমান জানান, মঙ্গলবার তার বাবা ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। তিনি মেজো ভাই রোকন ব্যাপারীর কাছে টাকা চান। কিন্তু তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। রাত ১১টার দিকে রিপন বাড়ি ফিরলে আবার তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে দাদা আশেদ ব্যাপারী ক্ষিপ্ত হয়ে রিপনকে মারধর করে চোখ তুলে ফেলার নির্দেশ দেন। বাবার নির্দেশ পেয়ে রোকন ও স্বপন মিলে রিপনকে মারধর করে এবং দুই চোখ সমূলে উৎপাটন করে তার বাবার হাতে তুলে দেন।

রিপনের ডাকচিৎকারে পার্শ্ববর্তী বাড়ির লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। অপরদিকে আশেদ ব্যাপারী, রোকন ও স্বপন ব্যাপারী বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।