রাজশাহী ব্যুরো :- সাফারি পার্ক তৈরীসহ রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) অন্তত ১০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করতে চায় এই বিনোদন কেন্দ্রটিকে ঘিরে। এ জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে। আর তা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যেই রাসিক মাটি ভরাটের কাজও শুরু করে দিয়েছে।

রাসিক সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানাটিকে ‘স্পেশাল বার্ড জোন ও শিশু পার্ক’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রাসিকের। আর নগরীর উপকণ্ঠ আমচত্বর এলাকায় একটি সাফারি পার্ক করারও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সাফারি পার্ক হলে চিড়িয়াখানার বড় প্রাণীগুলোকে সেখানে সরিয়ে নেয়া হবে। আর ছোট ছোট প্রাণী এবং পাখি থাকবে সিটি করপোরেশন পরিচালিত এই কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায়।

করোনার প্রাদুর্ভাবে সরকারের বিধিনিষেধের কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানাটি একাধিকবার বন্ধ হয়েছে, খুলেছেও। তবে সবশেষ করোনার ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণে এটি বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ থাকার কারণে তখনই চিড়িয়াখানার ভেতরে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে বিধিনিষেধ উঠে গেলেও মাটি ভরাটের কাজ চলমান আছে তাই চিড়িয়াখানাটি আর খোলা হয়নি।

কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, ভেতরের প্রায় প্রতিটি স্থানেই নতুন করে মাটি তোলা হয়েছে। এ জন্য চলাচলের রাস্তাও হারিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে নতুন অফিস কক্ষ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে দর্শনার্থী প্রবেশ।

চিড়িয়াখানার সামনের খেলনার দোকানী সোনা মিয়া বললেন, দর্শনার্থীরা এখনও আসেন বলেই চিড়িয়াখানার সামনে তিনি খেলনার দোকান খোলেন। চটপটি-ফুচকার দোকানও খোলে। অনেক দর্শনার্থী এসে চিড়িয়াখানায় ঢুকতে না পেরে ফিরে যান। কিছুক্ষণ আগে নওগাঁ থেকে আসা পিকনিকের একটি বাসও ফিরে যেতে দেখেছেন তিনি।

তবে রাসিক বলছে, আরও দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে চিড়িয়াখানা খোলার কোনো সম্ভাবনা নেই। চিড়িয়াখানার ভেটেরিনারি সার্জন ও তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরহাদ হোসেন বলেন, করোনাকালে চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকায় উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে। ভেতরের সবদিকটাই রাস্তার চেয়ে নিচু। তাই সবখানে মাটি ভরাট করতে হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, চিড়িয়াখানাটিকে একেবারে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এখনকার প্রাণী শেডগুলো প্রাণীবান্ধব নয়। সব শেডই নতুন করে করা হবে। আর রাজশাহীতে একটি সাফারি পার্ক করারও পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তুত করে রাসিক মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। সেই সাফারি পার্কটি হলে চিড়িয়াখানার বড় প্রাণীগুলোকে সেখানে স্থানান্তর করা হবে। আর পাখি এবং ছোট প্রাণীগুলো থাকবে চিড়িয়াখানায়। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময় লাগবে।

রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী শরিফুল হক জানান, কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় অন্তত ১০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ জন্য একজন আর্কিটেক্ট সবকিছু দেখে প্রকল্প প্রস্তুত করেছেন। প্রকল্প অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আর চিড়িয়াখানায় এখন যেসব কাজ চলছে, সেগুলো দু-তিন মাসের মধ্যে শেষ হবে। তারপর চিড়িয়াখানাটি দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x