রাহাত মামুন
চট্টগ্রাম (রাঙ্গুনিয়া) সংবাদদাতা

ভারীবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গেছে রাউজানের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। এসনকি বসতঘর, ফসলি জমি রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে, আবার খাল বিলের পানিতে মাছ ধরতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় উৎসুক জনতা। খাল-বিলে জাল, নানা ফাঁদ ফেলে নানা প্রজাতির মাছ ধরতে দেখা গেছে।

গতকাল সকাল থেকে পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় পৌরসভার জানালী হাট এলাকায় ডাবুয়া খালের পাড় ভেঙে মানুষের বাড়ি ও দোকান ঘরে হাঁটুসমান পানি প্রবেশ করছে। এদিকে রাউজান পৌরসভার দায়ারঘাটা এলাকায় গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গেছে পানির নিচে। রাউজান পৌর সদরের থানা রোডে হাঁটু পানিতে মানুষ চলাচল করতে দেখা গেছে। এছাড়া ৭ নম্বর রাউজান সদর ইউনিয়নের কেউটিয়া এলাকার একটি খালের পাড় ধসে বন্যার পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে। ভেসে গেছে বহু পুকুর ও ডোবার মাছ।

রাউজান জলিলনগর-পাহাড়তলী হাফেজ বজলুর রহমান সড়কে নির্মাণাধীণ কালভার্টের পাশে নির্মিত বিকল্প সড়ক ভেঙে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে যানবাহন চলাচল। ওই ইউনিয়নের কেউটিয়া, খলিলাবাদসহ পৌর এলাকার হাজীপাড়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানির সাথে খাল, নদীর জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পশ্চিম গুজরা, নোয়াপাড়া, উরকিরচর, বিনাজুরী ইউনিয়নের নিচু এলাকা ডুবে গেছে। গ্রামীণ রাস্তার উপর দিয়ে পানি গড়াচ্ছে।

এছাড়া রাউজান পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের থানা সড়কের উপর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। একই ওয়ার্ডের ঢেউয়াপাড়ায় চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের পাশে পানি চলাচলের নালা ভেঙে প্রবল স্রোতে সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জানালী হাট এলাকায় ডাবুয়া খালের পানি বেড়ে বসতঘর, একাধিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পৌর এলাকার ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে পানির নিচে তলিয়ে গেছে অভ্যন্তরীণ সড়ক। কদলপুর ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল বৃষ্টির পানিতে ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুস সামাদ সিকদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাউজানে ঝুম বৃষ্টি হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।’

এদিকে রাউজানের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর জরুরি নির্দেশনায় বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন পৌর মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ।
পৌর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জলিলনগর, ঢেউয়াপাড়া, সাপলঙ্গা, দলিলাবাদ, ফকিরহাট বাজারের জলাবদ্ধতা নিরসনে কাশখালি খাল, সূর্যখোলা বিলের প্রতিবন্ধকতা অপসারণে কাজ করার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x