মুন্সীগঞ্জে বসতঘরে মা ও মেয়েকে জবাই করে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ভাড়া বাসার একটি বসতঘর থেকে মা ও তার ৯ বছর বয়সী কন্যার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাধানগর এলাকায়, ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার পেছনে অবস্থিত একটি টিনের ঘর থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন, আমেনা বেগম (৩২) এবং তার কন্যা মরিয়ম (৯)। তারা সিরাজদিখান উপজেলার নয়ানগর এলাকার বাসিন্দা। আমেনা বেগম তার স্বামী মিজানকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজানগরের মধ্য রাধানগর এলাকায় নুরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
পুলিশ জানায়, সোমবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে স্থানীয় লোকজন ঘরের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করলে মেঝেতে পড়ে থাকা মা ও মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে সিরাজদিখান থানা পুলিশ ও শেখরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সোমবার ভোর রাত আনুমানিক ২টা থেকে সকাল ১০টার মধ্যে যেকোনো সময় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। নিহতদের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের একাধিক চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চৌকোনা কাঠের খণ্ডও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ মরদেহ দুটির সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন,
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। নিহত আমেনা বেগমের স্বামী মিজান ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।




















