সাভারে অটো রিক্সার বেপরোয়া চলাচল
সরেজমিনে দেখা যায়, বাইপাইল, জিরাবো, নরসিংহপুর, জামগড়া, আশুলিয়া বাজার ও হেমায়েতপুর এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নিষিদ্ধ অটোরিক্সা। বাস-ট্রাকের মতো ভারী যানবাহনের মাঝেই হঠাৎ লেন বদল, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা ও উল্টো পথে চলাচলের কারণে প্রায়ই সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা; আহত হচ্ছেন পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীরা।
স্থানীয় বাসচালক আব্দুল কাদের বলেন, “মহাসড়কে অটোরিক্সা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে কেউ মানছে না। হঠাৎ সামনে এসে পড়লে ব্রেক কষতে হয়, যাত্রীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।” একই অভিযোগ করেন ট্রাকচালকরা। তাদের মতে, রাতে আলো স্বল্পতায় এসব অটোরিক্সা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
পথচারী ও যাত্রীদের অভিযোগ, অটোরিক্সাগুলো মহাসড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে, ফলে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। আশুলিয়ার এক গার্মেন্টসকর্মী রিনা আক্তার বলেন, “অফিসে যাওয়ার সময় প্রতিদিন দেরি হয়। বাসে উঠতে পারি না, রাস্তাজুড়ে অটোরিক্সা। দুর্ঘটনার ভয় নিয়েই চলতে হয়।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অটোরিক্সাচালক জানান, বিকল্প সড়কে যাত্রী কম থাকায় বাধ্য হয়েই মহাসড়কে নামছেন তারা। তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন—জীবিকার অজুহাতে জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা কতটা যুক্তিযুক্ত?
আইন অনুযায়ী, মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা চলাচল নিষিদ্ধ। তবুও নিয়মিত অভিযান না থাকায় বা অভিযান শুরুর পর কিছুদিন পরই শিথিল হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে অভিযোগ। স্থানীয়রা বলছেন, মাঝেমধ্যে অভিযান হলেও তা স্থায়ী সমাধান দিচ্ছে না; কয়েক ঘণ্টা বা এক-দু’দিন পরই আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
এ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “মহাসড়কে নিষিদ্ধ যান চলাচল বন্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে জনবল সংকট ও বিকল্প সড়কের অভাবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ কঠিন।” তিনি আরও জানান, সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিকল্প সড়ক নির্ধারণ, লাইসেন্স ও রুট ব্যবস্থাপনা, পাশাপাশি ধারাবাহিক অভিযান ও জরিমানার মাধ্যমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি। অন্যথায়, সাভার-আশুলিয়ার মহাসড়কে নিষিদ্ধ অটোরিক্সার দাপট আরও ভয়াবহ আকার নেবে—বাড়বে দুর্ঘটনা, বাড়বে জনদুর্ভোগ।
এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মহাসড়কের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধই থেকে যাবে—এমনটাই বলছেন এলাকাবাসী।
























