ফরাসি বার্তা সংস্থা এজেন্সি ফ্রান্স প্রেস (এএফপি)-র পর এবার ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (বিবিসি)-ও দেশের আলোচিত-সমালোচিত সামাজিক গণমাধ্যম তারকা হিরো আলমকে ডেকে নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের গান না গাইতে পুলিশের মুচলেকা নেওয়ার ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে।

বিবিসি ওয়ার্ল্ড টেলিভিশনে ইংরেজি বিবরণসহ এই সংবাদ প্রচারিত হয়। যেখানে হিরো আলমের একাধিক গানের অংশও দেখানো হয়।

কখনো জংলি সেজে আফ্রিকার ভাষায় গান, ইংরেজি ভাষায় টাইটানিকের সেই বিখ্যাত গান কিংবা মরুভূমির ওপর আরব শেখের সাজে আরবি ভাষায় গান। উদ্ভট সব কর্মকাণ্ড করে প্রায়ই লাইম লাইটে আসেন বগুড়ার আশরাফুল আলম।

সম্প্রতি তিনি আলোচনায় এসেছেন বেসুরো গলায় রবীন্দ্রসংগীত গেয়ে। এসবের মাধ্যমেই সবার কাছে হিরো আলম পরিচিতি পেয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়া স্টার হিসেবে।

সম্প্রতি বিকৃতভাবে গান গাওয়ার অভিযোগে হিরো আলমকে ডাকে ডিএমপির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। সেখানে তাকে নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর থেকেই নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে তার নাম।

হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন হিরো আলম। একে একে এএফপি, আরব নিউজ, খালিজ টাইমস, ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর, বিবিসি ওয়ার্ল্ড গুরুত্বের সঙ্গে সংবাদ প্রচার করে।

বিবিসি বাংলা বিভাগ হিরো আলমকে নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করে। সেটি বিবিসি ওয়ার্ল্ড টেলিভিশনেও ইংরেজি বিবরণসহ প্রচারিত হয়। যেখানে হিরো আলমের একাধিক গানের অংশও দেখানো হয়।

ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর হিরো আলম তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রোফাইলে কারাগারের পোশাক পরা একটি ভিডিও আপলোড করেন। তার নিজস্ব স্টাইলে সেই ভিডিওতে এটাও জানান, তার ফাঁসি হতে চলেছে।

বিদেশি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তার ওপর মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে ঢাকার উপ-পুলিশ কমিশনার ফারুক হোসাইন এএফপিকে বলেন, ভাইরাল হওয়ার জন্যই সে এসব করছে।

ঢাকার গোয়েন্দা প্রধান হারুন অর রশীদ এএফপিকে জানান, সে তার গানের জন্য এবং অনুমতি ছাড়া পুলিশের পোশাক পরার জন্য ক্ষমা চেয়েছে এবং পুলিশ তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পেয়েছে বলেও জানান তিনি।

সম্প্রতি তাকে পুলিশের পোশাক পরে রাস্তায় হিরোগিরী করতে দেখা যায়। তার সে সময়ের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে সমালোচনার শেষ নেই। এখানেই থেমে থাকেননি তারপর তাকে বেসুর গলায় রবীন্দ্রসংগীত গাইতে দেখা যায়। এরপর রবীন্দ্র সংগীত প্রেমীরা ক্ষেপে যায় তার ওপর।

উপরোক্ত কারণে তার বিরুদ্ধে মহানগর হাকিম আদালতে ২৯ নম্বর কোর্টে ৪৬১/২২ ধারায় মামলা করা হয়েছিল। মামলাটির তদন্ত করা হয়েছিল রাজধানীর হাতিরঝিল থানায়।

অনুমতি ছাড়া পুলিশের ড্রেস পরে ঘুরে বেড়ানো এবং রবীন্দ্র সংগীতসহ সংস্কৃতি বিকৃতি করার অভিযোগে হিরো আলমকে ডেকেছিল ডিবি পুলিশ। গত ২৭ জুলাই বেলা ১১টা থেকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় হিরো আলমকে।

তবে, হিরো আলম বলেন, গত ২৭ জুলাই পুলিশ সকাল ৬টায় আমাকে তুলে নিয়ে সেখানে আট ঘণ্টা আটকে রাখে। তারা আমাকে জিজ্ঞেস করে আমি কেন রবীন্দ্র ও নজরুলের গান গাই।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ আমাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করেছে। ক্লাসিক্যাল গান না গাইতে নিয়েছে মুচলেকা। তারা বলেছে, আমি নাকি দেখতে কুৎসিত। আমি নায়ক হই কী করে। তারা আমার নাম থেকে হিরো বাদ দিতে বলছে।

ঢাকার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ফারুক হোসেন, হিরো আলমের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এএফপিকে বলেন, শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার জন্যই তিনি এসব মন্তব্য করছেন।

শুক্রবার বিকেলে হিরো আলম বলেন, আমার সঙ্গে বিদেশি মিডিয়া থেকে যোগাযোগ করছে। আমার সঙ্গে যা ঘটছে, আমি তাই বলেছি। আমি আসলে ভাইরাল হতে চাই না, শান্তিতে থাকতে চাই। আমার সঙ্গে যা হয়েছে অন্যায় হয়েছে বলে আমি মনে করি।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিরো আলম বলেন, ‌‘আমি যদি কথা বলতে বা গান গাইতে না পারি তাহলে এটা অবশ্যই আমার অধিকারের লঙ্ঘন’।

এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিরো আলম বলেন, ‘জীবনে আমার শখ ছিল অভিনেতা হওয়ার। গান গাওয়ার ইচ্ছা আমার ছিল না। আমি জানি আমি ভালো গাইতেও পারি না। কিন্তু ভালো সঙ্গীতশিল্পীরা আমার সঙ্গে কাজ করতে চাননি। তাদের গান আমি আমার চলচ্চিত্র ও চ্যানেলে ব্যবহার করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা দেননি। কেউ দিতে চাইলেও মানা করে দিয়েছেন। কারণ হিরো আলমকে গান দিলে স্ট্যাটাস থাকবে না। তাই বাধ্য হয়েই আমাকে গাইতে হয়েছে’।

হিরো আলমকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার এসব খবরের শিরোনাম ও ফুটেজ নেটদুনিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। যা ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।সূত্র-দেশ রূপান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x