চার বছরের প্রতীক্ষার পালা শেষ করে অ্যা মাত্র কদিন পরেই কাতারে বসতে চলেছে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আসর। এদিকে এর মাঝেই আবার শুরু হয়ে গেছে আরও চার বছর পর ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের পরের আসর নিয়ে। অনেক আগেই জানা ছিলো ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে রয়েছে তিনটি দেশ। আসলে তিন দেশ না বলে এক উত্তর আমেরিকা মহাদেশও বলা যায়।

২০২৬ সালে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর বসবে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা আর মেক্সিকোতে। বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজন অবশ্য এই প্রথম নয়, এর আগে ২০০২ বিশ্বকাপে এশিয়ার দুই দেশ জাপান আর দক্ষিণ কোরিয়া মিলে আইয়োজন করেছিলো বিশ্বকাপ। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো আয়োজক হিসেবে যৌথভাবে রয়েছে তিন দেশ। আরেকটি নতুনত্বও থাকবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের আসরে, আতদিন ধরে ৩২ দলের বিশাকাপ আয়োজন হলেও ২০২৬ সালে থেকে বিশ্বকাপের মূল আসরে অংশ নেবে ৪৮টি করে দল।

এতোসব জল্পনা-কল্পনার ভেতরেই বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বাগতিক তিন দেশের ১৬টি আয়োজক শহরের নাম প্রকাশ করলো বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

আয়োজক শহরগুলোর মধ্যে এক যুক্তরাষ্ট্রেরই রয়েছে ১১টি শহর। এছাড়া প্রথমবার বিশ্বকাপের আয়োজক হতে যাওয়া কানাডার রয়েছে দুটি শহর। আর মেক্সিকোর আছে তিনটি শহর। এর আগে ১৯৮৬ সালে প্রথম ও শেষবার বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিলো মেক্সিকো। আর ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক ছিলো যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই দুবারই এককভাবে আয়োজন করলেও এবারই উত্তর আমেরিকারতিন দেশ মিলে একত্রে আয়োজন করতে চলেছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদার এই আসরের। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র আর মেক্সিকোর পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলেও কানাডার মাটিতে এবারই প্রথম বসতে চলেছে বিশ্বকাপের আসর।

চলুন দেখে নেয়া যাক তিন দেশের ১৬টি আয়োজক শহর আর স্টেডিয়ামের নাম:

যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্ক/ নিউজার্সি (মেটলাইফ স্টেডিয়াম)

আটলান্টা (মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম)

মায়ামি (হার্ড রক স্টেডিয়াম)

বোস্টন (জিলেট স্টেডিয়াম)

ফিলাডেলফিয়া (লিঙ্কন ফিন্যান্সিয়াল স্টেডিয়াম)

হিউস্টন (এনআরজি স্টেডিয়াম)

লস অ্যাঞ্জেলস (সোফি স্টেডিয়াম)

সান ফ্রান্সিসকো বে (লিভাইস স্টেডিয়াম)

সিয়াটল (লুমেন ফিল্ড স্টেডিয়াম)

ডালাস (এটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়াম)

কানসাস সিটি (অ্যারোহেড স্টেডিয়াম)
কানাডা

টরন্টো (বিএমও ফিল্ড) ভ্যাঙ্কুভার (বিসি প্লেস)

মেক্সিকো

মেক্সিকো সিটি (এস্তাদিও আজতেকা)

মন্তেরেই (এস্তাদিও বিবিভিএ বানকোমার)

গুয়াদালাহারা (এস্তাদিও আকরোন)
যুক্তরাষ্ট্রের ১১ ভেন্যুতে আয়োজিত হবে মোট ৬০ ম্যাচ, মেক্সিকো আর কানাডার ভেন্যুগুলোর প্রত্যেকে আয়োজন করবে ১০টি করে ম্যাচ। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে পাঁচটি শহরের মোট আটটি ভেন্যুতে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে ১৬টি দেশ বাড়িয়ে ৪৮ দলের মধ্যে হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই শহর আর ভেন্যুর পরিমাণ বেড়েছে।

স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে যুক্তরাষ্ট্র, কানাদা আর মেক্সিকোর বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলা তো ইতোমধ্যেই নিশ্চিত। বিশকাপের মূল পর্বে যেতে বাকি থাকা ৪৫টি স্পটের জন্য বাছাই পর্বে লড়বে পুরো বিশ্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x