নিজস্ব প্রতিবেদক:

টিভি, গাড়ির পার্টস ও গার্মেন্টস পণ্যের আড়ালে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মদের ব্যবসা করছিল একটি চক্র। চক্রটির মূল হোতা আজিজুল ইসলাম ও তাঁর দুই ছেলে আহাদ ও আশিক। শনিবার প্রায় ৩৭ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ৩৭ হাজার বোতল বিদেশি মদ ও কোটি টাকা মূল্যের দেশি ও বিদেশি মুদ্রাসহ আহাদ ও তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও ও রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩৬ হাজার ৮১৬ বোতল বিদেশি মদ এবং বিপুল পরিমাণ নগদ দেশি এবং বিদেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়েছে।  গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, আব্দুল আহাদ (২২), মো. নাজমুল মোল্লা (২৩) ও মো. সাইফুল ইসলাম (৩৪)।

রবিবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানিয়েছেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, টিভি, গাড়ির পার্টস ও গার্মেন্টস পণ্যের আড়ালে একটি চক্র অবৈধভাবে মদ আমদানি করে আসছিল। শনিবার (২৩ জুলাই) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর টিপর্দিতে সালাউদ্দিন পার্কিং স্ট্যান্ড এর সামনে চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহজনক ঢাকাগামী বিভিন্ন মালবাহী ট্রাক এবং কন্টেইনারসহ টেইলার তল্লাশি শুরু করে। তল্লাশির একপর্যায়ে সন্দেহজনক দুইটি কন্টেইনার টেইলার তল্লাশি করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩৬ হাজার ৮১৬ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মদের নির্ধারিত মূল্য ৩১ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ভ্যাটসহ যার মূল্য ৩৬ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

আল মঈন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঢাকার ওয়ারীর একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ দেশি-বিদেশি মুদ্রা আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৮ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি টাকা, ১৫ হাজার ৯৩৫ নেপালি রুপি, ২০ হাজার ১৪৫ ভারতীয় রুপি, ১১ হাজার ৪৪৩ চায়না ইওয়ান, ৪ হাজার ২৫৫ ইউরো, ৭ হাজার ৪৪০ থাই বাথ, ৯ সিংগাপুর ডলার এবং ১৫ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত রয়েছে ।

আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা আহাদ এবং মিজানুর রহমান আশিক সহোদর। সিন্ডিকেটের মূল হোতা উভয়ের পিতা মো. আজিজুল ইসলাম। তারা ১ বছর যাবৎ এই অবৈধ কারবারের সঙ্গে জড়িত। তারা সি অ্যান্ড এফ (Custom clearing and forwarding agent) এর যোগসাজশের মাধ্যমে এই অবৈধ মাদক আমদানি কার্যক্রম করে থাকে। এই অবৈধ মাদক আমদানির ক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন কোম্পানির কাগজপত্র ব্যবহার করে। এই চক্রটি দেশে টিভি ও গাড়ির পার্টস ব্যবসার আড়ালে অবৈধ মাদকদ্রব্য বিপণন নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে।

আল মঈন আরও বলেন, অবৈধ মাদক বিদেশ থেকে আনার পরে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর, রাজধানীর বংশাল ও ওয়ারীতে ওয়্যার হাউসে রাখা হয়। পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে এই সকল অবৈধ মাদক বিপণন করে থাকে। ক্ষেত্র বিশেষে পরিবহনকৃত ট্রাক/কন্টেইনার হতে সরাসরি ক্রেতাদের নিকট সরবরাহ করে তারা।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক জানিয়েছেন, এ দেশে এত বড় অবৈধ বিদেশি মদের চালান এটাই প্রথম ধরা পড়ল। এর নেপথ্যে আর কেউ আছে কিনা তা তদন্ত করে বের করা হবে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x