ঢাকা , বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইজারা ছাড়াই চলছে দেবিদ্বারের ঐতিহ্যবাহী পোনরা মেলা লক্ষাধিক টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে পৌরসভা আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ বদ্ধপরিকর চাঁদপুর -৪ ফরিদগঞ্জ গুপ্টি ইউনিয়নে দিনব্যাপী চিংড়ি প্রতীকে গণসংযোগ করেন এম এ হান্নান ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি পাকিস্তানের বিশ্বকাপ খেলার সিদ্ধান্ত শুক্র অথবা সোমবার রাণীশংকৈলে বিএনপির  নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন। আজ সাংবাদিক শিহাব আহম্মেদর মায়ের ১১তম মৃত্যু বার্ষিকী সাভারে অটো রিক্সার বেপরোয়া চলাচল ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগে মুখর বাকিলা: রাধাসার–বোরখাল ভোটারদের নিয়ে জোটবদ্ধ মিছিল ও পথসভা ফরিদগঞ্জ বিভিন্ন ইউনিয়নে চিংড়ি প্রতীকের অফিস উদ্বোধন ও লিফলেট বিতরণ

ইজারা ছাড়াই চলছে দেবিদ্বারের ঐতিহ্যবাহী পোনরা মেলা লক্ষাধিক টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে পৌরসভা

শাহ্ আল-আমিন আমানত

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় ইজারা ছাড়াই চলছে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী পোনরা মেলা। প্রতি বছরের মতো এবারও বিপুল মানুষের সমাগম হলেও মেলাটি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ইজারা না দেওয়ায় লক্ষাধিক টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেবিদ্বার পৌরসভা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলা মাস অনুযায়ী প্রতি বছর পোনরা এলাকায় এই ঐতিহ্যবাহী মেলার আয়োজন করা হয়। মেলাকে ঘিরে অস্থায়ী দোকান, খেলনা, মিষ্টি, খাবার, নাগরদোলা ও বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা থাকলেও এবছর কোনো ধরনের সরকারি ইজারা ছাড়াই মেলাটি পরিচালিত হচ্ছে। তবে নামে মাত্র পৌর কতৃপক্ষের খাস কালেকশন নামে কিছু অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা হচ্ছে৷

পৌরসভা সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী এমন মেলা ইজারা দিয়ে পরিচালনা করা হলে পৌরসভার রাজস্ব খাতে উল্লেখযোগ্য অর্থ জমা হওয়ার কথা। কিন্তু ইজারা না হওয়ায় সরকার ও পৌরসভা উভয়ই রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রাথমিক হিসেবে এবছর মেলা থেকে অন্তত কয়েক লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব ছিল বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মেলায় দোকান বসাতে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে, কিন্তু সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। এতে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে স্বচ্ছতা নিয়েও উঠছে অভিযোগ।ছোটখাটো দোকান থেকেও প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে । তবে এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ ব্যবসায়ীরা।

মেলায় আয়োজক কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আতিক জানান,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভূমি স্যার বিষয়টি অবগত রয়েছে৷ পৌরসভার বাজার নিয়ন্ত্রক প্রতিদিন খাস কালেকশন করে৷

অন্যদিকে একটি গোপন সূত্রে জানা যায়,একটি মহল প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে৷ অন্যদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই রকম মেলা আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশংকা রয়েছে৷

এ বিষয়ে দেবিদ্বার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর জানান, এ বছর ইজারা দেওয়া হয়নি, তবে খাস কালেকশন হচ্ছে৷

সচেতন মহল মনে করছেন, ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি সরকারি বিধি মেনে মেলার আয়োজন নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতেও এভাবে রাজস্ব ফাঁকি ও অনিয়ম চলতেই থাকবে।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৫:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
৫১১ Time View

ইজারা ছাড়াই চলছে দেবিদ্বারের ঐতিহ্যবাহী পোনরা মেলা লক্ষাধিক টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে পৌরসভা

আপডেটের সময় : ০৫:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় ইজারা ছাড়াই চলছে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী পোনরা মেলা। প্রতি বছরের মতো এবারও বিপুল মানুষের সমাগম হলেও মেলাটি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ইজারা না দেওয়ায় লক্ষাধিক টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেবিদ্বার পৌরসভা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলা মাস অনুযায়ী প্রতি বছর পোনরা এলাকায় এই ঐতিহ্যবাহী মেলার আয়োজন করা হয়। মেলাকে ঘিরে অস্থায়ী দোকান, খেলনা, মিষ্টি, খাবার, নাগরদোলা ও বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা থাকলেও এবছর কোনো ধরনের সরকারি ইজারা ছাড়াই মেলাটি পরিচালিত হচ্ছে। তবে নামে মাত্র পৌর কতৃপক্ষের খাস কালেকশন নামে কিছু অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা হচ্ছে৷

পৌরসভা সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী এমন মেলা ইজারা দিয়ে পরিচালনা করা হলে পৌরসভার রাজস্ব খাতে উল্লেখযোগ্য অর্থ জমা হওয়ার কথা। কিন্তু ইজারা না হওয়ায় সরকার ও পৌরসভা উভয়ই রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রাথমিক হিসেবে এবছর মেলা থেকে অন্তত কয়েক লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব ছিল বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মেলায় দোকান বসাতে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে, কিন্তু সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। এতে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে স্বচ্ছতা নিয়েও উঠছে অভিযোগ।ছোটখাটো দোকান থেকেও প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে । তবে এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ ব্যবসায়ীরা।

মেলায় আয়োজক কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আতিক জানান,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভূমি স্যার বিষয়টি অবগত রয়েছে৷ পৌরসভার বাজার নিয়ন্ত্রক প্রতিদিন খাস কালেকশন করে৷

অন্যদিকে একটি গোপন সূত্রে জানা যায়,একটি মহল প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে৷ অন্যদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই রকম মেলা আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশংকা রয়েছে৷

এ বিষয়ে দেবিদ্বার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর জানান, এ বছর ইজারা দেওয়া হয়নি, তবে খাস কালেকশন হচ্ছে৷

সচেতন মহল মনে করছেন, ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি সরকারি বিধি মেনে মেলার আয়োজন নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতেও এভাবে রাজস্ব ফাঁকি ও অনিয়ম চলতেই থাকবে।