কমবেশি ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা খরচ করে কেনা নতুন এ সাউন্ড সিস্টেম কেন এমন হলো? এর দায় কার? এমন প্রশ্নই ঘুরে বেড়াচ্ছে সচেতন মহলে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সাউন্ড সিস্টেম কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর তা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিদর্শন সাপেক্ষে কাজে লাগানো হয়। তবে কেনো এই বিপত্তি। এরপরই সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের নিয়ে খোদ গণপূর্ত অধিদপ্তরেই সমালোচনা শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রায় পৌনে পাঁচ কোটি টাকার সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহ করা আমানত এন্টারপ্রাইজের মালিক দুলাল সম্পর্কেও খোজ খবর নেওয়া হচ্ছে।
জানা যায়, সংসদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশ্রাফুল হক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম) মাহবুবুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম-৭) আনোয়ার হোসেন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফুর রহমান এবং উপসহকারী প্রকৌশলী সামসুল ইসলাম। এ পাঁচজন প্রকৌশলী সাউন্ড সিস্টেম কেনা এবং সংসদ ভবন রক্ষণাবেক্ষণ এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা বিষয়ক সব কাজের দায়িত্বে আছেন। এর আগেও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশ্রাফুল হক নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে ২০১৮ সালে সংসদ ভবনের দায়িত্বে ছিলেন। তখনও অধিবেশন চলাকালীন সংসদ ভবন ৪৫ মিনিট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিলো।
সবকিছু চলার মাঝে হঠাৎ বিভ্রাট
সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই সাউন্ড সিস্টেমে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এতে সাময়িকভাবে মাইক বিভ্রাটের সৃষ্টি হলে অধিবেশন ২০ মিনিটের জন্য মুলতবি ঘোষণা করা হয়। পরে বিরতির পর আবারও অধিবেশন শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর অধিবেশন শুরু হয়। সভার শুরুতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন সভাপতিত্ব করেন। এ সময় স্পিকার পদে হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার পদে কায়সার কামাল নির্বাচিত হন।
এরপর অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য মুলতবি করা হয়। বিরতির সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
মুলতবি শেষে দুপুর পৌনে একটার দিকে আবার অধিবেশন শুরু হয় এবং সভা পরিচালনার দায়িত্ব নেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তবে অধিবেশন শুরু করতে গেলে সংসদের মূল সাউন্ড সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেয়। মাইকে কথা বলার চেষ্টা করলেও শব্দ ঠিকভাবে শোনা যাচ্ছিল না। পরে তিনি হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে বক্তব্য দেন।
স্পিকার বলেন, সংসদ সদস্যরা তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্পিকার নির্বাচিত করায় তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাইকে কথা ঠিকমতো শোনা যাচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং কিছু সময় ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
এ সময় সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসের এক সদস্য স্পিকারের সঙ্গে কথা বলেন এবং সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলাকেও চেয়ার ছেড়ে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করতে দেখা যায়।
পরে স্পিকার বলেন, ১৭ বছর পর একটি কার্যকর সংসদ পাওয়া গেছে এবং গণতান্ত্রিক আলোচনার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ধৈর্যের প্রয়োজন। এ সময় জোহরের আজান শুরু হলে তিনি অধিবেশন ২০ মিনিটের জন্য বিরতি ঘোষণা করেন।
বিরতির পর বেলা দেড়টার দিকে পুনরায় অধিবেশন শুরু হয়। তখন স্পিকার জানান, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে সাময়িকভাবে অধিবেশন মুলতবি করতে হয়েছিল। এরপর তিনি তার বক্তব্য শুরু থেকে আবার দেন।






















