পাথরঘাটার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়াগনসিস বন্ধ, এবার বেসরকারি ক্লিনিকের ফাঁদে গরিব রোগী হবে সর্বশান্ত
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সব ধরনের টেস্ট(পরীক্ষা নিরীক্ষা) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন সরকার।
সরকারিভাবে টেস্ট চালুর কোনো নির্দেশনা না থাকলেও, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে গরিব ও অসহায় রোগীদের জন্য নামমাত্র খরচে টেস্ট বা ডায়াগনসিস সেবা দিয়ে আসছিল। তবে অতিসম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর টেস্ট কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন টিএইচএ।
এমতাবস্থায় সবচেয়ে বিপদে কিংবা অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়েছেন হতদরিদ্র রোগীরা। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী আব্দুল মালেক অভিযোগ করেন, হাসপাতালে মাত্র ২৫০ টাকায় যেসব টেস্ট করা যেত, তা এখন বেসরকারি ক্লিনিকে করতে হচ্ছে ১৬০০ টাকায়, যা তাদের জন্য অসম্ভব। এক-ই অভিযোগ করলেন রোকেয়া নামক অপর এক রোগী।
পপাথরঘাটা উপজেলায় প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ বসবাস করেন, যাদের অধিকাংশই জেলে বা মতস্যজীবী। এপেশায় গরীবের সংখ্যা অনেক বেশি।সেইসব মানুষের একমাত্র চিকিৎসার ভরসা ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। যে কারণে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী রোগীরা দ্রুত টেস্ট সেবা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।.
পারভীন নামক একজন রোগী বলেন, ডাক্তার দেখানোর পর টেস্ট করতে বলা হয়েছে। এখানে আর টেস্ট হয় না। আমাদের মতো গরিবরা এখন যাবে কোথায় ?
পাথরঘাটা পৌর বিএনপি’র আহ্বায়ক মোঃ হারুন অর রশিদ হাওলাদার জানান, ল্যাব চালু থাকার কারণে এ এলাকার মানুষ অনেক উপকৃত হয়েছে। তবে একটি বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বর্তমানে ল্যাব বন্ধ রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই এই ল্যাব পুনরায় চালু করা যাবে আমরা সেই চেষ্টা করছি।
এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন সরকার বলেন, আমি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি। আমার আগমনের আগে কিছু টেস্ট গরিবদের সুবিধার জন্য করা হতো, তবে সরকারি অনুমোদন ছিল না। তাই আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই টেস্ট বন্ধ করেছি। তবে অনুমতি দিলে আবার চালু করা হবে।
অপরদিকে ল্যাব টেকনোলজিস্ট জুয়েল হোসেন জানান, এ অঞ্চলের মানুষ প্রধানত হতদরিদ্র। জনপ্রতিনিধিরা কিছু যন্ত্রাংশ দিয়েছিলেন, কিন্তু সরকার প্রয়োজনীয় মেডিসিন সরবরাহ করত না। তাই রোগীদের কাছ থেকে নামমাত্র টাকা নিয়ে সেবা দেওয়া হতো। বেসরকারি ক্লিনিকের কিছু দালালদের ভুল প্রচারের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় কর্তৃপক্ষ টেস্ট বন্ধ করেছে।
এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি জানান, বিষয়টি অবগত হওয়ার পর আমি পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। শীঘ্রই রক্ত পরীক্ষা চালু করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।