সোনারগাঁয়ে যৌথ অভিযানে অস্ত্র ও মাদকসহ ৭ জন আটক, লুটপাটের অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পাচানি খাসেরগাঁও ও ছোট কোরবানপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় একজন নারীসহ মোট সাতজনকে আটক করা হয়।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত এ যৌথ অভিযানে আটককৃতদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের সোনারগাঁ থানায় হস্তান্তর করা হয় বলে অভিযানে অংশ নেওয়া একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃতরা হলেন— একই এলাকার সালাম মিয়ার ছেলে সাকিব (২৫), আফরুল ইসলামের ছেলে সোহেল (৩৫), আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রাশেদ, ফিরোজ মিয়ার ছেলে ফরহাদ (৪০), সোলাইমান মিয়ার ছেলে জিসান (২০) এবং রাসেল মিয়ার স্ত্রী শান্তা আক্তার।
অভিযানের পর স্থানীয় খাসেরগাঁও বালুর মাঠ এলাকায় একাংশ এলাকাবাসী যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযানের নামে বাড়িঘরে লুটপাট চালানোর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাসেরগাঁও এলাকার রাসেল মিয়া ও ছোট কোরবানপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদের সঙ্গে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিকবার দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। সম্প্রতি সংঘর্ষের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার পর গত ৩১ জানুয়ারি র্যাব-১১ ফতুল্লা থানার মুছা মিয়ার ছেলে মো. জিয়া (২৫) ওরফে শুভর জিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর মেজর সাজ্জাদ হোসেন ও সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউল্লাহ জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
লুটপাটের অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি মহিউল্লাহ বলেন, “লুটপাটের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। অভিযানের সময় আটককৃতরাই নিজেদের বাড়ির আসবাবপত্র এলোমেলো করে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।”
আটককৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

















