ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
এনসিপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আল আমিনের ওপর হামলার চেষ্টা, আহত ২ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিয়েটিভ আর্টস অ্যাওয়ার্ড এবং ফেলোশিপ পেলেন এআইপি মতিন সৈকত শরীয়তপুর জেলার শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক মো.আবু রায়হান ছিদ্দীক (মুকুল) স্কুল চলাকালীন সময় স্কুলে প্রবেশ না করে গ্রিলের ফাঁক দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাত মিলালেন মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু শিক্ষার্থীদের মাঝে খেলার সামগ্রী বিতরণ করলেন মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু কে কী বলল বিবেচ্য নয়, ভোট ১২ ফেব্রুয়ারিতেই- মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষার্থীদের অবরোধে ঢাকার পাঁচ জায়গায় তীব্র যানজট নির্বাচনে দায়িত্বে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ সদস্য: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মালয়েশিয়া অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন প্রবাসীদের সুবিধার্থে QR Code/কনস্যুলার ফি পরিশোধ কাউন্টার সুবিধা চালু করেছে কৃষকদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করলেন মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু

২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে শাহবাগ ছাড়লেন বিক্ষোভকারীরা

সাংবাদিক

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে অগ্রগতির তথ্য জানতে চেয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) খোদা বখস চৌধুরীকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে শাহবাগ মোড়ে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই সময়সীমা দেওয়া হয়। সমাবেশ থেকে ঘোষণা করা হয়, নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাদের অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

পরে সন্ধ্যায় শাহবাগ মোড়ে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই আলটিমেটাম দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

এর আগে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ ওসমান হাদির জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে তাকে দাফন করা হয়। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী অবস্থান নেন। তারা হাদি হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলেন। ফলে শাহবাগ ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণার পর বিক্ষোভকারীরা শাহবাগ ছাড়লে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

বিক্ষোভ সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, হাদির ওপর হামলার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘাতকদের শনাক্ত করতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তারা বলেন, হাদিকে গুলি করার ১৭২ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও রাষ্ট্র এখনও ঘাতকদের শনাক্ত করতে পারেনি। তারা দাবি করেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নয় বরং একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলকে আমরা সন্দেহ করি না। তবে, কাউকে সন্দেহের বাইরে রাখা যাবে না। রাষ্ট্র কি এখনও বলেছে, কে বা কারা হত্যা করেছে? রাষ্ট্র ওসমান হাদির নিরাপত্তা নিশ্চিত করেনি।

সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, নির্বাচন বাধাগ্রস্তের ষড়যন্ত্র রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তারা চাইছে ওসমান হাদি যে লড়াইটা শুরু করেছিলেন, সেটা যেন কোনোভাবেই ফোকাসে না থাকে। এ জন্য দেখবেন বিভিন্ন লোক বিভিন্ন জায়গায় স্যাবোটাজ (নাশকতা) করা শুরু করে দিয়েছে। আমরা কি তাদের সেই সুযোগ দেব? আমাদের প্রথম দাবি হচ্ছে খুনিদের গ্রেপ্তার করা। এরপর সব আলাপ। আলাপ শুরুই হবে খুনিকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে। এর আগে কোনো আলাপ চলবে না।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শাহবাগ ও এর আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা গেছে। এ সময় পুলিশ, সোয়াত, ডিবি, র‍্যাব ও বিজিবির সদস্যদের সেখানে মোতায়েন করা হয়। দাফনের আগে থেকেই মাজার ও মসজিদ এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০২:৪৫:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
৫৫৬ Time View

২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে শাহবাগ ছাড়লেন বিক্ষোভকারীরা

আপডেটের সময় : ০২:৪৫:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে অগ্রগতির তথ্য জানতে চেয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) খোদা বখস চৌধুরীকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে শাহবাগ মোড়ে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই সময়সীমা দেওয়া হয়। সমাবেশ থেকে ঘোষণা করা হয়, নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাদের অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

পরে সন্ধ্যায় শাহবাগ মোড়ে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই আলটিমেটাম দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

এর আগে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ ওসমান হাদির জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে তাকে দাফন করা হয়। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী অবস্থান নেন। তারা হাদি হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলেন। ফলে শাহবাগ ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণার পর বিক্ষোভকারীরা শাহবাগ ছাড়লে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

বিক্ষোভ সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, হাদির ওপর হামলার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘাতকদের শনাক্ত করতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তারা বলেন, হাদিকে গুলি করার ১৭২ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও রাষ্ট্র এখনও ঘাতকদের শনাক্ত করতে পারেনি। তারা দাবি করেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নয় বরং একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলকে আমরা সন্দেহ করি না। তবে, কাউকে সন্দেহের বাইরে রাখা যাবে না। রাষ্ট্র কি এখনও বলেছে, কে বা কারা হত্যা করেছে? রাষ্ট্র ওসমান হাদির নিরাপত্তা নিশ্চিত করেনি।

সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, নির্বাচন বাধাগ্রস্তের ষড়যন্ত্র রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তারা চাইছে ওসমান হাদি যে লড়াইটা শুরু করেছিলেন, সেটা যেন কোনোভাবেই ফোকাসে না থাকে। এ জন্য দেখবেন বিভিন্ন লোক বিভিন্ন জায়গায় স্যাবোটাজ (নাশকতা) করা শুরু করে দিয়েছে। আমরা কি তাদের সেই সুযোগ দেব? আমাদের প্রথম দাবি হচ্ছে খুনিদের গ্রেপ্তার করা। এরপর সব আলাপ। আলাপ শুরুই হবে খুনিকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে। এর আগে কোনো আলাপ চলবে না।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শাহবাগ ও এর আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা গেছে। এ সময় পুলিশ, সোয়াত, ডিবি, র‍্যাব ও বিজিবির সদস্যদের সেখানে মোতায়েন করা হয়। দাফনের আগে থেকেই মাজার ও মসজিদ এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়।