ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সচিবের অনুপস্থিতিতে অচল ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রম পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি পুরোপুরি নেতিবাচক নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী সোনারগাঁয়ে জামায়াত কর্মীর বাসায় হামলা ও ভাঙচুর, আহত ৩ সিরাজদিখানে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ড দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বিএভিএস ও চট্টগ্রাম এলজিইডি কার্যালয়ে দুদকের অভিযান তাহিরপুর উপজেলা নির্বাচন চেয়ারম্যান পদে মিটু রঞ্জন পালের প্রার্থীতা ঘোষণা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে হুইপ হলেন শরীয়তপুর-৩ আসনের এমপি মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হতে চান শিল্পী রেজা, তৃণমূল থেকে বাড়ছে সমর্থন হাজারো যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা, খোঁজ নিলেন তারেক রহমান

৮০টি হিন্দু পরিবারের জামায়াতে যোগদান নিয়ে ধোঁয়াশা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

 

৮০টি হিন্দু পরিবারের জামায়াতে যোগদানের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সারাদেশে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। মন্দিরে উপজেলা জামায়াত আমিরের উপস্থিতিতে দলটিতে যোগদানের খবর ভাইরাল হলেও ঘটনাটি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। শুরুতে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি সমাজের মাতব্বর ৮০টি পরিবার নিয়ে যোগদানের কথা বললেও এখন বলছেন উল্টো কথা। তার দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াতে ইসলামী দলের সাথে জড়িত আছেন। তার সাথে গ্রামের অন্য পরিবারগুলো যোগদান করেননি। এদিকে ইউনিয়ন আমির বলছেন, অন্য রাজনৈতিক দলের চাপে পড়ে বক্তব্য ঘুরাতে পারেন ওই নেতা। জানা যায়, গত শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের ভান্ডারীপাড়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের তিনটি সামাজিক দলের মাতব্বরসহ ৮০টি পরিবার উপজেলা জামায়াতের আমির এ এস এম মতিউর রহমানের উপস্থিতিতে জামায়াতে যোগ দেন। সেসময় তিন সমাজের মাতব্বর ও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনাটি মুহুর্তেই সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যা রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এ বিষয়ে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের কাছে জানতে চাইলে কেউ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি না হলেও তাদের দাবি, ওইদিন সন্ধ্যায় গ্রামের শিবতলা দুর্গা মন্দিরটিতে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মাতব্বর ভজন মুন্সি, দ্বীপচাঁদ মন্ডল ও তিন সমাজের প্রধান বিকাশ বিশ্বাসের উপস্থিতিতে পূজা পরিচালনার আলোচনা চলছিল। হঠাৎ জামায়াতের নেতারা গাড়িবহর নিয়ে পূজামন্ডপ পরিদর্শনে এসেছিল। তারা জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে তিন সমাজের প্রধান বিকাশ বিশ্বাসের উপস্থিতিতে ৮০টি পরিবার নিয়ে যোগদানের বিষয়টি প্রথমত স্বীকার করলেও এখন বিকাশ বিশ্বাস বলছেন উল্টো কথা। তার দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই এই দলের সাথে জড়িত আছেন। তার সাথে কেউ যোগদান করেননি।

ভান্ডারীপাড়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের সামাজিক মাতব্বর বিকাশ বিশ্বাস বলেন, ‘জামায়াতের নেতারা আমাদের সঙ্গে পূজামন্ডপে ভোটের আলোচনার জন্য এসেছিল। ৮০টি পরিবার জামায়াতে যোগদানের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ তিনি বলেন, ‘আমি জামায়াতকে অনেক আগে থেকেই পছন্দ করি। দলটিকে ভালোবাসি। আমি নিজেই দলটির সঙ্গে জড়িত আছি। অন্যরা কেউ বিএনপি, কেউ আওয়ামী লীগের দল করে।’
অপরদিকে বাকি দুই সামাজিক মাতব্বরদের সাথে কথা বলতে তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তাদের বাড়িতে গেলেও খোঁজ মেলেনি।

এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতের নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের আমীর মো. মহিউদ্দিন বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সামাজিক নেতা বিকাশ বিশ্বাস প্রায় ৯০ দশকের সময় থেকে জামায়াতের সাথে জড়িত। উনি আমাদের দলের নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানোর পরে আমরা মন্দিরটিতে গিয়েছিলাম। সেখানে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে তারা আমাদের দলে যোগদান করে। এখন বিভিন্নভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তাদের যোগদানের ভিডিও আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। অন্য রাজনৈতিক দলের চাপে পড়ে বক্তব্য পরিবর্তন করতে পারেন তারা বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শৈলকুপা উপজেলা আমীর এ এস এম মতিউর রহমান বলেন, নির্বাচনী কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে ভান্ডারীপাড়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের আমন্ত্রণে মন্দিরটিতে আমার যাই। সেখানে সন্ধ্যার পরে আমরা সামাজিক মাতব্বরদের প্রধান বিকাশ বিশ্বাসের উপস্থিতিতে তার লোকজনের সঙ্গে আলোচনা হয়। তারা আমাদের সাথে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে সেখানে কত লোক ছিল তার হিসাব নেই। তবে ঘটনাটি মিথ্যা নয়।’

এদিকে শৈলকুপার এ ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এ বিষয়ে জামায়াতের পক্ষে ও বিপক্ষে মতামত দিতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া ঝিনাইদহের রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৬:০১:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
৬৮১ Time View

৮০টি হিন্দু পরিবারের জামায়াতে যোগদান নিয়ে ধোঁয়াশা

আপডেটের সময় : ০৬:০১:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

৮০টি হিন্দু পরিবারের জামায়াতে যোগদানের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সারাদেশে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। মন্দিরে উপজেলা জামায়াত আমিরের উপস্থিতিতে দলটিতে যোগদানের খবর ভাইরাল হলেও ঘটনাটি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। শুরুতে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি সমাজের মাতব্বর ৮০টি পরিবার নিয়ে যোগদানের কথা বললেও এখন বলছেন উল্টো কথা। তার দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াতে ইসলামী দলের সাথে জড়িত আছেন। তার সাথে গ্রামের অন্য পরিবারগুলো যোগদান করেননি। এদিকে ইউনিয়ন আমির বলছেন, অন্য রাজনৈতিক দলের চাপে পড়ে বক্তব্য ঘুরাতে পারেন ওই নেতা। জানা যায়, গত শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের ভান্ডারীপাড়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের তিনটি সামাজিক দলের মাতব্বরসহ ৮০টি পরিবার উপজেলা জামায়াতের আমির এ এস এম মতিউর রহমানের উপস্থিতিতে জামায়াতে যোগ দেন। সেসময় তিন সমাজের মাতব্বর ও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনাটি মুহুর্তেই সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যা রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এ বিষয়ে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের কাছে জানতে চাইলে কেউ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি না হলেও তাদের দাবি, ওইদিন সন্ধ্যায় গ্রামের শিবতলা দুর্গা মন্দিরটিতে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মাতব্বর ভজন মুন্সি, দ্বীপচাঁদ মন্ডল ও তিন সমাজের প্রধান বিকাশ বিশ্বাসের উপস্থিতিতে পূজা পরিচালনার আলোচনা চলছিল। হঠাৎ জামায়াতের নেতারা গাড়িবহর নিয়ে পূজামন্ডপ পরিদর্শনে এসেছিল। তারা জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে তিন সমাজের প্রধান বিকাশ বিশ্বাসের উপস্থিতিতে ৮০টি পরিবার নিয়ে যোগদানের বিষয়টি প্রথমত স্বীকার করলেও এখন বিকাশ বিশ্বাস বলছেন উল্টো কথা। তার দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই এই দলের সাথে জড়িত আছেন। তার সাথে কেউ যোগদান করেননি।

ভান্ডারীপাড়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের সামাজিক মাতব্বর বিকাশ বিশ্বাস বলেন, ‘জামায়াতের নেতারা আমাদের সঙ্গে পূজামন্ডপে ভোটের আলোচনার জন্য এসেছিল। ৮০টি পরিবার জামায়াতে যোগদানের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ তিনি বলেন, ‘আমি জামায়াতকে অনেক আগে থেকেই পছন্দ করি। দলটিকে ভালোবাসি। আমি নিজেই দলটির সঙ্গে জড়িত আছি। অন্যরা কেউ বিএনপি, কেউ আওয়ামী লীগের দল করে।’
অপরদিকে বাকি দুই সামাজিক মাতব্বরদের সাথে কথা বলতে তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তাদের বাড়িতে গেলেও খোঁজ মেলেনি।

এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতের নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের আমীর মো. মহিউদ্দিন বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সামাজিক নেতা বিকাশ বিশ্বাস প্রায় ৯০ দশকের সময় থেকে জামায়াতের সাথে জড়িত। উনি আমাদের দলের নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানোর পরে আমরা মন্দিরটিতে গিয়েছিলাম। সেখানে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে তারা আমাদের দলে যোগদান করে। এখন বিভিন্নভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তাদের যোগদানের ভিডিও আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। অন্য রাজনৈতিক দলের চাপে পড়ে বক্তব্য পরিবর্তন করতে পারেন তারা বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শৈলকুপা উপজেলা আমীর এ এস এম মতিউর রহমান বলেন, নির্বাচনী কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে ভান্ডারীপাড়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের আমন্ত্রণে মন্দিরটিতে আমার যাই। সেখানে সন্ধ্যার পরে আমরা সামাজিক মাতব্বরদের প্রধান বিকাশ বিশ্বাসের উপস্থিতিতে তার লোকজনের সঙ্গে আলোচনা হয়। তারা আমাদের সাথে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে সেখানে কত লোক ছিল তার হিসাব নেই। তবে ঘটনাটি মিথ্যা নয়।’

এদিকে শৈলকুপার এ ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এ বিষয়ে জামায়াতের পক্ষে ও বিপক্ষে মতামত দিতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া ঝিনাইদহের রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে।