ঢাকা , শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শ্রমিক দিবসে আধুনিকের তামাকবিরোধী আলোচনা সভা ও র‍্যালি বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ফরিদগঞ্জে মহান মে দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সিদ্ধিরগঞ্জ গ্রিডে আগুন, বড় বিপর্যয় এড়ালো ফায়ার সার্ভিস। পটুয়াখালী সদর প্রতিনিধি  পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন মে মাসের জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষই দেশের প্রধান অবলম্বন: প্রধানমন্ত্রী দেবিদ্বার সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ গঠন: সভাপতি বাবুল, সম্পাদক মাসুদ ফুলবাড়ীতে বিজিবির বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও ইস্কাফ জব্দ। মালয়েশিয়ার অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সাধারন ক্ষমা 2.0 চালু।১ মে ২০২৬ থেকে ৩১ মে ২০২৭ পর্যন্ত দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ। “আল কুরআনের উপর পর্যালোচনা” কুরআন বিতরণ ও সেমিনার কর্মসূচি ‘২৬ অনুষ্ঠিত

গাজা যুদ্ধে মৃত্যুর সংখ্যা এক লাখের বেশি: রিপোর্ট

সাংবাদিক

গাজা যুদ্ধের দুই বছরে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা এখন পর্যন্ত ধারণার তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে জার্মান সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘জাইট’। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানির খ্যাতনামা ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ডেমোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, গাজায় অন্তত এক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন বা মারা গেছেন।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর রস্টকে অবস্থিত এই গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানায়, যুদ্ধের প্রথম দুই বছরে ৯৯ হাজার ৯৯৭ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার ৯১৫ জন পর্যন্ত মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। তাদের মধ্যম-প্রাক্কলন দাঁড়ায় ১ লাখ ১২ হাজার ৬৯ জনে।

গবেষণা প্রকল্পের সহ–নেতা ইরেনা চেন বলেন, ‘আমরা কখনোই প্রকৃত সংখ্যাটা জানব না। আমরা শুধু সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পরিসরটি নির্ণয় করার চেষ্টা করছি।’

ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের গবেষকেরা বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পরিসংখ্যানগত প্রক্ষেপণ করেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের পাশাপাশি তারা স্বতন্ত্র গৃহস্থালি জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক মৃত্যু সংক্রান্ত রিপোর্টও ব্যবহার করেছেন।

এ পর্যন্ত মৃত্যুর সরকারি হিসাব কেবল গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ই দিয়েছে—যেখানে যুদ্ধের প্রথম দুই বছরে মৃত্যুর সংখ্যা দেখানো হয় ৬৭ হাজার ১৭৩। তবে ‘জাইট’ বলছে, এ সংখ্যায় কারচুপির প্রমাণ নেই। বরং বিভিন্ন স্বতন্ত্র গবেষণা দেখিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের তথ্য সাধারণত সংযত থাকে এবং প্রকৃত মৃত্যু আরও বেশি। অনেক গবেষণাতেই ধারাবাহিকভাবে উচ্চ সংখ্যক মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যা রিপোর্টের চেয়ে বেশি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাসপাতালের মৃত্যু সনদনির্ভর নিশ্চিত মৃত্যুকেই গণনা করে। যুদ্ধের কারণে বহু হাসপাতাল স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে না পারায়, এখন তারা স্বজনদের দেওয়া মৃত্যুসংক্রান্ত নোটিফিকেশনও যাচাই করে যুক্ত করছে। ধসে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মারা যাওয়া অনেক মানুষকেই এ কারণে তালিকাভুক্ত করা যায় না।

ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক দলটি এসব সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে লিঙ্গ ও বয়সভিত্তিক বিস্তারিত মৃত্যুহারও হিসাব করেছে। তাদের প্রাক্কলনে দেখা যায়, নিহতদের প্রায় ২৭ শতাংশই ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু এবং প্রায় ২৪ শতাংশ নারী। বয়স ও লিঙ্গভেদে সরকারি পরিসংখ্যানের ঘাটতি থাকায় এই বিচ্ছিন্ন বিশ্লেষণকে আরও নির্ভরযোগ্য বলা হচ্ছে।

গবেষকেরা গাজার জীবন প্রত্যাশায় যুদ্ধের প্রভাবও হিসাব করেছেন। যুদ্ধের আগে নারীদের গড় আয়ু ছিল ৭৭ বছর এবং পুরুষদের ৭৪। তাদের হিসাব বলছে, ২০২৪ সালে এই গড় আয়ু নেমে আসতে পারে নারীদের ক্ষেত্রে ৪৬ বছর ও পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩৬ বছরে। এটি একটি পরিসংখ্যানগত পূর্বাভাস—ধরা হচ্ছে, যুদ্ধ একইভাবে চলতে থাকলে জনগণের গড় আয়ু বাস্তবে এই পর্যায়ে নেমে যেতে পারে।

গবেষণা বলছে, এই সংখ্যা ও পূর্বাভাস গাজার সাধারণ মানুষের জীবনে যুদ্ধ কতটা ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৫:১৭:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
৭৬১ Time View

গাজা যুদ্ধে মৃত্যুর সংখ্যা এক লাখের বেশি: রিপোর্ট

আপডেটের সময় : ০৫:১৭:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

গাজা যুদ্ধের দুই বছরে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা এখন পর্যন্ত ধারণার তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে জার্মান সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘জাইট’। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানির খ্যাতনামা ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ডেমোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, গাজায় অন্তত এক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন বা মারা গেছেন।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর রস্টকে অবস্থিত এই গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানায়, যুদ্ধের প্রথম দুই বছরে ৯৯ হাজার ৯৯৭ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার ৯১৫ জন পর্যন্ত মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। তাদের মধ্যম-প্রাক্কলন দাঁড়ায় ১ লাখ ১২ হাজার ৬৯ জনে।

গবেষণা প্রকল্পের সহ–নেতা ইরেনা চেন বলেন, ‘আমরা কখনোই প্রকৃত সংখ্যাটা জানব না। আমরা শুধু সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পরিসরটি নির্ণয় করার চেষ্টা করছি।’

ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের গবেষকেরা বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পরিসংখ্যানগত প্রক্ষেপণ করেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের পাশাপাশি তারা স্বতন্ত্র গৃহস্থালি জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক মৃত্যু সংক্রান্ত রিপোর্টও ব্যবহার করেছেন।

এ পর্যন্ত মৃত্যুর সরকারি হিসাব কেবল গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ই দিয়েছে—যেখানে যুদ্ধের প্রথম দুই বছরে মৃত্যুর সংখ্যা দেখানো হয় ৬৭ হাজার ১৭৩। তবে ‘জাইট’ বলছে, এ সংখ্যায় কারচুপির প্রমাণ নেই। বরং বিভিন্ন স্বতন্ত্র গবেষণা দেখিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের তথ্য সাধারণত সংযত থাকে এবং প্রকৃত মৃত্যু আরও বেশি। অনেক গবেষণাতেই ধারাবাহিকভাবে উচ্চ সংখ্যক মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যা রিপোর্টের চেয়ে বেশি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাসপাতালের মৃত্যু সনদনির্ভর নিশ্চিত মৃত্যুকেই গণনা করে। যুদ্ধের কারণে বহু হাসপাতাল স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে না পারায়, এখন তারা স্বজনদের দেওয়া মৃত্যুসংক্রান্ত নোটিফিকেশনও যাচাই করে যুক্ত করছে। ধসে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মারা যাওয়া অনেক মানুষকেই এ কারণে তালিকাভুক্ত করা যায় না।

ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক দলটি এসব সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে লিঙ্গ ও বয়সভিত্তিক বিস্তারিত মৃত্যুহারও হিসাব করেছে। তাদের প্রাক্কলনে দেখা যায়, নিহতদের প্রায় ২৭ শতাংশই ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু এবং প্রায় ২৪ শতাংশ নারী। বয়স ও লিঙ্গভেদে সরকারি পরিসংখ্যানের ঘাটতি থাকায় এই বিচ্ছিন্ন বিশ্লেষণকে আরও নির্ভরযোগ্য বলা হচ্ছে।

গবেষকেরা গাজার জীবন প্রত্যাশায় যুদ্ধের প্রভাবও হিসাব করেছেন। যুদ্ধের আগে নারীদের গড় আয়ু ছিল ৭৭ বছর এবং পুরুষদের ৭৪। তাদের হিসাব বলছে, ২০২৪ সালে এই গড় আয়ু নেমে আসতে পারে নারীদের ক্ষেত্রে ৪৬ বছর ও পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩৬ বছরে। এটি একটি পরিসংখ্যানগত পূর্বাভাস—ধরা হচ্ছে, যুদ্ধ একইভাবে চলতে থাকলে জনগণের গড় আয়ু বাস্তবে এই পর্যায়ে নেমে যেতে পারে।

গবেষণা বলছে, এই সংখ্যা ও পূর্বাভাস গাজার সাধারণ মানুষের জীবনে যুদ্ধ কতটা ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।