বারিধারায় ফুটপাতে যুবককে গাড়িচাপা, চালক কিশোর হলেও মামলায় আসামি অন্যজন
রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে থাকা যুবককে গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরকে বুধবার গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। এর আগে মঙ্গলবার ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে জনতা। তবে এ সংক্রান্ত মামলায় তাকে আসামি করা হয়নি। বরং গাড়িটির চালক হিসেবে আকাশ মারাক নামে একজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এজাহারে।
গ্রেপ্তার ১৬ বছর বয়সী কিশোর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন ক্যাপ্টেনের ছেলে বলে জানা গেছে। সে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ‘ও’ লেভেলে পড়ে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। দুর্ঘটনায় দায়ী গাড়িটি তাঁর মায়ের নামে নিবন্ধিত।
গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন সমকালকে বলেন, গাড়িচাপায় মেহেদী হাসান মীম নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা হয়েছে। নিহতের ভাই মুক্তাদির ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। সেখানে গাড়িচালক আকাশ মারাককে আসামি করা হয়েছে। তবে উপস্থিত লোকজন এক কিশোরকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন। গাড়িটি তিনিই চালাচ্ছিলেন বলে দাবি তাদের। এ কারণে কিশোরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে কেন মামলায় আসামি করা হয়নি সেটি বাদী বলতে পারবেন। এ বিষয়ে জানতে বাদীর মোবাইল ফোন নম্বরে বারবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
মঙ্গলবার বারিধারা ১ নম্বর সড়কের ১৪ নম্বর নির্মাণাধীন ভবনের বিপরীত পাশের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন মেহেদী হাসান (২৪)। তিনি ওই এলাকায় নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ বেপরোয়া গতিতে আসা কালো রঙের একটি প্রাইভেটকার ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়। পরে আশপাশের লোকজন গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর নিথর দেহ বের করে আনেন। তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বাড়ি নীলফামারীর ডোমার থানার সোনারায় এলাকায়। বাবার নাম এরশাদুল হক, মা মোছা. মিনু।
দুর্ঘটনার সময়ের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ফুটপাতে বসে আছেন এক যুবক। নিয়ন্ত্রণ হারানো কালো রঙের একটি গাড়ি হঠাৎ ফুটপাতে উঠে যায়। এতে ওই যুবক গাড়ির চাকায় পিষ্ট হন। পরে গাড়িটি একটি ল্যাম্পপোস্টে ধাক্কা লেগে থেমে যায়। এতে ল্যাম্প পোস্টও ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসন থেকে নেমে আসে কালো রঙের টি–শার্ট পরা এক কিশোর। একইসঙ্গে অন্য পাশের দরজা দিয়ে নামেন মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি। এর আগে গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসার সময় সেখানে উপস্থিত কয়েকজন নিজেদের বাঁচাতে দ্রুত সরে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন ওই কিশোরসহ দুজন। তখন কিশোরকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। পালিয়ে যান অপরজন। তবে কিশোরই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।
এদিকে দুর্ঘটনায় দায়ী কিশোরকে পুলিশে সোপর্দ করা হলেও তাকে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চালানো হয়। পুলিশ কোনো কোনো গণমাধ্যমকে জানায়, মবের শিকার হওয়া থেকে বাঁচাতে কিশোরকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে পরিবারের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। বুধবার বিকেলে জানতে চাইল গুলশান থানা পুলিশ বলে, তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ছেড়ে দেওয়ার তথ্য সঠিক নয়।
আজ গুলশান–১ নম্বর সেকশনের ৭ নম্বর সড়কে ওই কিশোরের বাসায় গিয়ে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। সেখানে পরিবারের কেউ ছিলেন না।






















ফের ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম চালু ইসির