ঢাকা , শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যায় জবানবন্দি দিতে আদালতে সুমন

সাংবাদিক

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে (৩৫) আদালতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি একাই এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আজ শনিবার তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার জন্য আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পংকজ বড়ুয়া দুপুরে সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সকালে সোয়া ১০টায় পুলিশ সুপারের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে পংকজ বড়ুয়া জানান, সুমন একাই ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। হত্যার পর তিনি গামছা দিয়ে ছাত্রীর গলা পেঁচিয়ে ধরেন এবং তার ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় একটি পুকুরে গোসল করে মোবাইল ফোনটি বাখরাবাদ এলাকার একটি জঙ্গলে লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ওই ছাত্রীকে নগরীর রেসকোর্স এলাকার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন চালক। পরে তিনি ছাত্রীকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ধর্ষণের পর ধানের জমিতে নিয়ে গামছা দিয়ে গলা পেঁচিয়ে এবং মাথা চেপে ধরে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে ঘরজামাই হিসেবে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে বসবাস শুরু করেন তিনি।

এর আগে অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে এর মালিক হিসেবে লালমাই উপজেলার আবুল হাসেমকে শনাক্ত করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি অটোরিকশার চালক হিসেবে সুমনের নাম জানান। পরে শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে আটক করা হয়। তাঁকে কুমিল্লায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর দেখানো স্থান থেকে শহরতলির বাখরাবাদ এলাকার একটি জঙ্গল থেকে ছাত্রীটির লুটে নেওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির অনিয়মিত ছাত্রী ছিলেন। তাঁর বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাঠি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকায়। তাঁর বাবা আব্দুল আলীম একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে কুমিল্লা জেলায় কর্মরত। তাঁদের বাসা নগরীর রেসকোর্স এলাকায়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৬:৩৮:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
৫১৩ Time View

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যায় জবানবন্দি দিতে আদালতে সুমন

আপডেটের সময় : ০৬:৩৮:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে (৩৫) আদালতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি একাই এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আজ শনিবার তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার জন্য আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পংকজ বড়ুয়া দুপুরে সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সকালে সোয়া ১০টায় পুলিশ সুপারের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে পংকজ বড়ুয়া জানান, সুমন একাই ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। হত্যার পর তিনি গামছা দিয়ে ছাত্রীর গলা পেঁচিয়ে ধরেন এবং তার ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় একটি পুকুরে গোসল করে মোবাইল ফোনটি বাখরাবাদ এলাকার একটি জঙ্গলে লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ওই ছাত্রীকে নগরীর রেসকোর্স এলাকার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন চালক। পরে তিনি ছাত্রীকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ধর্ষণের পর ধানের জমিতে নিয়ে গামছা দিয়ে গলা পেঁচিয়ে এবং মাথা চেপে ধরে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে ঘরজামাই হিসেবে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে বসবাস শুরু করেন তিনি।

এর আগে অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে এর মালিক হিসেবে লালমাই উপজেলার আবুল হাসেমকে শনাক্ত করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি অটোরিকশার চালক হিসেবে সুমনের নাম জানান। পরে শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে আটক করা হয়। তাঁকে কুমিল্লায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর দেখানো স্থান থেকে শহরতলির বাখরাবাদ এলাকার একটি জঙ্গল থেকে ছাত্রীটির লুটে নেওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির অনিয়মিত ছাত্রী ছিলেন। তাঁর বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাঠি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকায়। তাঁর বাবা আব্দুল আলীম একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে কুমিল্লা জেলায় কর্মরত। তাঁদের বাসা নগরীর রেসকোর্স এলাকায়।