19 October, 2021
শিরোনাম

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট

 08 Aug, 2021   814 বার দেখা হয়েছে

 নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট

 

স্টাফ রিপোর্টার। 

 

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষের সাম্প্রতিক ভাইরাল হওয়া অডিও'র ফাঁসের জেরে পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে হাইকোর্টে রিট হয়েছে। রোববার (৮ আগস্ট) রিটটি দায়ের করেছেন মোহাম্মদ মোরশেদ আলম নামে বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক।

 

রিটে নৈতিক স্খলের দায়ে অধ্যক্ষকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। সোমবার (০৯ আগস্ট) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

 

এর আগে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার এবং একজন অভিভাবকের ফোনালাপ  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক সহ সোশাল মিডিয়ার  ফাঁস হয়ে ভাইরাল হয়। ওই ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় পুরো দেশ সহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনার ঝড় শুরু হয়।

 

ফোনালাপের সময় অধ্যক্ষ কামরুন নাহার কথা বলার একপর্যায়ে অভিভাবক মীর সাহাবুদ্দিন টিপুকে বলেন, ‘আমি বালিশের নিচে পিস্তল রাখি। আমি রাজনীতি করা মেয়ে আমি কিন্তু ভালো না কোনও ... বাচ্চা যদি আমার পেছনে লাগে আমি কিন্তু ওর পেছনে লাগবো, আমি শুধু ভিকারুননিসা না, আমি দেশছাড়া করবো।

পুরো ৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের  অডিওতে অভিভাবক টিপু ঠাণ্ডা মাথায় কথা বললেও অধ্যক্ষ ছিলেন উত্তেজিত। তবে কেন কী কারণে অধ্যক্ষ উত্তেজিত তা ফোনালাপে স্পষ্ট নয়।

অডিও ফাঁস করার কথা স্বীকার করে অভিভাবক মীর সাহাবুদ্দিন টিপু বলেন, সম্প্রতি প্রায় ৪০ জনের মতো অভিভাবককে নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে তাদের দাবির কথা বলতে গিয়েছিলাম। অধ্যক্ষ অভিভাবকদের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে বিদায় করেছেন। আমিও তাকে বলে এসেছি ৩০ তারিখের মধ্যে যে সকল অভিভাবক করোনায় মৃত্যুবরণ করেছে তাদের মেয়েদের বেতন ফি করার কাজগুলো করে দিতে হবে। করোনায় বিপর্যস্ত অভিভাবকদের টিউশন ফি মওকুফের জন্য ও গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি তা কিছুই করেননি। তাছাড়া ঈদের আগে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের মাঠে গরু/ ছাগলের হাট বসিয়েছেন তিনি এসব কারণে ফোনালাপের  অডিও ফাঁস করে দিয়েছি বলে উল্লেখ করেন মীর সাহাবুদ্দিন টিপু।

ফোনালাপের প্রথম অংশ নেই, তাহলে অডিও এডিট করা কিনা জানতে চাইলে মীর সাহাবুদ্দিন টিপু বলেন, আমি পুরো ফোনালাপটা দিয়েছি। এডিট করার কোন প্রশ্ন আসেনা। এই নিয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ অধ্যাপক কামরুন নাহার বলেন, সুপার এডিট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফোনালাপের একাংশ প্রকাশ করা হয়েছে। অভিভাবক মীর সাহাবুদ্দিন টিপু শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন জানিয়েছিল। আমি ভর্তি করাইনি। করোনার মধ্যে প্রায় ৪০ জন অভিভাবক নিয়ে এসে তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। আমি করোনা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে অফিসে দেখা করতে বলেছিলাম। আমাকে অভিভাবক টিপু আল্টিমেটাম দিয়ে চলে যান। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে কিনা তা যাচাইয়ে শিক্ষা প্রকৌশলকে লিখিত দিয়েছিলাম। সেটির তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ভর্তি বাণিজ্য, উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও শিক্ষকদের সঙ্গে অশালীন আচরণের কারণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এসব কারণে আমারে সরিয়ে দিতে তারা পরিকল্পনা করেই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। এদিকে ২৭ জুলাই ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ ও অভিভাবকের ফোনালাপের ঘটনা খতিয়ে দেখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (নিরীক্ষা ও আইন) খালেদা আক্তারকে সভাপতি করে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্য হলেন- মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন। গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। সোমবার (১ আগস্ট) এ সময় শেষ হচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর
সব খবর
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | বাংলা৫২নিউজ.কম
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি এবং অপরাধ