03 December, 2020
শিরোনাম

প্রাথমিকের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষিকার অন্তরঙ্গ ছবি ফাঁস

 19 Nov, 2020   55 বার দেখা হয়েছে

 নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারিসহ ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি সামাজিক মাধ্যমে এই শিক্ষকের সঙ্গে এক নারী সহকর্মীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ছবিও ভাইরাল হয়েছে।

এ ঘটনায় উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আকবর কবীর এবং সহকারি শিক্ষা অফিসার মো. রোমাঞ্চ আহমেদকে প্রধান করে দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। অপর তদন্তকারী হলেন- সহকারি শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ মনীরুল হক।

গত ১৬ নভেন্বর সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক দুলালের কাছে প্রধান শিক্ষক মো. মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি, চাকরি দেয়ার নামে ঘুষ, শিক্ষক বদলি বাণিজ্যসহ ১৭টি অভিযোগ দায়ের করা হয়। এতে উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

সম্প্রতি ওই প্রধান শিক্ষক এবং অপর এক প্রধান শিক্ষিকার অন্তরঙ্গ ছবি বাবুগঞ্জ শিক্ষক সমিতির এক নেতার ফেসবুক আইডি থেকে শেয়ার দেয়া মাত্র সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। এ নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জনসহ আলোচনার ঝড় উঠে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন জানান, দুই সন্তানের জননী ওই শিক্ষিকা বর্তমানে উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষক মোক্তার হোসেন বিভিন্ন সময় প্রধান শিক্ষিকাকে ফোন করে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব দিলে তিনি তা করে দিতেন। এভাবেই তাদের মধ্যে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে উঠে।

প্রধান শিক্ষিকা ওই বাসায় গেলে তাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রধান শিক্ষিকার শর্তসাপেক্ষে মোক্তার হোসেন তার প্রথম স্ত্রীকে গত ২৭ সেপ্টেন্বর নোটারির মাধ্যমে তালাক দেয় এবং ২৯ সেপ্টেন্বর নোটারির মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকার কাবিনে তাকে বিয়ে করে।

এদিকে বিয়ের পরও মোক্তার হোসেন প্রথম স্ত্রীর কাছে থাকায় দ্বিতীয় স্ত্রী স্বামীর অধিকার পেতে উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক দুলালের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় শিক্ষক মোক্তার হোসেন। পরে বিয়ের আগে ওই শিক্ষিকাকে নিয়ে বিভিন্নস্থানে নিয়ে তোলা অন্তরঙ্গ ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেয়।

দুই সন্তানের জনক উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের ইদিলকাঠি গ্রামের অধিবাসী অভিযুক্ত মো. মোক্তার হোসেন বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার কর্মক্ষেত্রে সাধারণ পরিচয় ছাড়া অন্য কোনো সম্পর্ক নেই। ভাইরাল হওয়া ছবি সম্পর্কে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।’

অপরদিকে ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষিকা সাংবাদিকদের বলেন, ‘মোক্তার হোসেন আমার জীবন শেষ করেছে। আপনারা তার সঙ্গে আমাকে মিলিয়ে দেন।’

মোক্তারের প্রথম স্ত্রী নাছিমা বেগম বানারীপাড়া পল্লী বিদ্যুতে চাকরি করেন। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী আমাকে তালাক দিতে পারে না। ওই প্রধান শিক্ষিকা তাকে ফাঁদে ফেলে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’

তবে ভাইরাল হওয়া ছবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।

বাবুগঞ্জ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জাহিদুর রহমান সিকদার ও যুগ্ম সম্পাদক মনোয়ার হোসেন দুজনেই জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। ওই শিক্ষক নেতারা বলেন, আমরা সমাজে ছাত্র অভিভাবকদের কাছে মুখ দেখাতে লজ্জা পাচ্ছি।

তারা আরও বলেন, লম্পট প্রধান শিক্ষক মোক্তার হোসেন এবং ওই প্রধান শিক্ষিকা দুইজনই বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক তালিকায় রয়েছেন এবং তারাই বাবুগঞ্জে শ্রেষ্ঠ প্রেমিক-প্রেমিকা হিসেবে শিক্ষক সমাজের কলঙ্ক করেছেন। তারা তদন্ত কমিটির কাছে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল

সম্পর্কিত খবর
সব খবর
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | বাংলা৫২নিউজ.কম
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি এবং অপরাধ