28 January, 2021
শিরোনাম

মানিকগঞ্জ পৌর নির্বাচন: নৌকার প্রার্থী হিসেবে জনতার ভরসা আপেলে

 22 Nov, 2020   641 বার দেখা হয়েছে

 নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট

জাতীয় রাজনীতির গন্ডি পেরিয়ে সবার দৃষ্টি এখন পৌরসভা নির্বাচনে। স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে তৃণমূল রাজনীতি। আজ প্রথম ধাপে দেশের ২৫টি পৌরসভায় ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের দিন রেখে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।আগামী ২৮  আজ মানিকগঞ্জের পৌর নির্বাচন।আর এই নির্বাচন ঘিরে  আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ঢেউ উঠেছে । আওয়ামী লীগের মনোনয়ন যুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জোর আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন নিশ্চিত করতে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছেন। পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সুলতানুল আজম খান আপেলের নাম আলোচনায় সর্বত্রই। গরিব দুঃখীদের বন্ধু হিসেবে পরিচিত এই প্রার্থীকে নৌকায় মনোনয়ন পেলে এবং বিজয়ী হলে পৌর বাসীদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে তারা পাবেন নাগরিক সেবা। এমনটাই দাবি পৌর শহরে বসবাস করা খেটে খাওয়া সাধারণ জনতার। অন্যদিকে জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের সম্পূর্ণ সমর্থর রয়েছে এই নেতার পক্ষে। 

আলহাজ্ব সুলতানুল আজম খান আপেলের সঙ্গে একান্তে কথা হয় বাংলা৫২নিউজ ডট কম ও বাংলা৫২ অনলাইন টিভির সঙ্গে। 

জনপ্রতিনিধি না হয়েও জনদরদি হিসেবে কিভাবে পরিচিতি পেলেন তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, যেদিন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করেছি সেদিন থেকেই মানুষের জন্য কিছু করার জন্য একজন সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে দায়বদ্ধতার কথা মাথায় এসেছে। বঙ্গবন্ধু সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের কথা চিরকালই বলে গেছেন। আমাদের সবারই উচিৎ কোন রাজনৈতিক ফায়দা নয় মহৎ উদ্দেশ্য নিয়েই আমাদের তাদের জন্য করে যাওয়া উচিৎ। 

করোনাকালে মানিকগঞ্জ পৌরবাসীদের জন্য কি করেছেন? তিনি জানান, করোনায় পৌরবাসীদের মাঝে খাদ্য, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানেটাইজার বিতরণসহ এমন কি করোনা রোগীদের বহনের জন্য বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও করেছিলাম। শুধু পৌর এলাকায় নয় করোনা কালে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে পুরো মানিকগঞ্জেই পাড়া মহল্লায় ঘুরে বেড়িয়েছি। এর বাইরেও শীতে অসহায় গরিব দুঃখীদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ, বন্যা কবলিত এলাকাতে খাদ্য ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছি।

দুই যুগ ধরে মানিকগঞ্জ পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা, পৌরবাসী সম্পূর্ণ নাগরিক সেবা পাচ্ছেন বলে আপনি মনে করেন? তিনি জানান, টানা দুই যুগ  প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও সম্পূর্ণরূপে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত পৌরবাসী। মানিকগঞ্জ পৌরবাসী বরাবরই বিভিন্ন মেয়র প্রার্থীর আশ্বাসে তাঁদের জীবনমান পরিবর্তনের লক্ষে ভোট দিয়েছেন কিন্তু নাগরিক সেবা আর পাননি। অতীতের দুই মেয়রের সীমাহীন দুর্নীতিই এর কারণ। 

পৌরবাসীদের সাথে আমরা যতটুকু কথা বলে জেনেছি তারা বরাবরই পৌরসভার মেয়র পরিবর্তন চান এর কারণ কি? তিনি জানান, মানিকগঞ্জ পৌরবাসী বরাবরই বিভিন্ন মেয়র প্রার্থীর আশ্বাসে নাগরিক সেবা পাওয়ার আশায় ভোট দিয়ে ঠকেছেন। প্রতিবারই নতুন কাউকে তারা মেয়র নির্বাচিত করেছেন পৌর এলাকা উন্নয়ন হবে এই আশায়। অতীতের ২ জন মেয়রের সীমাহীন দুর্নীতির কারনে পৌরবাসী অতিষ্ঠ। ফলে তারা নতুন মুখ খুঁজছেন।

নতুন মুখ হিসেবে নিজেকে যোগ্য প্রার্থী মনে করছেন? তিনি জানান, অবশ্যই কেন নয়। আমি যোগ্য প্রার্থী কি অযোগ্য সেটা আমার মুখের কথা নয় আপনি সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের কাছেই জিজ্ঞেস করুন তারা কি বলে। 

নৌকার মনোয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে কতটুকু আশাবাদী? এই মেয়র প্রার্থী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর আমার আস্থা ছিল আছে এবং থাকবে। বর্তমান আমার কার্যক্রম ও অতীতের পোড় খাওয়া নেতাদের তিনি ভুলেননি। আমি শতভাগ আশাবাদী নেত্রী আমাকে নৌকায় মনোনীত করবেন। 

নৌকায় মনোনয়ন না পেলে কি বিদ্রোহী প্রার্থী হবে? তিনি বলেন, প্রশ্নই আসে না। মাননীয় নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত তিনি যাকে মনোনীত করবেন আমি তার হয়ে নির্বাচন করব। 

মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরবাসীর জন্য কি কি করবেন? প্রথমত প্রথম শ্রেণির পৌর সভা হিসেবে পৌরবাসীদের শতভাগ নাগরিক সেবা নিশ্চিত করব। আপনারা দেখেছেন এখনও মানিকগঞ্জে ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি আমি ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করব। নিরবিচ্ছিন্ন পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সরবরাহ, রাস্তা ঘাটের উন্নতি, বেকারত্ব দূরীকরণ, শিশুদের জন্য খেলার মাঠ, বায়োজ্যেষ্ঠদের জন্য লাইব্রেরী ও তাদের সকালে হাটাহাটি করার ব্যবস্থা করব ইনশাল্লাহ। 

উল্লেখ্য, ৯টি ওয়ার্ড ও ৭৫টি মহল্লা নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ পৌরসভা। এর মধ্যে প্রায় ৪ টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন বয়সের মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পর পর দুই পৌর নির্বাচনে ক্ষমতায় অধিষ্ঠ মেয়রদ্বয় কথা দিয়ে কথা রাখেন নি। এহেন উন্নয়নমূলক কাজ নেই যার প্রতুশ্রুতি তারা দেন নি। তাদের দেয়া কথার ৫ শতাংশও পূরণ হয়নি। দুই যুগ ধরে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও নাগরিক সেবা ও জীবন-মানের তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি এখানে। অতীতের ২ জন মেয়রের বিভিন্ন দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির ফলে  নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন পৌরবাসী। পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে প্রধানত আলোচনায় তিন জন। এই তিন প্রার্থীর মধ্যে সাবেক মেয়র, বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের এক নেতা। তারা হচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সুলতানুল আজম খান আপেল, মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. রমজান আলী ও নৌকাকে পরাজিত করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হওয়া বর্তমান মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম। 

সাবেক মেয়র ও বর্তমান মেয়র দুইজনের উপরেই ত্যক্ত পৌরবাসীর একটি বড় অংশ। আধুনিক মানিকগঞ্জ গড়ার প্রত্যয়ের আশ্বাস দিয়ে পৌরবাসীদের ভোট নিয়েছিলেন তারা। কিন্তু কথা ও কাজে দ্বিমুখী আচরণে তাদের উপর পৌরবাসীর বিশ্বাস কম। অন্যদিকে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নৌকা প্রতিকে জয়লাভ করা সাবেক মেয়র মো. রমজান আলীর দুর্নীতির ফলেই গত নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবি হয়। ফলে তাকে নিয়ে দলের মধ্যে তেমন আলোচনা নেই। এদিকে বর্তমান মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম গত নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করে যার ফলে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়

সম্পর্কিত খবর
সব খবর
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | বাংলা৫২নিউজ.কম
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি এবং অপরাধ