23 January, 2021
শিরোনাম

যুবরাজনীতির দ্যুতি ছিলেন শেখ মনি

 04 Dec, 2020   114 বার দেখা হয়েছে

 নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট

বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি ও স্বাধিকার আন্দোলনের নক্ষত্র, বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলনের সৃজনশীল যুবনেতা ও মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিববাহিনীর প্রধান কমান্ডার, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ৮১তম জন্মদিন আজ।

১৯৩৯ সালের ৪ ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়ায় ঐতিহাসিক শেখ পরিবারে জন্ম নেন শেখ মনি। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে। তার বাবা মরহুম শেখ নূরুল হক। মাতা শেখ আছিয়া বেগম বঙ্গবন্ধুর বড় বোন। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশ পুনর্গঠন এবং আগের ৬০ ও ৭০ দশকের ছাত্র এবং যুবরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন শেখ মনি। শেখ মনির নেতৃত্বে তৎকালীন প্রতিটি আন্দোলনেই ছাত্র ও যুবরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। যার কারণে তাকে স্বাধীনতাত্তোর ও পূর্ব যুবরাজনীতির দ্যুতি হিসেবে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

দেশ স্বাধীন করার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের জন্য গোটা বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামে অনন্য ভূমিকা রাখেন শেখ ফজলুল হক মনি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা সপরিবারে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। বঙ্গবন্ধুর পরে শেখ মনি হতে পারেন জাতির পরবর্তী পথ-নির্দেশক। যার কারণে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আগেই সেদিন যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকেও হত্যা করে খুনিরা।

 ইতিহাসের ন্যক্কারজনক এ হত্যাকাণ্ডের পরপর আইন করে রুখে দেয়া হয় বিচার-প্রক্রিয়া। শেখ ফজলুল হক মনি ঢাকা নবকুমার ইনিস্টিটিউট থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন।

এরপর ১৯৫৮ সালে তিনি জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। ১৯৬০ সালে তিনি বরিশাল বিএম কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। শেখ ফজলুল হক মনি কেবল রাজনীতিবিদ নন, একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও গবেষক। স্বাধীনতার পর তার লেখনি দেশগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার লেখা ‘অবাঞ্ছিতা’ উপন্যাস পাঠক সমাদৃত।

স্বাধীনতার পর তিনি দৈনিক বাংলার বাণী, ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ টাইমস ও বিনোদন ম্যাগাজিন সিনেমার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই শেখ মনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৬০-১৯৬৩ সালে তিনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬২ সালে হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তিনি গ্রেপ্তার হন এবং ছয় মাস কারাভোগ করেন।

১৯৬৪ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর আবদুল মোনেম খানের কাছ থেকে সনদপত্র গ্রহণে তিনি অস্বীকৃতি জানান এবং সরকারের গণবিরোধী শিক্ষানীতির প্রতিবাদে সমাবর্তন বর্জন করে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ডিগ্রি প্রত্যাহার করে নেয়। পরবর্তী সময়ে তিনি মামলায় জয়লাভ করে ডিগ্রি ফিরে পান। ১৯৬৫ সালে তিনি পাকিস্তান নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার হন এবং দেড় বছর কারাভোগ করেন।

১৯৬৬ সালে ছয়দফা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালনের দায়ে তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি হয় এবং তিনি কারারুদ্ধ হন। এ সময় বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আটটি মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের সময় তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

শেখ মনি ছিলেন ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের কর্মসূচি প্রণয়নের অন্যতম প্রণেতা। সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী শেখ মনি সত্তরের নির্বাচনি কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করেন, পাকিস্তানের প্রতিটি প্রদেশকে ছয়দফা ভিত্তিক স্বায়ত্তশাসন, ব্যাংক-বিমা ও ভারী শিল্প, বৈদেশিক বাণিজ্য, পাট ও তুলা ব্যবসা জাতীয়করণ, পূর্ব পাকিস্তানের জায়গিরদারি, জমিদারি ও সর্দারি প্রথার উচ্ছেদ, ২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষি জমির খাজনা মওকুফ, শ্রমিকদের ভারী শিল্পের শতকরা ২৫ শতাংশ শেয়ার ও বাস্তুহারাদের পুনর্বাসন ইত্যাদি। (স্মরণীয়-বরণীয়, ব্যক্তিত্ব, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয়-পৃ:৪৬১)।

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে শেখ মনির নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে বাংলাদেশের প্রথম যুব সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এদেশে যুব রাজনীতির সূচনা করেন। দুই বছরের মাথায় কংগ্রেসে শেখ ফজলুল হক মনি যুবলীগের প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই ছেলে সন্তানের জনক ছিলেন। তার বড় সন্তান শেখ ফজলে শামস পরশ সপ্তম কংগ্রেসে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আরেক সন্তান বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পূর্বে তিনি নবম, দশম এবং একাদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ যুবলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন। এর মধ্যে রয়েছে— সকাল সাড়ে ৯টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ও সকাল ১০টায় বনানী কবরস্থানে শহীদ শেখ ফজলুল হক মনিসহ সকল শহীদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শেষে দুস্থদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ। দুপুর ২.৩০টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ এমপি।

সভাপতিত্ব করবেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ। সঞ্চালনা করবেন সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

এছাড়া আগামীকাল ৫ ডিসেম্বর ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হল, উত্তরা রাজলক্ষ্মীর সামনে, মিরপুর-১০ গোল চত্বর এবং ভাটারা নতুন বাজার এলাকায় ও ভিক্টোরিয়া পার্ক, যাত্রাবাড়ী গোল চত্বর, আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড, কমলাপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় সর্বস্তরের জনগণের মাঝে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর
সব খবর
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | বাংলা৫২নিউজ.কম
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি এবং অপরাধ