28 January, 2021
শিরোনাম

বাবা খুন হওয়ার শঙ্কায় মেয়র পদে লড়ছেন মেয়েও

 02 Jan, 2021   52 বার দেখা হয়েছে

 নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট

বরগুনায় মেয়ে মহাসিনা মিতু ও তার বাবা বর্তমান পৌর মেয়র মো. শাহাদাত হোসেন দু’জনেই মেয়র পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। যেকোনো সময় মেরে ফেলা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের এ বিদ্রোহী প্রার্থী। এ শঙ্কা থেকে নিজের পাশাপাশি মেয়েকে দিয়েও মনোনয়নপত্র দাখিল করাতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বাবা-মেয়ের মেয়র প্রার্থী হওয়ার এ ঘটনা এখন পৌর শহরের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে বরগুনা জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় বর্তমান পৌর মেয়র মো. শাহাদাত হোসেনের মেয়ে মহাসিনা মিতু মেয়র পদে তার মনোনয়পত্র দাখিল করেন। এর পূর্বে মেয়র শাহাদাত হোসেনও মেয়র পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এরা বাবা ও মেয়ে দু’জনেই স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।শাহাদাত হোসেন বরগুনা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আগেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন।

মেয়র প্রার্থীর মধ্যে অন্যরা হলেন, আওয়ামী লীগ থেকে মো. কামরুল আহসান মহারাজ, বিএনপি থেকে এডভোকেট মো. আবদুল হালিম, জাতীয় পার্টি থেকে মো. আব্দুল জলিল হাওলাদার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মাওলানা জালাল উদ্দিন, স্বতন্ত্র মো. শাহাবুদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মো. সিদ্দিকুর রহমান, মো. নিজাম উদ্দিন। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদের ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন, মেয়র শাহাদাত হোসেন বরগুনা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। গত ২০১৫ সালেও মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দলীয় প্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজকে টাকার জোরে নির্বাচনের দিন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দলীয় প্রার্থীকে আহত করে ভোট কেটে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এবারো শাহাদাত হোসেন দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে নিজে স্বতন্ত্র, মেয়ে মিতু ও তার সমর্থক নিজাম উদ্দিনকে দিয়ে স্বতন্ত্র মনোনয়ন দাখিল করিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, দল করবেন, দলের সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন, নিজের লোকজন নিয়ে লুটপাট করবেন; আর নির্বাচন আসলে টাকার জোরে নির্বাচন করবেন। এবার দলের সব নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ। তার (শাহাদাত) সব ষড়যন্ত্র এবার মোকাবিলা করা হবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, গত নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজের সমর্থকরা আমি ও আমার পরিবারের ওপর একাধিক বার হামলা চালিয়েছিল। ওই নির্বাচনের প্রচারণায় নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের হামলার শিকার হয়ে আমার অন্তত ১০ জন কর্মী আহত হয়েছিল।

তিনি বলেন, শুধু তাই নয় নির্বাচনের দিন ভোর থেকে তারা কেন্দ্রে কেন্দ্রে লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র নিয়ে ভোট ডাকাতির চেষ্টা করে। এতে এক জন নিহতও হয়েছিল। গত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ও মনোনয়ন পাওয়ার পর নৌকা সমর্থকদের আচরণে আমার মনে হয়েছে, যেকোনো সময় তারা আমার ওপর হামলা করতে পারে, মেরে ফেলতে পারে। এ কারণে আমার মেয়েকে দিয়ে মনোনয়ন দাখিল করাতে বাধ্য হয়েছি।

আপনি দলের বিরুদ্ধে কেনো মনোনয়ন দাখিল করেছেন- এমন প্রশ্নে . শাহাদাত হোসেন বলেন, জনগণের চোখের পানি মোছার জন্য আবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি।

দলের সভাপতি শেখ হাসিনার কথা অমান্য করে নির্বাচন করেন কেনো- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি নৌকাকে ভালোবাসি। তারপরও জনগণের কথা চিন্তা করে আমাকে নির্বাচন করতে হচ্ছে। জনগণ আমাকে চায়। জনগণ আমার জন্য নীরবে কাঁদে। বড়িয়ালপাড়ার লোকজনের ঘরবাড়ি যখন ডিসি ভেঙে ফেলে তখন তো দলের লোকজন তাদের রক্ষা করেনি। আমি ঢাকা থেকে এসে ঘরবাড়ি রক্ষা করেছি।

মেয়রের মেয়ে মহসিনা মিতু বলেন, মনোনয়নপত্র কেনার আগেই আমাদের বাসার সামনে এসে হুমকি-ধমকি দেয়া হয়েছিল, যাতে আমার বাবা নির্বাচনে প্রার্থী না হন। আমরা এ ঘটনায় বরগুনা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। আমাদের বাসার সামনে গত নির্বাচনে ক্রোক স্কুলে সভা চলাকালে আমার ওপর হামলা হয়েছিল। এবারও আমরা শঙ্কায় আছি, আমার বাবা বা আমাদের পরিবারের কেউ নিরাপদ বোধ করছি না। সে কারণেই আমিও মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।

প্রসঙ্গত, আগামী ৩ জানুয়ারি প্রার্থিতা বাছাই। ১০ই জানুয়ারি প্রত্যাহার ও ৩১শে জানুয়ারি ভোটগ্রহণ হবে। এ পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা ২৫ হাজার।

পূর্বপশ্চিমবিডি

সম্পর্কিত খবর
সব খবর
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | বাংলা৫২নিউজ.কম
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি এবং অপরাধ