27 January, 2021
শিরোনাম

‘রাজনীতিতে সৈয়দ আশরাফ অনুকরণীয়’

 03 Jan, 2021   36 বার দেখা হয়েছে

 নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর কবরে ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

রোববার (৩ জানুয়ারি) ঢাকার বনানী কবরস্থানে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন।এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম অত্যন্ত সৎ, আদর্শ ও নীতিবান রাজনীতিবিদ ছিলেন। সব লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে তিনি নীতি-নৈতিকতার সঙ্গে মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন সারা জীবন।

নিজের ওপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সাবেক এই মন্ত্রী কখনো অবহেলা করেননি উল্লেখ করে তাজুল ইসলাম জানান, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দেশের সব রাজনীতিবিদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনি আওয়ামী লীগের সফল সাবেক সাধারণ সম্পাদক, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন ও বিশ্বস্ত সহকর্মী ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বাদ মাগরিব মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতার নির্মম হত্যাকান্ডের পর তিনি যুক্তরাজ্য চলে যান। প্রবাস জীবনে তিনি যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আশরাফুল ইসলাম ১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে আসেন এবং কিশোরগঞ্জ সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালের ১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় তিনি নির্বাচিত হন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের ১৬ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি এক কন্যার জনক। তার স্ত্রী শিলা ইসলাম ২০১৭ সালের অক্টোবরে মারা যান।

সৈয়দ আশরাফ ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অন্যতম সংগঠক ছিলেন। সৈয়দ আশরাফ ছাত্র জীবনে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি ময়মনসিংহ জেলার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-প্রচার সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আশরাফুল ইসলাম ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি মুক্তিবাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন। ভারতের দেরাদুনে প্রশিক্ষণ নেন তিনি।

সম্পর্কিত খবর
সব খবর
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | বাংলা৫২নিউজ.কম
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি এবং অপরাধ