19 January, 2021
শিরোনাম

ইন্দোনেশিয়ায় ৬২ আরোহী নিয়ে নিখোঁজ বিমান সাগরে বিধ্বস্ত

 09 Jan, 2021   19 বার দেখা হয়েছে

 নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট

ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী একটি যাত্রীবাহী বিমান জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানে ৬২ আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৬ ক্রু। নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।শনিবার (০৯ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় দুপুরে রাজধানী জাকার্তা থেকে উড্ডয়ন করে শ্রীবিজয়া এয়ারের অভ্যন্তরীণ এসজে-১৮২ ফ্লাইট। উড্ডয়নের চার মিনিট পরেই নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 


ফ্লাইট ট্র্যাকিং সার্ভিস ফ্লাইটরাডার২৪ জানায়, নিখোঁজের সময় বিমানটি ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। এক মিনিটে বিমানটি ৩ হাজার ফুট নিচে অবতরণ করে। 

বাজেট এয়ারলাইনস এক বিবৃতিতে জানায়, জাকার্তা থেকে পন্টিয়ানাক বিমানবন্দরে যেতে বোয়িং ৭৩৭-৫০০ মডেলটির সাধারণ সময় লাগে ৯০ মিনিট। জাকার্তা থেকে পন্টিয়ানাকের দূরত্ব ৭৪০ কিলোমিটার। 

উড্ডয়নের সময় সোকারনো-হাট্টা বিমানবন্দরে ভারী বৃষ্টি ছিল। বৃষ্টির কারণে ফ্লাইট বিলম্ব হয় বলেও জানায় কর্তৃপক্ষ।

বিমানে আরোহীদের মধ্যে ৭ শিশুর পাশাপাশি ৪ থেকে ৬ মাস বয়সী ৩ শিশু ছিল। 

স্থানীয় সরকারের এক কর্মকর্তা কোম্পাস টিভিকে জানান, নর্থ জাকার্তার পানিতে এক জেলে কিছু জিনিস পেয়েছে, যেগুলো দেখতে বিমানের ধ্বংসাবশেষের মতো। অন্যান্য নিউজ চ্যানেল বিমানের সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রচার করছে।

সিএনএন ইন্দোনেশিয়াকে এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, আমরা কিছু ক্যাবল, একটি জিন্স এবং কিছু ধাতব পদার্থ পেয়েছি।

দেশটির অনুসন্ধান এবং উদ্ধার সংস্থার এক কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ধ্বংসাবশেষগুলো শ্রীবিজয়া এয়ারের এসজে ১৮২ ফ্লাইটের কিনা তা এখনও তারা নিশ্চিত নয়। অন্তত ৫০ জন অনুসন্ধান কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। সারারাত অভিযান চলবে বলেও জানান তারা।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আদিতা ইরাবতী এক বিবৃতিতে জানান, বিমান নিখোঁজের বিষয়টি তারা অনুসন্ধান করছেন। বিমানটি দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে। ২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত যোগাযোগ ছিল বলেও জানান তিনি।

বিমানের রেজিস্ট্রেশন ডাটা থেকে জানা গেছে বোয়িং ৭৩৭-৫০০ মডেলের বিমান গেল ২৭ বছর ধরে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বোয়িংয়ের এক মুখপাত্র জানান, সংবাদমাধ্যমের খবরে আমরা উদ্বিগ্ন। জাকার্তার সঙ্গে সমন্বয় করে আরও তথ্যের জন্য বিষয়টির প্রতি আমরা নজর রাখছি।

ইন্দোনেশিয়ায় পরিবহন দুর্ঘটনা

বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপপুঞ্জের দেশ ইন্দোনেশিয়া। ২৬ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে ফেরিতে অতিরিক্ত ভিড়, দুর্বল অবকাঠামো এবং নিম্নমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে স্থল, জল এবং আকাশ পথে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

২০১৮ সালে লায়ন এয়ারলাইনের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের একটি বিমান জাকার্তায় বিধ্বস্ত হয়। এতে ক্রুসহ ১৮৯ জন মারা নিহত হয়। শনিবার যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে সেটি অনেক পুরনো মডেল। 

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে এয়ারএশিয়ার একটি ফ্লাইট সুরবায়া থেকে সিঙ্গাপুর যাওয়ার পথে সাগরে বিধ্বস্ত হয়। নিহত হন ১৬২ জন।

ইন্দোনেশিয়ায় যে কয়টি এয়ারলাইনস অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে সেবা দেয় শ্রীবিজয়া তাদের একটি। প্রতিদিন গড়ে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক রুটে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় অর্ধশত ফ্লাইট পরিচালনা করে।

২০০৩ সালে শ্রীবিজয়ার যাত্রা শুরু। প্রথম দিকে জাকার্তাভিত্তিক শ্রীবিজয়া এয়ার গ্রুপ অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করতো।

বিমান পরিষেবায় প্রতিষ্ঠানটির এ পর্যন্ত দুর্ঘটনার বড় কোনো রেকর্ড নেই। ছোটখাটো মিলিয়ে চারটি দুর্ঘটনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির রেকর্ডে। ২০০৮ সালে তাদের পরিচালিত বোয়িং ৭৩৭-২০০ মডেলের একটি বিমান রানওয়েতে হাইড্রোলিক সমস্যার কারণে একজন কৃষককে ধাক্কা দেয়, পরে তিনি মারা যান।

সম্পর্কিত খবর
সব খবর
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | বাংলা৫২নিউজ.কম
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি এবং অপরাধ