20 January, 2021
শিরোনাম

বিয়ের কাজী হতে পারবেন না মুসলিম নারীরা: হাইকোর্ট

 10 Jan, 2021   31 বার দেখা হয়েছে

 নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট

বাংলাদেশের সামাজিক ও বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে কোনো মুসলিম নারী নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজী হতে পারবেন না মর্মে দেওয়া হাইকোর্টের রায় প্রকাশিত হয়েছে।

রবিবার নিশ্চিত করেন এ সংক্রান্ত রিটকারীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির।

দিনাজপুরের এক নারী নিকাহ রেজিস্ট্রার প্রার্থীর রিট আবেদন খারিজ করে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ এই রায়টি গত শনিবার হাতে পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

২০১৪ সালে দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়িয়ার পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে তিনজন মহিলার নাম প্রস্তাব করে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি। সুপারিশের এ বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ২০১৪ সালের ১৬  জুন আইন মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে তিন সদস্যের এই প্যানেল বাতিল করে জানায় বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে নারীদের দ্বারা নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। আইন মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত  চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন নিকাহ রেজিস্ট্রারের প্যানেলের এক নম্বর ক্রমিকে থাকা আয়েশা সিদ্দিকা।

 

শুনানি নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠি কেন বাতিল করা হবে না, এ মর্মে রুল জারি করে হাইকোর্ট। ২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রুল খারিজ করে রায় দেয় হাইকোর্ট। ফলে বাংলাদেশের সামাজিক ও বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে নারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে পারবে না বলে আইন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তটি বহাল থাকে।

আদালতে রিটকারীপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এস কে সাইফুজ্জামান। 

হাইকোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণের বরাত দিয়ে রিটকারীর আইনজীবী হুমায়ুন কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, মুসলিম বিবাহ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং এটি বেশির ভাগ সময় মসজিদে হয়। নারীরা মাসের একটি নির্দিষ্ট সময় ফিজিক্যাল ডিজেবল হন। তাই নারীদের পক্ষে এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা কঠিন এবং বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে নারীদের এই দায়িত্ব পালন করা সমীচীন হবে না। সুতরাং এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় যে মতামত দিয়েছিল সেটিই বহাল থাকল।

এ মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে জানিয়েছেন ‘ফাউন্ডেশন ফর ল’ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’র চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, সিডও সনদে স্বাক্ষর ও সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমাদের দেশে নারী-পুরুষের সমতার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে এখন সকল কর্মক্ষেত্রে নারীরা বিচরণ করছেন। তাই এ দায়িত্ব পালনও কঠিন কিছু নয়। আমরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতি) প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। আবেদনটি দ্রুত সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে তুলব।

সম্পর্কিত খবর
সব খবর
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | বাংলা৫২নিউজ.কম
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি এবং অপরাধ