05 March, 2021
শিরোনাম

নোয়াখালীর এক পাগল আমার পেছনে লাগছে: কাদের মির্জাকে নিক্সন চৌধুরী

 19 Jan, 2021   107 বার দেখা হয়েছে

 নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট

নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত মেয়র কাদের মির্জাকে ‘টোকাই মেয়র’ আখ্যায়িত করে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন) আসনের স্বতন্ত্র দলীয়  সাংসদ, যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেছেন ‘ওরে পাগলা তুমি যদি ওবায়দুল কাদেরের ভাই না হইতা তাহলে তুমি হইতা ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা’।

মঙ্গলবার বিকেলে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন সাংসদ নিক্সন চৌধুরী। এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি সড়কের ইট বিছানোর কাজ এবং ১শ টি কম্বল বিতরণ উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয় গাজীরটেক মোড় এলাকায়।

সাংসদ নিক্সন চৌধুরী বলেন, হঠাৎ গত দুই একদিনের মধ্যে নোয়াখালীর এক পাগল আমার পেছনে লাগছে। আমি এই পাগলকে চিনিও না। পাগল প্রতিদিন আমার বিরুদ্ধে বক্তৃতা দিচ্ছে। এখন শুনি, তিনি নাকি মেয়র হইছেন, আমাদের এক বড় নেতার ভাই। উনি বক্তৃতা দিয়া বলেন, সব এমপি নাকি মদ খান। তিন শ এমপি মদ খায়।

সাংসদ হুঁশিয়ার উচ্চারণ করে বলেন, যত বড় নেতার ভাই আপনি হোন না কেন, আপনি সংসদ সদস্যদের নিয়ে আপত্তিকর কথা বলেছেন, আপনার বিচার সকল সংসদ সদস্য করবে।

 

সাংসদ বলেন, পাগলে বলে আমি নাকি আমার তিন থানায় ভোট ডাকাতি করে এমপি হইছি! আমি জনগণের ভোটে তাদের ভালোবাসা পেয়ে সাংসদ হয়েছি। এ তিন তানায় এত সুষ্ঠু ভোট হয়েছে। গত নির্বাচনে বাংলাদেশে আর কোথাও তেমনটি হয়নি।

সাংসদ বলেন, ওই ব্যাটা (মির্জা কাদেরকে) ফুল পাগল। এই ব্যাটার ফুল পাগল হওয়ার একটা কারণ আছে। বেচারার বউ তিন-চার বছর ধরে অন্যখানে চলে গেছিলেন, আবার তাকে নিয়ে এসেছেন। ব্যাটা পাগল হবে নাতো কি  হবে।

যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নিক্সন চৌধুরী বলেন, আমি নাকি আমার মামা শেখ সেলিমের ক্ষমতা দেখাই। আরে পাগল, তুমি যদি ওবায়দুল কাদেরের ভাই না হইতা তাহলে তুমি হইতা ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা। আমি মামার জোড় দেখাই না। জনগণই আমার ক্ষমতা। পাগল ঠিক করার ওষুধ আমার জনগণের জানা আছে। তারা কাজী জাফরউল্লাহ কে (আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সাংসদ) ঠিক করেছে।

সাংসদ নিক্সন বলেন, আপনার মত টোকাই মেয়র মোবাইলে ফেসবুকে কথা বলে ভাইরাল হইয়েন না। নিক্সন চৌধুরী তার মামা শেখ সেলিমের শক্তিতে চলে না। তার নাম নেওয়ার আগে অজু কইরা নিয়েন। পাগল ঠিক করার ওষুধ জনগণের জানা আছে। বড় পাগল ঠিক হইছে আর আপনি তো ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা।

নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের মামলা করেছে, মেয়র কাদের মির্জার এ বক্তব্য সম্পর্কে সাংসদ নিক্সন বলেন, আমি মামলা খাইছি বইলা ভয় পাই না। আমার নামে এক শ মামলা হলেও আমি ভয় পাই না। মামলা না হইলে নেতা হওয়া যায় না। আরে আমি তো চুরি করার জন্য মামলা খাই নাই। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মামলা খাইছি।

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে নিজের পাশের লোককে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাংসদ বলেন, ইউপি নির্বাচনে যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিন, যে আপনাদের পাশে থাকবে। যে আপনাদের কথা আমার কাছে পৌঁছে দিতে পারবে তাকে ভোট দিন। কিন্তু সরকারি অফিসারদের দালালদের ভোট দেবেন না।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজাদ খান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাউসার হোসেন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আলী মোল্লা, চর অযোধ্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এসএম ফরহাদ প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, পৌরসভার নির্বাচনে প্রচার কাজ চলা অবস্থায় গত ১৩ জানুয়ারি এক নির্বাচনী সভায় নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী কাদের মির্জা সাংসদ নিক্সনকে জড়িয়ে একটি বক্তব্য দেন। যা পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। 

ওই বক্তব্যে কাদের মির্জা অভিযোগ করেন, সাংসদ নিক্সন তাকে চুনোপুঁটি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এর জবাবে কাদের মির্জা বলেন, নিক্সন চৌধুরী সাহেব আপনি বলেছেন চুনুপুটিদের কথা কে শোনে। নিক্সনকে জিগাই, আপনার বয়স কত? আমার রাজনৈতিক বয়স আপনার বয়সের চেয়ে বেশি। আপনি ত্যাগী নেতা কাজী জাফরউল্লাহকে হারাইয়া নির্বাচিত হয়েছেন ভোট চুরি করে। রাতে কী করেন এমপিরা। মদ ও নারী নিয়ে থাকেন। আর পুলিশ আপনাদের স্যালুট দেয়।

এ বক্তব্যের জবাবে গত রোববার ভাঙ্গায় সাংসদ নিক্সন এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কাদের মির্জাকে পাগল আখ্যায়িত করে তাকে বাইরে না রেখে পাবনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়ে বলেন, পাগলকে আটকান। না হলে গণধোলাই খাবে।

এর জবাবে কাদের মির্জা সাংবাদিকদের বলেন,  সে (নিক্সন) তো দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। জাফর উল্লাহ সাহেবের মতো ভালো লোকের বিরুদ্ধে ভোট করেছেন এবং অনিয়ম করে জিতেছেন।

তিনি বলেন, আমাকে গণধোলাই দিতে পারলে দিক। আমি শেখ সেলিমকে অনুরোধ করেছি তাকে সামাল দেওয়ার জন্য।

সম্পর্কিত খবর
সব খবর
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | বাংলা৫২নিউজ.কম
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি এবং অপরাধ