17 June, 2021
শিরোনাম

বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য তাঁতের শাড়ি

 19 Feb, 2021   173 বার দেখা হয়েছে

 নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট

 সানজিদা ওসমান:তাঁত শিল্প ও তাঁত শাড়ি বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য হলেও দেশের মাত্র কয়েকটি জেলাতেই এই শিল্পর চর্চা করে যাচ্ছেন তাঁতীরা। হতাশা কিংবা অর্থনৈতিক ভাবে টিকে থাকার লড়াই তাদের উপভোগ করতে দিচ্ছে না তাদের পূর্বপুরুষদের দাপিয়ে বেড়ানো এই শিল্পকে। আর এই হতাশায় ভারাক্রান্ত হতে হতে মাত্র কয়েকটি জেলাতেই হয় তাঁতশিল্প চর্চা, তাঁতের শাড়ির উৎপাদন। সেই জেলা গুলো নিয়েই লিখব আজকে।

শেরপুর - জামদানী শাড়ির জন্য বেশ পরিচিত হলেও জানেন কি, শেরপুরে আদিবাসীদের তৈরীকৃত আলাদা তাঁতের শাড়ি আছে? নাম তার "কোচনি শাড়ি"।শেরপুরের আদিবাসী দের ৯০% কোচ। খটখতি তাঁতে এই কোচ নারীরা ৮-১০ দিন সময় নিয়ে তৈরী করে "কোচনি শাড়ি"। এই শাড়ির বিশেষত্ব কি? সাধারণত শাড়ি হয় ১২/১৩.৫ হাত। কখনও কখনও ১৪ হাত। এই কোচনি শাড়ি হয় ৫ হাত। দুটি শাড়ি মিলিয়ে পড়া হয় পোশাক হিসেবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া - তাঁত শিল্প একসময় এই জেলায় ওতপ্রোতভাবে মিশে থাকলেও এখন এখানে সিজনাল তাঁত চর্চা হয়। সাধারণত বর্ষাকালে অন্যান্য কাজের সুযোগ কম থাকে বলে এই অঞ্চলের শ্রমিকরা তাঁত শাড়ি তৈরি করে। বছরের অন্যান্য সময় ব্যস্ত থাকে অন্য উপায়ে জীবিকার্জনে।

দিনাজপুর আর টাঙ্গাইলের কথা আলাদা করে বলছি না। কারণ তাঁত শাড়ি বলতে আমরা সবাই কম বেশি এই ২ জেলাকে চিনি।

সিলেট - সিলেটি ওয়েভ পোস্টে লিখেছিলাম সিলেটি তাঁত শিল্পের কথা। সিলেটি তাঁত শাড়ি একদম আলাদা করে চেনা যায় এর পাড় এবং ডিজাইনের জন্য। মনিপুরী বা জুম শাড়ি বললেই মাথায় আসে সিলেটের কথা।

কক্সবাজার - এ জেলার রাখাইনগোষ্ঠীতেও হয় আদিবাসী তাঁত শাড়ির চর্চা। তবে এই শিল্প এখন মায়ানমার থেকে আসা কাপড় বা "বার্মিজ পোশাকের" দৌরাত্ম্যে দিন দিন নেই হয়ে যাচ্ছে।

তাঁত শাড়ি সেই মুঘল আমল থেকে বাঙালির জীবনে মিশে আছে। তবুও আমাদের অনেকের কাছেই নেই এর "বিশেষ" আবেদন। বিশেষ দিন, বিশেষ উপলক্ষ্যে তাদের চাই ভারতীয় জবরজং শাড়ি, হিন্দি সিরিয়ালের সর্বগুণসম্পন্ন বউমাদের অনুকরণে শাড়ি।

সম্পর্কিত খবর
সব খবর
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | বাংলা৫২নিউজ.কম
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি এবং অপরাধ