13 April, 2021
শিরোনাম

ইসলামের জন্য বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা যা করছেন তা অন্য কেউ করতে পারেনি

 07 Apr, 2021   36 বার দেখা হয়েছে

 নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট

ওমর ফারুক শাওন: আলহামদুলিল্লাহ। মহান আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া বঙ্গবন্ধুর মতো একজন অসাধারণ নেতা আমরা পেয়েছি। স্বাধীন সোনার বাংলাদেশের স্থপতি, একটি নতুন মানচিত্রের অমর রূপকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ছিলেন উদার চেতনার অধিকারী একজন খাঁটি ঈমানদার মুসলমান এবং দেশে ইসলামের প্রকৃত পরিচর্যাকারী। বঙ্গবন্ধু কখনো ইসলামকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেননি। বাংলাদেশকে সব ধর্মের মানুষের জন্য শান্তির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সচেষ্ট ছিলেন। পাকিস্তান আমলে হজযাত্রীদের জন্য কোনো সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা ছিল না। বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে প্রথম হজযাত্রীদের জন্য সরকারি তহবিল থেকে অনুদানের ব্যবস্থা করেন এবং হজ ভ্রমণ ভ্যাট বাতিল করেন। ফলে হজ পালনকারীদের আর্থিক সাশ্রয় হয়। বঙ্গবন্ধু শাহাদত লাভের পর যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারা কথায় কথায় নিজেদের ইসলামের সেবক দাবি করলেও তাদের আমলে সরকারি অনুদান বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামের যথাযথ উন্নয়ন করে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় কর্মকান্ডকে যথাযোগ্য মর্যাদায় আসীন করেছেন। ইসলাম ধর্মের প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের জন্য মুসলিম সম্প্রদায়কে উৎসাহী করার কৃতিত্ব সম্পূর্ণ তাঁর। কোন ধর্ম উগ্রবাদ পছন্দ করেননা। প্রত্যেক ধর্মে মানুষের কল্যাণের কথা বলে, শান্তির বাণী শোনায় ও মানব ধর্মই মূল। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ইমান ঠিক রেখে ধর্মকর্ম করতে হবে। কিন্তু কতিপয় মহল ধর্মের অপব্যবহার করছে। তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। উপরন্তু দেশের মধ্যে ধর্মীয় উগ্রবাদ, জঙ্গিপনা, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলের সাফল্যও তাঁর সরকারের বড় অবদান। আওয়ামিলীগ সরকার সর্বদাই এই বাংলাকে একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়ে তুলতে কাজ করে থাকে। তাই বলে আওয়ামীলীগ কখনোই ইসলাম বিদ্বেষী নয়। বর্তমান সরকার ইসলামের জন্য যা করছে তা ধর্ম সমর্থন করে। ধার্মিক মানুষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরআগে একটি ইসলামিক দেশে বিগত রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী যে কাজগুলো করেনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই কাজগুলো করেছেন। ইসলামের প্রচার ও প্রসারে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা ইতিহাসে চিরদিন লেখা থাকবে। বঙ্গবন্ধুর সাড়ে ৩ বছর এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ইসলামের খেদমতে যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে পৃথিবীতে তার দৃষ্টান্ত বিরল। তিনি যেমন একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের মহান স্থপতি, তেমনি বাংলাদেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ইসলামের প্রচার-প্রসারের স্থপতিও তিনি। করোনাকালীন মসজিদের ঈমাম ও মোয়াজ্জিনদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার। বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন এখন সরকারি অর্থে পরিচালিত অন্যতম একটি বৃহৎ সংস্থা হিসেবে বিশ্বনন্দিত। এ প্রতিষ্ঠান থেকে এ যাবৎ পবিত্র কুরআনের বাংলা তরজমা, তাফসির, হাদিস গ্রন্থের অনুবাদ, রাসূল (সা.)-এর জীবন ও কর্মের ওপর রচিত ও অনূদিত গ্রন্থ, ইসলামের ইতিহাস, ইসলামী আইন ও দর্শন, ইসলামী অর্থনীতি, সমাজনীতি, সাহাবী ও মনীষীগণের জীবনী ইত্যাদি নানা বিষয়ে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়সহ সারাদেশে ৬৪টি জেলা কার্যালয়, আর্তমানবতার সেবায় ২৮টি ইসলামিক মিশন, ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির মাধ্যমে নানামুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দিকনির্দেশনা ও পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় সিরাত মজলিশ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়। সিরাত মজলিশ ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে রবিউল আউয়াল মাসে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম বৃহত্তর আঙ্গিকে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল উদযাপনের কর্মসূচি গ্রহণ করে। সরকার প্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধু বায়তুল মোকাররম মসজিদ চত্বরে মাহফিলের শুভ উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ইসলামের জন্য যা করছে তা অন্য কেউ করতে পারেনি। দেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা একজন মুসলমান এবং একজন ধার্মিক মানুষও বটে। ইসলামের প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সুযোগ্য কন্যা কওমি জননী জননেত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তকারী অবদানের কথা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। -লেখক: ওমর ফারুক শাওন

সম্পর্কিত খবর
সব খবর
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | বাংলা৫২নিউজ.কম
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি এবং অপরাধ