26 November, 2020
শিরোনাম

তরুন প্রজন্মের রাজনীতির আইডল সৈয়দ মিজানুর রহমান

 29 Oct, 2020   192 বার দেখা হয়েছে

 নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট

ভালোবাসা থেকে জানার ইচ্ছা কিংবা কৌতুহল যেটাই বলি- ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসের প্রারম্ভ থেকে বর্তমান অবদী অসংখ্য ছাত্রনেতার নাম শুনেছি এবং তাদের সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণ জানার চেষ্টা করেছি। আমি যেহেতু, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ এর একজন ক্ষুদ্র কর্মী। তাই ঐতিহ্যবাহী মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ এর অতীত ইতিহাস এবং মহানগর ছাত্রলীগে যারা দীর্ঘ সময়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদেরকে নিয়ে কিছুটা জানার চেষ্টা করেছি।

মহানগর ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আমার হাতেখড়ি যে মানুষটাকে দিয়ে আমি তাকে নিয়েই কিছু লিখতেছি- ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল বিএনপি জামাতের শাসনামল- সেই সময়কালীন বিএনপি জামাত জালাও, পোড়াও, অগ্নি, সন্ত্রাস, হত্যাকান্ড, অস্ত্রবাজি ও হাওয়া ভবনের প্রতিষ্টা করে সারাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গণে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে। সেসময়ে বিএনপি জামাতের সন্ত্রাসের রাজনীতির ভয়াবহতা তখনকার সময়ের জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো পড়লেই জানতে পারবেন। এমন কোন দিন ছিলোনা যেদিন অপহরণ, খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, রাহাজানি কিংবা চাঁদাবাজি হইনি। মানুষ আতঙ্কে পরিবার নিয়ে রাস্তায় বের হতো না।

সাধারণ খেটে খাওয়া দিনমজুর, গার্মেন্টস কর্মী, রিক্সাচালক থেকে শুরু করে মধ্যস্তর ও উচ্চস্তরের কোন চাকুরিজীবি কিংবা ব্যাবসায়ী রেহায় পেতো না বিএনপি জামাতের ছাত্রদল, যুবদলের ও শিবিরের কেডার বাহিনীর হাত থেকে। সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছিলো সারাদেশ। সেই সময়ে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের উপরে অমানবিক অকথ্য নির্যাতন করা হতো। মিছিল, মিটিং, সমাবেশ, ব্যানার, ফেস্টুন সব কিছুতেই বাধা প্রদান করা হতো।

এক কথায় সেই সময়ে স্রোতের পুরো বিপরিতে গিয়ে রাজনীতি করতে হয়েছে। তখন বৃহত্তর তেজগাঁও এর অবস্থা আরো ভয়াবহ ছিলো। ছাত্রদলের গুন্ডাদের পিস্তলের গুলির শব্দে ঘুম ভাঙতো আবার গুলির শব্দ শুনে রাতে ঘুমাতে হতো। তখনকার সময়ে রাজপথে থেকে অকথ্য নির্যাতন উপেক্ষা করে জননেত্রী শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসাবে দ্বায়িক্ত পালন করেছিলেন এই মানুষটি। সেই বিজয় সরনী সিগন্যাল থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর পর্যন্ত কর্মীদের নিয়ে "জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু" স্লোগান দিয়ে বিএনপি জামাতের বিপক্ষে রাজপথে লড়ে গেছেন এই মানুষটি।

বৃহত্তর তেজগাঁও অঞ্চল ছাত্রলীগ এর সকল সাংগঠনিক কার্যক্রমে অগ্র সৈনিক হিসাবে দ্বায়িক্ত পালন করেছেন দীর্ঘদিন। তখন যারা ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছেন তারা নিশ্চই অবগত আছেন যে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় এমন মনোভাব থাকতো যে আজকে আর বাসায় নাও ফিরতে পারি। হয়তো পরিবারের সাথে এটাই শেষ দেখা! অনেকের বাসাই ছিলো না বাস্তুহারা জীবন যাপন করেছেন ।

যাদের বাসা ছিলো যদিও কিন্তু, বাসায় একবেলা পরিবারের সাথে খেতে পারেনি। এমন অনিশ্চয়িতার সত্তেও তিনি বিন্দুমাত্র দমে যায়নি, কখনো নিরাশ হয়নি, কখনো পিছু হটেনি। রাজপথে সব সময় অগ্রসেনার ভূমিকায় অবতীর্ণ ছিলেন। বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের শোষন নিপীড়নে ২০০৩ সালের ১৪ আগস্ট রাতে তেঁজগাও থেকে গ্রেফতারও হয়েছিলেন তিনি। বিএনপি জামাত শাসনামলের অবসান- ২০০৬ সালের শেষভাগে বিএনপি জামাত জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা-হানাহানির অবসান ঘটে।

বিএনপি জামাত জোট সরকারের একতরফা সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জারি হয় জরুরি অবস্থা। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আবরণে গঠিত হয় সেনা নিয়ন্ত্রিত অন্তবর্তীকালীন সরকার।

দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে পরবর্তীতে এটিকে ওয়ান ইলেভেন হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। ওয়ান ইলেভেনের সময় রাজপথে পুলিশ সেনাবাহিনীর নির্মমতার স্বীকার হওয়া ছাত্রনেতাদের মধ্য এই মানুষটি অন্যতম। সে সময়ে আওয়ামীলীগের জাতীয় নেতৃবৃন্দদের সাথে অগ্রভাগে থেকে সংবিধান বহিভূর্ত সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে কর্মীদের নিয়ে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। মূলত রাজপথেই উনার সৃষ্টি। রাজপথকে নিজের পরিবারের থেকেও বেশী আপন করে নিয়েছিলেন।

তাইতো পরবর্তীতে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে প্রিয় নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা সন্তুষ্ট হয়ে তাকে আমানত স্বরূপ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতির দ্বায়িক্তভার তুলে দিয়েছিলেন। আস্থার সাথে দ্বায়িক্ত পালন করে গেছেন দীর্ঘ সময়। বিনিময়ে পেয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সবচেয়ে কর্মীবান্ধব, জনপ্রিয় ও সফল ছাত্রনেতার খেতাব। আপনার কর্মগুন আপনাকে সফলতার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। এই মানুষটা- আমার ছাত্র রাজনীতির আইডল, আমার দিক নির্দেশক, আমার অভিভাবক- সৈয়দ মিজানুর রহমান । #একনজরে_সৈয়দ_মিজানুর_রহমান_ভাইয়ের #ছাত্র_রাজনীতির_ক্যারিয়ার_দেখে_নিনঃ *সাবেক সদস্য, ২৬ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ(২০০০-২০০২) *সাবেক প্রচার সম্পাদক, তেঁজগাও থানা ছাত্রলীগ (২০০২-২০০৫) *সাবেক সদস্য, আহবায়ক কমিটি, তেঁজগাও থানা ছাত্রলীগ (২০০৫-২০১১) *সাবেক আহবায়ক, ২৬ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ (২০০৬-২০১১) *সাবেক সভাপতি, ২৬ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ (২০১১-১০১৩) *সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, তেঁজগাও থানা ছাত্রলীগ (২০১১-২০১৪) *সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ (২০১১-২০১৫) *সাবেক সফল সভাপতি, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ (২০১৫-২০১৮) সৈয়দ মিজানুর রহমান ঢাকার রাজপথের একটি অনবদ্য সোনালী অধ্যায়। সুদীর্ঘ ২১ বছরের ছাত্র রাজনীতির ক্যারিয়ারে তিনি সফল সেটা তার সুবিশাল অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীর সাম্রাজ্য দেখেই বুঝা যায়।

গত দুই দশকে ঢাকার সংসদ ও স্থানীয় নির্বাচনে জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে তার ভূমিকা ছিলো অসামান্য। প্রায় দীর্ঘ দুই যুগের ছাত্র রাজনীতির ক্যারিয়ারে আপনার মাঝে কখনো অহংকারী মনোভাব পরিলক্ষিত হইনি। আপনার তুলনা আপনি নিজেই। স্নেহ, ভালোবাসা ও শাসন দিয়ে জয় করেছেন আমার মতো আপনার অসংখ্য কর্মীদের ভালোবাসা। ছাত্রলীগের সোনালী অধ্যায়ের সফল সমাপ্তির পর সময় এসেছে যুবনেতা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্টা করার।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছাত্রলীগের ন্যায় যুবলীগেও আপনি সর্বোচ্চ সফলতা অর্জন করবেন। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগ আপনার হাত ধরে মডেল ইউনিটে রূপান্তরিত হবে ইনশাআল্লাহ।

"জয় বাংলা" "জয় বঙ্গবন্ধু"

 

 লেখক :বিপ্লব হাসান তারেক স্কুল ও ছাত্র বিষয়ক উপ সম্পাদক,

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ।

 

সম্পর্কিত খবর
সব খবর
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | বাংলা৫২নিউজ.কম
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি এবং অপরাধ