02 December, 2020
শিরোনাম

করোনায় বন্ধের পথে ইউরোপের ২শ’ বিমানবন্দর

 30 Oct, 2020   59 বার দেখা হয়েছে

 নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট

করোনা মহামারি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে ইউরোপের ২শ' বিমানবন্দরের। ঝুঁকির মুখে পড়বে ২ লাখ ৮০ হাজার মানুষের চাকরি। এমন পূর্বাভাস দিয়েছে ইউরোপের এয়ারপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন। লোকসান হতে পারে ইউরোপের প্রায় ১৫শ' কোটি ডলার। 

মহামারিতে বিপর্যস্ত সারাবিশ্বের পর্যটন খাত। বেহাল দশা বিমানবন্দরগুলোর। আন্তর্জাতিক আকাশ পরিবহন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় সর্বোচ্চ লোকসানে পড়েছে এই খাত। কোন বিমানবন্দর অলস পড়ে থাকা বিমান আর বিমানবন্দরকে রেস্তোরাঁর আদলে সাজিয়েছে, কোনটা আবার স্থানীয় গণ্ডিতে ভ্রমণের জন্য বিমান ব্যবহার করছেন। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে কোনভাবেই আগের অবস্থায় ফেরা সম্ভব নয় বলে মনে করছে ইউরোপের এয়ারলাইন্সগুলো।

এয়ারপোর্টস কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনাল ইউরোপ বলছে, মহামারিতে বন্ধ হয়ে যেতে পারে ইউরোপের ১৯৩টি বিমানবন্দর। সংস্থাটি বলছে, এতে বেকার হয়ে পড়তে পারে ২ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ। ক্ষতি হতে পারে পুরো ইউরোপের ১ হাজার ৪৭০ কোটি ডলার।

ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে। তবে বৃহত্তম এয়ারলাইন্সগুলোও পড়েছে বিপাকে। শুধু সেপ্টেম্বরে যাত্রী চলাচল কমেছে ৭৩ শতাংশ।  চলতি বছরই যাত্রী সংখ্যা কমেছে ১২৯ কোটি। 

মহামারির মধ্যে নতুন করে ১ হাজার ৬শ' কোটি ডলার ঋণ হয়েছে ইউরোপের বৃহত্তম ২০টি এয়ারপোর্টের। যা যে কোন বছরের মোট আয়ের ৬০ শতাংশ। টানা ৮ মাসের সংকটের মধ্যে পকেট থেকে অর্থ ব্যয় করে বিমানবন্দর খুলে রাখতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

এ মুহূর্তে বিমানবন্দরগুলোর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা না করে অনেক বেশি টেস্টের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি বিমানবন্দরগুলোতে আর্থিক সহায়তা দিতে ইউরোপের নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। 

এদিকে,  ২০২১ সাল নাগাদ আরও ৭ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং। করোনা মহামারির আগে কোম্পানির মোট কর্মী সংখ্যা ছিলো ১ লাখ ৬০ হাজার। করোনা পরবর্তী সময়ে তা ১ লাখ ৩০ হাজারে নামিয়ে আনতে চায় বোয়িং। করোনা আর নিরাপত্তাজনিত কারণে চলতি বছর বোয়িংয়ের সেভেন থ্রি সেভেন ম্যাক্স মডেলের বিমানের অর্ডারও কমেছে।

বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বোয়িংয়ের লোকসান হয়েছে ৪৬ কোটি ডলার। গেলো বছরের একই সময়ে মুনাফা হয়েছিলো ১২০ কোটি ডলার। প্রথম ৯ মাসে আয় কমেছে ৪ হাজার ২শ' কোটি ডলার।

২০২৩ সালের আগে আকাশে ভ্রমণ ব্যবস্থা আগের অবস্থায় ফিরবে না বলে মনে করে বোয়িং। তবে বোয়িংয়ের প্রত্যাশা, চলতি বছরই আকাশে চলাচলের অনুমতি পাবে সেভেন থ্রি সেভেন ম্যাক্স।

সম্পর্কিত খবর
সব খবর
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | বাংলা৫২নিউজ.কম
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি এবং অপরাধ