ঢাকা , বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি পুরোপুরি নেতিবাচক নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী সোনারগাঁয়ে জামায়াত কর্মীর বাসায় হামলা ও ভাঙচুর, আহত ৩ সিরাজদিখানে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ড দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বিএভিএস ও চট্টগ্রাম এলজিইডি কার্যালয়ে দুদকের অভিযান তাহিরপুর উপজেলা নির্বাচন চেয়ারম্যান পদে মিটু রঞ্জন পালের প্রার্থীতা ঘোষণা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে হুইপ হলেন শরীয়তপুর-৩ আসনের এমপি মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হতে চান শিল্পী রেজা, তৃণমূল থেকে বাড়ছে সমর্থন হাজারো যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা, খোঁজ নিলেন তারেক রহমান ইরানে ৭ দিনের সরকারি ছুটি ও ৪০ দিনের শোক ঘোষণা খামেনি নিহত হয়েছেন, নিশ্চিত করল ইরানি সংবাদমাধ্যম

ক্ষুদ্রঋণ মডেল জানতে বাংলাদেশ সফরে আগ্রহ জিবুতির প্রধানমন্ত্রীর

সাংবাদিক

বিশ্ব খাদ্য ফোরামের ফাঁকে ইতালির রোমে অবস্থিত জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সদর দপ্তরে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জিবুতির প্রধানমন্ত্রী আব্দুলকাদির কামিল মোহাম্মদ। সোমবার (১৩ অক্টোবর) এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এর মধ্যে ছিল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জিবুতিতে বাংলাদেশের সফল ক্ষুদ্রঋণ মডেলের অনুসরণ, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি এবং রোহিঙ্গা সংকট।

বৈঠকে জিবুতির প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ, অধ্যাপক ইউনূসের ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁকে জিবুতিতে একটি সুপরিচিত নাম বলে অভিহিত করেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটি পরিদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানান। জিবুতিতে ক্ষুদ্রঋণ কৌশল গ্রহণে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে জিবুতির নেতা বলেন, ‘ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ে আমাদের আপনার পরামর্শ প্রয়োজন।’

জবাবে অধ্যাপক ইউনূস এই আগ্রহকে স্বাগত জানান এবং জিবুতিকে একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে পাঠানোর পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশে এসে এখানকার ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সরাসরি অভিজ্ঞতা নিতে পারবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো সারা বছর প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে, যা পরিদর্শক কর্মকর্তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।

অধ্যাপক ইউনূস দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিশাল সম্ভাবনার ওপর জোর দেন। তিনি প্রস্তাব করেন যে, জিবুতি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক ও ওষুধ আমদানি করতে পারে।

এই বৈঠকে জিবুতির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক মন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। তিনি ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে পরামর্শ চান।

বাংলাদেশের পক্ষে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:৫০:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
৭১৪ Time View

ক্ষুদ্রঋণ মডেল জানতে বাংলাদেশ সফরে আগ্রহ জিবুতির প্রধানমন্ত্রীর

আপডেটের সময় : ০৪:৫০:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

বিশ্ব খাদ্য ফোরামের ফাঁকে ইতালির রোমে অবস্থিত জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সদর দপ্তরে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জিবুতির প্রধানমন্ত্রী আব্দুলকাদির কামিল মোহাম্মদ। সোমবার (১৩ অক্টোবর) এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এর মধ্যে ছিল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জিবুতিতে বাংলাদেশের সফল ক্ষুদ্রঋণ মডেলের অনুসরণ, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি এবং রোহিঙ্গা সংকট।

বৈঠকে জিবুতির প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ, অধ্যাপক ইউনূসের ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁকে জিবুতিতে একটি সুপরিচিত নাম বলে অভিহিত করেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটি পরিদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানান। জিবুতিতে ক্ষুদ্রঋণ কৌশল গ্রহণে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে জিবুতির নেতা বলেন, ‘ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ে আমাদের আপনার পরামর্শ প্রয়োজন।’

জবাবে অধ্যাপক ইউনূস এই আগ্রহকে স্বাগত জানান এবং জিবুতিকে একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে পাঠানোর পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশে এসে এখানকার ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সরাসরি অভিজ্ঞতা নিতে পারবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো সারা বছর প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে, যা পরিদর্শক কর্মকর্তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।

অধ্যাপক ইউনূস দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিশাল সম্ভাবনার ওপর জোর দেন। তিনি প্রস্তাব করেন যে, জিবুতি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক ও ওষুধ আমদানি করতে পারে।

এই বৈঠকে জিবুতির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক মন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। তিনি ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে পরামর্শ চান।

বাংলাদেশের পক্ষে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম উপস্থিত ছিলেন।