চাটমোহরে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে জমি দখল: প্রতিবাদ করায় বড় ভাইয়ের পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ
পাবনার চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের সজনাই গ্রামে পৈতৃক জমি দখলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ১৫ তারিখে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা সত্ত্বেও আইনকে তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা এবং প্রতিবাদ করায় বড় ভাই ও তার সন্তানদের ওপর অতর্কিত হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ঘটনার নতুন বিবরণ:
ভুক্তভোগী হানেফ সরদার জানান, গত ১৫ তারিখে তিনি চাটমোহর থানায় আজিত সরদারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু প্রশাসনের পদক্ষেপ চলাকালীনই গত ২২ তারিখ আজিত সরদার পুনরায় জোরপূর্বক ঘর তৈরির কাজ শুরু করেন। হানেফ সরদার এতে বাধা দিতে গেলে আজিত সরদার চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়ে বলেন, “আমি ঘর তুলবো, তুই পারলে ঠেকা।” এই সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
সন্তানদের ওপর হামলা:
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হানেফ সরদার তার বড় ছেলে রেজাউলকে বাড়িতে ডেকে পাঠান। অভিযোগ উঠেছে, রেজাউল বাড়িতে আসার পথে আজিত সরদারের স্ত্রী ও মেয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরবর্তীতে ছোট ভাই রাসেল এই ঘটনার বিষয়ে আজিত সরদারের সাথে কথা বলতে গেলে তাকেও লাঠিসোটা নিয়ে মারধর করতে আসে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে মহড়া:
ভুক্তভোগী পরিবার আরও জানায়, আজিত সরদার তার শ্বশুরবাড়িতে খবর দিয়ে তার শালা মোঃ আনোয়ার (ডেন্টাল ডাক্তার), মোঃ রেজাউল এবং সুজনকে ডেকে আনেন। তারা প্রায় ৩০ জন ভাড়াটে লোক নিয়ে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হানেফ সরদারের বাড়িতে চড়াও হয় এবং তাকেসহ তার দুই ছেলেকে মারধরের চেষ্টা করে। এমতাবস্থায় প্রাণ রক্ষার্থে তারা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী পরিবার:
বর্তমানে হানেফ সরদার ও তার দুই ছেলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হানেফ সরদার বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাই আমরা শুরু থেকেই প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। কিন্তু তারা যেভাবে বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে আমাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, তাতে আমরা জীবনের ঝুঁকিতে আছি।”
তারা অবিলম্বে এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।






















