ঢাকা , রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বান্দরবানে গ্রাউস ও ওয়ার্ড ভিশন কর্তৃক দরিদ্র পরিবারের উন্নয়নে বিকাশ এর মাধ্যমে অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে সদর ইউএনও আড়াইহাজারে স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত ইরানে টানা কয়েক সপ্তাহ স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র বিকালে বসছে সংসদ অধিবেশন ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ইং উপলক্ষে রিয়াদে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সৌদি প্রবাসীদের মাতালো এনটিভ দর্শক ও সাংস্কৃতিক ফোরাম স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী আর নেই বর্তমান পোশাকে পুলিশ সদস্যরা সন্তুষ্ট নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবজনক অধ্যায় স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী কোটালীপাড়ায় চিকিৎসাধীন যুবকের ওপর হামলা, অবস্থা আশঙ্কাজনক আমিন বাজার সাদুল্যাপুর ভূমি অফিসে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: উপ-সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও হয়রানির গুরুতর অভিযোগ

বেগম রোকেয়া দিবস আজ

সাংবাদিক

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে বেগম রোকেয়ার বাস্তুভিটার প্রধান ফটক পার হয়ে সামনে বাঁ দিকে চোখে পড়ে কয়েকটি ভবন। কয়েক কদম এগিয়ে গেলেই ‘আঁতুড়ঘর’। যেখানে জন্ম নিয়েছিলেন নারী জাগরণের অগ্রদূত, বাঙালি চিন্তাবিদ, প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২)।

বহুগুণে গুণান্বিতা, ক্ষণজন্মা মহীয়সী এই নারীর জন্ম ও মৃত্যু দিবস আজ ৯ ডিসেম্বর। বছরের পর বছর ধরে পায়রাবন্দের উন্নয়নের জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র ঘিরে কয়েকটি ভবন হলেও সেগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

গতিশীল জীবনযাত্রায় নারী এখন পুরুষের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। শিক্ষাক্ষেত্র থেকে কর্মক্ষেত্রে পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলছেন নারীরা। এমনটাই চেয়েছিলেন বেগম রোকেয়া। তবে সমাজবিজ্ঞানী ও নারী নেত্রীদের ভাষ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা নিজ নিজ যোগ্যতায় এগিয়ে গেলেও নারী সুরক্ষায় পিছিয়ে আছে। ঘরে-বাইরে নারীদের নিরাপত্তা নেই। নারীদের ওপর নেমে আসছে নানা ধরনের নির্যাতন ও সহিংসতা। এমন পরিস্থিতিতে প্রতি বছরের মতো এবারও পালিত হচ্ছে বেগম রোকেয়া দিবস। ‘আমিই রোকেয়া’ শিরোনামে এবারও সরকারিভাবে দিবসটি পালিত হচ্ছে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে আজ সকাল পৌনে ৯টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া দিবস-২০২৫ উদযাপন হবে। অনুষ্ঠানে বেগম রোকেয়া পদক-২০২৫ প্রদান ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সভাপতিত্ব করবেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।

এ বছর নারী জাগরণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ চারজন নারী বেগম রোকেয়া পদক পাচ্ছেন। রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তাদের নাম চূড়ান্ত করা হয়। তারা হলেন নারী শিক্ষা (গবেষণা) ড. রুভানা রাকিব, নারী অধিকার (শ্রম অধিকার) কল্পনা আক্তার, মানবাধিকারে ড. নাবিলা ইদ্রিস এবং নারী জাগরণে (ক্রীড়া) রিতু পর্ণা চাকমা। দিবসটি উপলক্ষ্যে এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নারীমুক্তি ও মানবাধিকার নিয়ে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নারী সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে এসেছিলেন বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষ্যে তিনি এই মহীয়সী নারীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

এদিকে, পায়রাবন্দে বেগম রোকেয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত ডিগ্রি কলেজটি জাতীয়করণ হয়েছে। তার জন্মভূমিতে একটি ১০ শয্যার হাসপাতালও নির্মাণ হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় অবকাঠামো বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রটি নির্মাণের ২৪ বছরেও চালু হয়নি। এ নিয়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় মানুষের মাঝে। এলাকাবাসীর দাবি, বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রটি দ্রুত চালু করা হোক।

বেগম রোকেয়া পায়রাবন্দের একটি রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা জহির উদ্দিন সাবের চৌধুরী ছিলেন একজন জমিদার। ওই পরিবারে নারী শিক্ষা ছিল একেবারে নিষিদ্ধ। কিন্তু রোকেয়া ভাইয়ের সহযোগিতায় অতি গোপনে শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৮৯৮ সালে ১৬ বছর বয়সে ভাগলপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৯০৯ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর ভাগলপুরে একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে কলকাতায় স্থানান্তরিত হয় এবং বেগম রোকেয়া মেমোরিয়াল গার্লস হাইস্কুল নামে পরিচিতি লাভ করে। তার জীবন ও কাজ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে নারীবাদের ইতিহাসে একটি প্রধান অনুপ্রেরণা হিসাবে রয়ে গেছে। বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাংলা সাহিত্যে মুসলিম নারীদের জন্য বিশেষ অবদান রেখেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে : সুলতানার স্বপ্ন, অবরোধবাসিনী, পদ্মরাগ। তিনি নারী শিক্ষার প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

স্মৃতিকেন্দ্রটি চালু হবে কবে : বেগম রোকেয়ার জন্মভূমি পায়রাবন্দে ৩ একর ১৫ শতক জমির ওপর নির্মাণ হয়েছে বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র। ২০০১ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠার পর ২৪ বছরেও এর কার্যক্রম শুরু হয়নি। ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে এটি। যদিও এটাকে শিক্ষা ও সংস্কৃতির অন্যতম পাদপীঠ হিসাবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে মূল কার্যক্রম চালু হয়নি। পায়রাবন্দ স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল বলেন, শুধু অবকাঠামো দিয়ে কী হবে? বেগম রোকেয়ার জন্মভূমিতে প্রতিষ্ঠিত স্মৃতি কেন্দ্রটি চালু না হওয়ায় লজ্জাবোধ করছি। স্মৃতিকেন্দ্রের উপ-পরিচালক আবিদ করীম মুন্না বলেন, স্মৃতিকেন্দ্রের কার্যক্রম কবে চালু হবে জানি না। মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ বলেন, দিবসটি উপলক্ষ্যে ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। তবে স্মৃতিকেন্দ্রটি চালুর ব্যাপারে আমার কাছে কোনো নির্দেশনা নেই।

বেহাত ৫১ একর সম্পত্তি : ১৯৪০ সালের এসএ রেকর্ড অনুযায়ী বেগম রোকেয়া পরিবারের ৫১ একর ৪৬ শতক সম্পত্তি বেদখল হয়ে গেছে। বেগম রোকেয়ার বৈমাত্রেয় ভাই মছিহুজ্জামান সাবেরের মেয়ে রনজিনা সাবের (৭২) বলেন, রোকেয়া দিবস এলেই শুধু সংবাদকর্মীরা তার খোঁজখবর নিতে বাড়ি যান। সারা বছর আর খবর রাখেন না। তিনি বলেন, বেগম রোকেয়ার যেটি আঁতুড়ঘর, সেখানের ৩০ শতাংশ জমি আমাদের (রনজিনা) পৈতৃক সম্পত্তি। কিন্তু প্রশাসন সেখানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে। এটা তিনি কিছুতেই মানতে পারছেন না। তিনি বলেন, সরকার এটা অধিগ্রহণ করুক, অন্যথায় পরিবারকে ফেরত দিক। বেগম রোকেয়ার নামে ফাউন্ডেশন করার দাবি করে আসছেন রনজিনা। কিন্তু কাজ হয়নি। রনজিনা সাবের বেগম রোকেয়া মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। ২০১৩ সালে অবসরে যান। বর্তমানে স্বামী-সন্তান নিয়ে বাড়িতে বসবাস করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘রোকেয়ার নামে বিশ্ববিদ্যালয়, সেখানে ছেলের একটা চাকরির জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু কিছুতেই হয়নি। রোকেয়ার স্বজন যদি রোকেয়া ভার্সিটিতে চাকরি না পায়, তাহলে বেগম রোকেয়ার নাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুছে ফেলা হোক।’

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৩:৪১:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
৬৪১ Time View

বেগম রোকেয়া দিবস আজ

আপডেটের সময় : ০৩:৪১:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে বেগম রোকেয়ার বাস্তুভিটার প্রধান ফটক পার হয়ে সামনে বাঁ দিকে চোখে পড়ে কয়েকটি ভবন। কয়েক কদম এগিয়ে গেলেই ‘আঁতুড়ঘর’। যেখানে জন্ম নিয়েছিলেন নারী জাগরণের অগ্রদূত, বাঙালি চিন্তাবিদ, প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২)।

বহুগুণে গুণান্বিতা, ক্ষণজন্মা মহীয়সী এই নারীর জন্ম ও মৃত্যু দিবস আজ ৯ ডিসেম্বর। বছরের পর বছর ধরে পায়রাবন্দের উন্নয়নের জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র ঘিরে কয়েকটি ভবন হলেও সেগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

গতিশীল জীবনযাত্রায় নারী এখন পুরুষের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। শিক্ষাক্ষেত্র থেকে কর্মক্ষেত্রে পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলছেন নারীরা। এমনটাই চেয়েছিলেন বেগম রোকেয়া। তবে সমাজবিজ্ঞানী ও নারী নেত্রীদের ভাষ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা নিজ নিজ যোগ্যতায় এগিয়ে গেলেও নারী সুরক্ষায় পিছিয়ে আছে। ঘরে-বাইরে নারীদের নিরাপত্তা নেই। নারীদের ওপর নেমে আসছে নানা ধরনের নির্যাতন ও সহিংসতা। এমন পরিস্থিতিতে প্রতি বছরের মতো এবারও পালিত হচ্ছে বেগম রোকেয়া দিবস। ‘আমিই রোকেয়া’ শিরোনামে এবারও সরকারিভাবে দিবসটি পালিত হচ্ছে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে আজ সকাল পৌনে ৯টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া দিবস-২০২৫ উদযাপন হবে। অনুষ্ঠানে বেগম রোকেয়া পদক-২০২৫ প্রদান ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সভাপতিত্ব করবেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।

এ বছর নারী জাগরণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ চারজন নারী বেগম রোকেয়া পদক পাচ্ছেন। রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তাদের নাম চূড়ান্ত করা হয়। তারা হলেন নারী শিক্ষা (গবেষণা) ড. রুভানা রাকিব, নারী অধিকার (শ্রম অধিকার) কল্পনা আক্তার, মানবাধিকারে ড. নাবিলা ইদ্রিস এবং নারী জাগরণে (ক্রীড়া) রিতু পর্ণা চাকমা। দিবসটি উপলক্ষ্যে এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নারীমুক্তি ও মানবাধিকার নিয়ে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নারী সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে এসেছিলেন বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষ্যে তিনি এই মহীয়সী নারীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

এদিকে, পায়রাবন্দে বেগম রোকেয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত ডিগ্রি কলেজটি জাতীয়করণ হয়েছে। তার জন্মভূমিতে একটি ১০ শয্যার হাসপাতালও নির্মাণ হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় অবকাঠামো বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রটি নির্মাণের ২৪ বছরেও চালু হয়নি। এ নিয়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় মানুষের মাঝে। এলাকাবাসীর দাবি, বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রটি দ্রুত চালু করা হোক।

বেগম রোকেয়া পায়রাবন্দের একটি রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা জহির উদ্দিন সাবের চৌধুরী ছিলেন একজন জমিদার। ওই পরিবারে নারী শিক্ষা ছিল একেবারে নিষিদ্ধ। কিন্তু রোকেয়া ভাইয়ের সহযোগিতায় অতি গোপনে শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৮৯৮ সালে ১৬ বছর বয়সে ভাগলপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৯০৯ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর ভাগলপুরে একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে কলকাতায় স্থানান্তরিত হয় এবং বেগম রোকেয়া মেমোরিয়াল গার্লস হাইস্কুল নামে পরিচিতি লাভ করে। তার জীবন ও কাজ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে নারীবাদের ইতিহাসে একটি প্রধান অনুপ্রেরণা হিসাবে রয়ে গেছে। বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাংলা সাহিত্যে মুসলিম নারীদের জন্য বিশেষ অবদান রেখেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে : সুলতানার স্বপ্ন, অবরোধবাসিনী, পদ্মরাগ। তিনি নারী শিক্ষার প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

স্মৃতিকেন্দ্রটি চালু হবে কবে : বেগম রোকেয়ার জন্মভূমি পায়রাবন্দে ৩ একর ১৫ শতক জমির ওপর নির্মাণ হয়েছে বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র। ২০০১ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠার পর ২৪ বছরেও এর কার্যক্রম শুরু হয়নি। ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে এটি। যদিও এটাকে শিক্ষা ও সংস্কৃতির অন্যতম পাদপীঠ হিসাবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে মূল কার্যক্রম চালু হয়নি। পায়রাবন্দ স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল বলেন, শুধু অবকাঠামো দিয়ে কী হবে? বেগম রোকেয়ার জন্মভূমিতে প্রতিষ্ঠিত স্মৃতি কেন্দ্রটি চালু না হওয়ায় লজ্জাবোধ করছি। স্মৃতিকেন্দ্রের উপ-পরিচালক আবিদ করীম মুন্না বলেন, স্মৃতিকেন্দ্রের কার্যক্রম কবে চালু হবে জানি না। মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ বলেন, দিবসটি উপলক্ষ্যে ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। তবে স্মৃতিকেন্দ্রটি চালুর ব্যাপারে আমার কাছে কোনো নির্দেশনা নেই।

বেহাত ৫১ একর সম্পত্তি : ১৯৪০ সালের এসএ রেকর্ড অনুযায়ী বেগম রোকেয়া পরিবারের ৫১ একর ৪৬ শতক সম্পত্তি বেদখল হয়ে গেছে। বেগম রোকেয়ার বৈমাত্রেয় ভাই মছিহুজ্জামান সাবেরের মেয়ে রনজিনা সাবের (৭২) বলেন, রোকেয়া দিবস এলেই শুধু সংবাদকর্মীরা তার খোঁজখবর নিতে বাড়ি যান। সারা বছর আর খবর রাখেন না। তিনি বলেন, বেগম রোকেয়ার যেটি আঁতুড়ঘর, সেখানের ৩০ শতাংশ জমি আমাদের (রনজিনা) পৈতৃক সম্পত্তি। কিন্তু প্রশাসন সেখানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে। এটা তিনি কিছুতেই মানতে পারছেন না। তিনি বলেন, সরকার এটা অধিগ্রহণ করুক, অন্যথায় পরিবারকে ফেরত দিক। বেগম রোকেয়ার নামে ফাউন্ডেশন করার দাবি করে আসছেন রনজিনা। কিন্তু কাজ হয়নি। রনজিনা সাবের বেগম রোকেয়া মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। ২০১৩ সালে অবসরে যান। বর্তমানে স্বামী-সন্তান নিয়ে বাড়িতে বসবাস করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘রোকেয়ার নামে বিশ্ববিদ্যালয়, সেখানে ছেলের একটা চাকরির জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু কিছুতেই হয়নি। রোকেয়ার স্বজন যদি রোকেয়া ভার্সিটিতে চাকরি না পায়, তাহলে বেগম রোকেয়ার নাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুছে ফেলা হোক।’